কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১৬ বছরের এক কিশোর ১২ দিন ধরে রংপুর কারাগারে আটক রয়েছে। একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, ১৬ বছরের ওই কিশোর পুলিশের কাছে কোনওভাবেই আতঙ্কের কারণ হয়ে ওঠেনি। তারপরেও পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে তার মৃত্যু হয়। যদিও এফআইআর পুলিশ জানিয়েছে, গুলিতে সাঈদের মৃত্যু হয়নি।
ইতিমধ্যে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন বিচারপতিকে নিয়ে গঠিত হয়েছে বিশেষ ট্রাইবুন্যাল। সেই ট্রাইবু্ন্যালে আবু সাঈদকে গুলি করার দুটি ভিডিও পেশ করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। ছেলেকে গুলি করার দৃশ্য দেখে তিনি ডুকরে ওঠেন। আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার পর মকবুল হোসেনকে কড়া নজরে রেখেছে সরকার। তার কাছে থাকা মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এমনকী সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। কাটা কাটা ভাষায় তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভুলেও যেন তিনি মুখ না খোলেন। সে দেশের একটি পত্রিকায় প্রকাশিত সাঈদের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। সেই রিপোর্টের সঙ্গে মকবুল হোসনের বয়ান মিলছে না। এখানেই তাজরুলইসলামের ভয়। বাংলাদেশে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, মকবুল হোসেনকে গায়েব করার ছক তৈরি চলছে।
এই মামলায় ৩০জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে। এরা হলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, প্রাক্তন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিকুল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের প্রাক্তন কর্মচারী মো আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের প্রাক্তন এএসআই আমির হোসেন, প্রাক্তন কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ। সরকারি চাকরিতে কোটা সংরক্ষণের দাবিতে আন্দোলন যখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে, সেই সময় ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্কের মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ। সাঈদের বয়স মাত্র ২৫ বছর। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বাদশ ব্যাচের পড়ুয়া ছিলেন।
এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সরব হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতি পায় কোটা আন্দোলন। ওই আন্দোলনের ফলশ্রুতি হিসেবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাঝে গত ৫ অগাস্ট ভারতে পালিয়ে যান ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা। এদিকে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাঈদের নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনসন সেন্টারের নতুন নামকরণ করা হয়েছে। আগে এর নাম ছিল বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কনভেনশন সেন্টার। এখন থেকে এটি শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনসন সেন্টার হিসেবে পরিচিত হবে।
এই মর্মে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে সই রয়েছে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মহম্দ নজরুল ইসলামের সই। সেখানে বলা হয়েছে, ২০২১-য়ের ২৪ জুন সিন্ডিকেটের ৮২ তম সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল কনভেনশন সেন্টারের নাম বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কনভেনশন সেন্টার। পরিবর্তে নামকরণ করা হল শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনসন সেন্টার। প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়েছে।
ইতিমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করেছে, প্রতি বছর ৮ অগাস্ট নতুন বাংলাদেশ দিবস হিসেবে পালিত হবে এবং ১৬ জুলাই শহীদ আবু সাঈদ দিবস হিসেবে পালিত হবে। এছাড়া ৫ অগাস্ট দিনটি জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস হিসেবে পালন করা হবে।












Discussion about this post