আমরা ইতোমধ্যে জেনে গিয়েছে যে পাকিস্তান সেনার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কর্তা জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ কমিটির চেয়ারপার্সন জেনারেল সাহির শামসাদ মির্জা সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী, ব্রিগেডিয়ার মহম্মদ রশিদ খান, কমোডর খান মহম্মদ আসিফ এবং দুজন মেজর। এই সফর ছিল চারদিনের। এই চারদিনের সফরসূচির দিকে একবার তাকিয়ে দেখা যাক। পাক সেনার প্রতিনিধিদল গত ২৪ অক্টোবর ঢাকায় অবতরণ করেন। তারা উঠেছিলেন ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে। একটি সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে একটি গণমাধ্যম থেকে দাবি করা হয়েছে জেনারেল ওয়াকার উজ জামান হোটেলে তাদের সঙ্গে দেখা করেননি। পরের দিন শুক্রবার সকালে পাকিস্তান দূতাবাসে একটি অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে আমন্ত্রণ করা হয় সফররত সে দেশের সেনা প্রতিনিধিদলকে। ওই অনুষ্ঠানে ওয়াকারকে দেখা যায়নি। প্রতিনিধিদল দেখা করেন তদারকি সরকারের উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস এবং বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে। সেই অনুষ্ঠানেও তাকে দেখা যায়নি। রাতে পাকিস্তান দূতাবাসের তরফ থেকে সফররত পাক সেনাপ্রতিনিধি সম্মানে এক নৈশভোজের ব্যবস্থা করা হয় দূতাবাসে। সেখানেও ওয়াকারকে দেখা যায়নি। এমনকী ঢাকার সেনাকুঞ্জে সাহির শামসাদ মির্জাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। সেই অনুষ্ঠানেও তাঁকে দেখা গেল না। এমনকী বাংলাদেশ সেনার প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামরুল হাসানের সঙ্গে পাক সেনা প্রতিনিধিদল বৈঠক করে। সেই বৈঠকেও জেনারেল ওয়াকারকে দেখা যায়নি। বৈঠক হয়েছিল ৪৫ মিনিট। এই কামরুল হাসান কিন্তু সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানের অধীনে নয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীর অধীনে। তাঁরা বৈঠক করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মামুদ খানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকেও কিন্তু সেনাপ্রধান ওয়াকার ছিলেন গড় হাজির। নৌবাহিনীর প্রধান এবং বিমানবাহিনীর প্রধানের সঙ্গে তারা পৃথক বৈঠক করেন। ২৭ অক্টোবর রবিবার পাক সেনাপ্রতিনিধি দল গিয়েছিলেন সিলেটে। তারা সেখানকার সেনানিবাস ঘুরে দেখেন। তাদের সঙ্গেও বাংলাদেশ সেনা প্রধানকে দেখা যায়নি। সফরের শেষদিন তারা ঢাকা সেনা ছাউনিতে জেনারেল ওয়াকারের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে ঠিক করেন। সূত্রের খবর, সেই বৈঠক বাতিল করা দেওয়া হয়েছে।
ফলে, তার এই অদৃশ্য ভাবে থেকে যাওয়ার বিষয়টিকে একেবারেই হালকা ভাবে নেওয়া যাবে না। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে গিয়েছেন। কিন্তু কেন? এটাও বেশ লক্ষ্য করার মতো যে মুক্তিযুদ্ধে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের স্মৃতিতে তৈরি সৌধস্মারকে তারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। প্রশ্ন এখানেই। হঠাৎ করে তাদের কী এমন মনে হল যে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিতে তারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করলেন? পাকিস্তান তো ভারত-বিদ্বেষী বলেই খ্যাত। হাসিনা-পরবর্তী অধ্যায়ে তাদের ভারত-বিরোধী কার্যকলাপ মাত্রাতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পিছনে মদত দিচ্ছে আইএসআই। কিন্তু বাংলাদেশের সেনাপ্রধান, যার সঙ্গে কিছুদিন আগেও পাকিস্তানের ভালো সম্পর্ক ছিল, তিনি কেন দূরত্ব তৈরি করছেন। কোনও কোনও গণমাধ্যম বলছে, ওই কদিন তাঁকে আয়না ঘরে রেখে দেওয়া হয়েছিল। আবার কোনও কোনও গণমাধ্যম থেকে দাবি করা হয়েছে, তিনি স্বেচ্ছায় গ্রেফতার হয়েছেন। দিল্লির একটি সূত্রের দাবি, বাহিনীর মধ্যে যেভাবে জামায়াত এবং পাকিস্তানপন্থীরা সংখ্যায় বেশি তখন তিনি প্রাণ বাঁচাতে রংপুরের ঠাকুরগাঁও হয়ে দিল্লিতে আশ্রয় নিয়েছেন।












Discussion about this post