কাদের লোভ এবং দূর্বলতার কারণে বাংলাদেশের এই হাল, তা হয়তো অনেকেই বুঝে গেছেন।যারা এখনও বুঝতে পারেন নি, তাদের জন্য আমাদের এই প্রতিবেদন। সেনাপ্রধান হয়তো বুঝে উঠতে পারেন নি।একটি দেশের সেনাপ্রধানের ক্ষমতা কি। বিশেষ করে যখন দেশ অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতায় চক্রান্তকারীরা। তখন দেশ মানে সেনা। আর সেনাপ্রধান মানে কোটি কোটি দেশবাসীর ভরসা। কারণ তারাই দেশের সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়, যারা দেশকে ভালোবেসে দেশের জন্য প্রাণ দিতে বা নিতে প্রস্তুত থাকে। সব দেশেই সাধারণ মানুষের মনে সেনাবাহীনির জন্য আলাদা সম্মান থাকে। কিন্তু ওয়াকার উজ জামানকে দেখে মনে হয় তিনি শুধু দর্বলই নন, তিনি হয় চক্রান্তের শিকার নয়তো চক্রান্তকারীদের অংশিদার। কারণ তিনি ডিসেম্বরে ভোট করাতেই হবে বলেও পিছিয়ে গেছেন। ঈদের সিমাই খেয়ে ইউনূসের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। কিন্তু এই পরিস্থিতি কেন তৈরী হল, বা কার জন্য তৈরী হল, সেটিও জানা দরকার।সেনাপ্রধানের এই পিছিয়ে যাওয়ার পিছনে কারণ হল জুন মাসে ইউনূসের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক। লন্ডনের ঐ বৈঠকে যদি ইউনূসকে, বিএনপি মানে তারেক রহমান ছাড় না দিতেন, তাহলে সেনাপ্রধানকে নিজের কথা না রাখতে পারার জন্য অপমানিত হতে হত না। তারেক রহমানের ঐ সিদ্ধান্ত তার দূর্বল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পরিচয়। মানুষের কাছে ডিসেম্বরেই ভোট হতে হবে বলেও, ইউনূসের চালাকির কাছে পরাজিত হওয়াটাই বিএনপির শেষের শুরু।এবার বাংলাদেশের অস্তিত্বের সংঙ্কটটি কি? তা আলোচনা করার আগে বলে নিই এখন বাংলাদেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে কারা?বাংলাদেশের এই মহুর্তে যে বা যারা ক্ষমতায় আছে, তারা কারা? বাংলাদেশের একদল মানুষ, যারা মুক্তি যুদ্ধ করে লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষের রক্তে পাওয়া দেশকে বিশ্বাস করে তারা বলবে দখলদার। আর যারা রাজাকার যারা পাকিস্তানের নীতিতে বিশ্বাসী তারা বলবে, তারা ৭১রের পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে ২৪শে নিজেদের মুক্ত করেছে। এখন যে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ এবং রাজাকার এই দুটি দলই আছে তা আর তর্ক করে বোঝাতে হবে না। কিন্তু লড়াইটা শুধু এই দুই দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আওয়ামীলীগের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও, বাংলাদেশের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য মুজিবের বিরোধীতা করে আওয়ামীলীগ থেকে বেরিয়ে আসা একটি অংশ হল বিএনপি। এখন এই বিএনপি পড়েছে মহা সঙ্কটে। তারা সিদ্ধান্ত হীনতার কারণে নিজেদের অস্তিত্বকেই হারাতে বসেছে। বিএনপি ভেবেছিল ক্ষমতা তাদের দখলে আসতে চলেছে। কিন্তু যারা ক্ষমতা দখল করেছে, তারা যে বিপ্লবী নয়, চক্রান্তের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছে, তাই তারা ক্ষমতা সহজে ছেড়ে দেবে না, সেটি বুঝতে পারেনি। তাই প্রথম দিকে ইউনূসকে তাদের জিয়াউর রহমানের মত মনে হলেও, এখন বুঝতে পারছে তিনি আসলে পাকিস্তানি মার্কিন পাপেট। এবার আসা যাক অস্তিত্বের সংঙ্কটের কথায়।আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল অর্থাৎ আইএমএফ জানিয়েছে তারা নির্বাচিত সরকার গঠন না হলে, আর কোন ঋণ দেবে না। প্রসঙ্গত, ষষ্ঠ কিস্তিতে আইএমএফ থেকে প্রায় ৮০ কোটি ডলার পাওয়ার কথা। তবে চলমান সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা এবং নতুন সরকারের নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত, অর্থ ছাড়ে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।সম্প্রতি ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে এক বৈঠকে এই বার্তা দেয় আইএমএফ। গভর্নর জানান, চলতি ডিসেম্বরেই ঋণের কিস্তি ছাড় হওয়ার কথা থাকলেও নির্বাচনপূর্ব সময়ে আইএমএফ তা দিতে রাজি নয়।অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আইএমএফ যদি কঠিন শর্ত আরোপ করে, বাংলাদেশ তা মানবে না। এখন দেশ আগের মতো সংকটে নেই। সত্যিই কি বাংলাদেশ সঙ্কটে নেই? বাংলাদেশ মানে যদি জামাতে ইসলাম বা এনসিপি যারা চাঁদাবাজিতে বিএনপিকেও ছাড়িয়ে গেছে, আর উপদেষ্টারা হন, তাহলে দেশে আর্থিক সংঙ্কট নেই। কিন্তু সাধারণ মানুষ কি আর্থিক সচ্ছলাতার মধ্যে আছে? যদিও এটি তারাই ভালো বলতে পারবে।












Discussion about this post