ঢাকায় পা রাখার পরই কড়া ও স্পষ্ট বার্তা দিলেন বাংলাদেশের নতুন নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে তাঁর বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই বার্তার মূল লক্ষ্যই ছিল বাংলাদেশের সেনাবাহিনী এবং প্রশাসনিক কাঠামো। মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে সরাসরি জানিয়েছেন-গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রক্ষা,নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং সংবিধান মেনে চলার ওপর জোর দিতে বাংলাদেশকে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, কোনোভাবেই যেন সামরিক বা প্রশাসনিক শক্তি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব না ফেলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য কার্যত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্দেশেই একটি সতর্কবার্তা।
ঢাকায় সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধী আন্দোলন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। ঠিক এই আবহেই মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এমন বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ওয়াশিংটনের বার্তা একেবারে পরিষ্কার—বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া কোনো আপস নয়।ট্রাম্পের রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়, তবে মানবাধিকার লঙ্ঘন বা গণতন্ত্র থেকে বিচ্যুতি হলে তার ফল ভোগ করতে হবে সংশ্লিষ্ট মহলকে। প্রয়োজনে ভিসা নীতি ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের কথাও ইঙ্গিতে তুলে ধরা হয়।
এই বক্তব্যের পরপরই রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠছে—তবে কি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়তে চলেছে বাংলাদেশ? সেনাবাহিনীকে কেন এই মুহূর্তে এমন বার্তা দেওয়া হলো? অনেকে মনে করছেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকেই যুক্তরাষ্ট্র আগাম সতর্কতা দিতে চাইছে।
যদিও সরকারিভাবে এই মন্তব্যকে কূটনৈতিক রুটিন বক্তব্য বলেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে, তবুও বাস্তবে এর রাজনৈতিক প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা সময়ই বলবে। আপাতত ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রথম দিনের বার্তাই রাজনৈতিক মহলে ঝড় তুলেছে।আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে রয়েছে ভোটপর্ব। তার আগে, সেদেশের বিএনপি নেতা তারেক রহমান, জামায়েত আমিরের মতো বহু নেতার সঙ্গে সাক্ষাতে বসেছেন আমেরিকার দূতরা। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে পা রেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন চক্ষুশূল হয়ে উঠেছেন চিনের।সদ্য বাংলাদেশে আমেরিকার মাটি থেকে ছুটে এসেছিলেন মার্কিন মেজর জেনারেল ই ড্যারিন কক্স। তিনি গত ১৮ জানুয়ারি বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন। সেখানে ৬ দিন ধরে সফর করেছেন কক্স।মেজর জেনারেল কক্স ১৮তম থিয়েটার মেডিক্যাল কমান্ডের কমান্ডিং জেনারেল। তিনি ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের ঢাকায় বিভিন্ন বৈঠক করেছেন বলে খবর। এছাড়াও তিনি গিয়েছিলেন সিলেটে। যে এলাকার খুব কাছেই ভারতের উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলি। সিলেটে জালালাবাদ সেনানিবাস ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল পরিদর্শনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে যৌথ মহড়া এবং গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ বিনিময়ের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে। জানা গিয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেডিক্যাল ফোর্সের সঙ্গে চিকিৎসা খাতে অংশীদারত্ব জোরদার করতে কক্সের এই সফর।এদিকে, বাংলাদেশে আমেরিকার দূতাবাসের তরফে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড এবং ইউএস আর্মি প্যাসিফিকের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অংশীদারদের সক্ষমতা উন্নয়নের যে লক্ষ্য রয়েছে, তার অংশ হিসেবে মার্কিন জেনারেলের এই বাংলাদেশ সফর। বিভিন্ন রিপোর্টের দাবি, বাংলাদেশে কৌশলগত স্বাস্থ্য সহযোগিতার ক্ষেত্রে কক্সের এই সফর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। তবে ভোটের আগে বাংলাদেশের মাটিতে মার্কিন সেনার তাবড় অফিসারের সফর বেশ তাৎপর্যবাহী বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে আবার কিছুদিন আগে, চিনা দূত ইয়াও ওয়েনকে বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্প ঘিরে দেখিয়েছেন ইউনুসের উপদেষ্টা। সোমবারই এই সফর করেন চিনা প্রতিনিধিরা। উল্লেখ্য, এই জায়গা ভারতের চিকেনস নেকের খুব কাছে। তেমন এক সংবেদনশীল ভূখণ্ডের খুব কাছে চিনের প্রতিনিধিদের নিয়ে ইউনুস প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে বেশ নজরে রাখছে ভারত।
এদিকে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ঘিরে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এক মন্তব্যে আবার বেজায় চটেছে চিন। বাংলাদেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন সাংবাদিকদের সদ্য বলেন, বাংলাদেশের ‘চিনের সঙ্গে যুক্ততায় ঝুঁকি’ নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারপরই আবার চিন বলছে, চিন-বাংলাদেশ সহযোগিতা দুই দেশের জনগণের জন্য বাস্তব সুফল বয়ে এনেছে এবং ব্যাপক জনসমর্থন পেয়েছে। এই পরিস্থিতির মাঝেই কক্সের বাংলাদেশ সফরও বেশ তাৎপর্যবাহী।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post