বাংলাদেশের ২৫ জন সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গুম, খুন, আয়নাঘর কাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এরপরই তাদের বেসামরিক আদালতে তুলে দেওয়া হবে নাকি পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানান বিতর্ক। এ প্রসঙ্গে সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরে অস্থিরতা তুঙ্গে। সেনা প্রধান ওয়াকার উজ্জামান ও শেখ হাসিনার আমলে সামরিক বাহিনী ভারত প্রভাব বলয়ে থেকে কাজ করেছে কিনা ? ফলে বাংলাদেশ বাহিনী যে সামরিক কৌশল নিয়েছে তা বাংলাদেশের স্বার্থের কথা বিবেচনা না করে নাকি ভারতের স্বার্থ রক্ষায় তারা নিয়োজিত ছিল কিনা ? এ ধরণের প্রশ্ন নিয়ে সন্দেহ সামরিক বাহিনীর অন্দরে ও বাইরে সামরিক বাহিনীর সমালোচকদের মধ্যে। এই আবহে সেনা প্রধান ওয়াকার উজ্জামান দুটি জায়গা সফর করতে তিনি উপস্থিত হন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ধরে নেওয়া যায় এটি একটি কৌশলী সিদ্ধান্ত। ওয়াকার উজ্জামান নজরবন্দি আছেন কিনা ? গৃহবন্দি আছেন কিনা ? তা নিয়ে ছিল জল্পনা। ওয়াকারকে তার নির্ধারিত কর্মসূচিতে দেখা যায়নি এবং তিনি সৌদি আরব সফর বাতিল করায় একটি খবর প্রকাশ্যে আসে। সেনা প্রধান ওয়াকার উজ্জামান হেলিকপ্টার নিয়ে বাংলাদেশের দুটি পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি পরিদর্শন করেছেন। উত্তরবঙ্গের এই দুটি বিমানঘাঁটি দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় সক্রিয় অবস্থায় ছিল। সেই ঘাঁটি গুলোই স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে অচল। ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাট এই দুই বিমানঘাঁটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে।
পাশাপাশি বাংলাদেশের উপদেষ্টা সহ শীর্ষ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গদের মুখে শোনা গেছিল, ভারতের চিকেন নেক অর্থাৎ ভারতের উত্তর – পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যকে এর মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করে মুরগির গলার মতো অংশ চিকেন নেক। এই অংশটির কাছেই অবস্থিত এই ঠাকুরগাঁও ও লালমনির হাটের দুটি পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি। চলতি বছর মে মাসে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর উর্ধতন কর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিমুদ্দৌলা সংবাদ মাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশ সেনা বাহিনী গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাট এই দুটি বিমানঘাঁটি সচল করা প্রয়োজন। এরপরই ভারত উদ্বিগ্ন হয়ে নড়েচড়ে বসে। এর পরেই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম মনে করে চিনের সহায়তায় বাংলাদেশ ঠাকুরগাঁও ও লালমনির হাট বিমানঘাঁটি আবার সচল করতে যাচ্ছে।
ওয়াকার উজ্জামান বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে তার শারীরিক নিরাপত্তা নিয়ে যখন চিন্তিত এবং সাথে প্যারা কমান্ড বাহিনী দিয়ে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে তখন হয়ত ওয়াকার সেনা বাহিনীকে বার্তা দিতে চাইলেন যে তিনি একজন কঠর সেনা প্রধান হিসেবে তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন যে ভারতের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর চিকেন নেকের কাছে ঠাকুরগাঁও ও লালমনির হাট দুটি বিমানঘাঁটি সচল হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনা বাহিনী সেনা প্রধান ওয়াকার উজ্জামানের নেতৃত্ত্বে ভারতপন্থী সামরিক কৌশল থেকে ভারতকে একটা শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে পরিকল্পনা করে তারা তাদের সামরিক কৌশল সাজিয়ে নিচ্ছে। যার অংশ হিসেবে এই দুটি বিমানঘাঁটি সচল করা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তালিকায় শীর্ষে।












Discussion about this post