আজ ২১ শে আগষ্ট, এমনই এক ২১শে আগস্ট, বাংলাদেশের তৎকালিন বিরোধী নেত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে বিকেল ৪টের সময় প্রকাশ্য দিবালোকে গ্রেনেট হামলা হয়। তখন সরকারে বিএনপি এবং জামাত। সারা বিশ্ব এই ঘটনায় স্তম্ভিত। যে ঘটনায় ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল।আর অগনিত মানুষ আহত হয়েছিলেন। সারা বিশ্বের তাবড় তাবড় নেতারা ফোনে হাসিনার সুস্থতার খবর নেন, হাসিনা সেদিন বেঁচে গেলেও, সেদিনই বাংলাদেশে এক রমক অলিখিত মৃত্যু হয় তারেক রহমানের। এই ইউনূস সরকারের একমাত্র বড় বিরোধী হল বিএনপি। আর সেই বিএনপির মারানাস্ত্র ইউনূস সরাকারের হাতে। তাই বিএনপি যখন এক দফা দাবি পেশ করে, যে নির্বাচন হতে হবে ডিসেম্বরেই।তখন ইউনূস সরকার ডিসেম্বরে তারেক রহমানকে সব মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার পরও আবার জুনে তার বিরুদ্ধে ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মামলা সরকারী ভাবে অ্যাপিল করা হয় শুনানির জন্য।এবং যার শুনানি হবে আজ আর এক ২১শে আগস্টে। এই যে এনসিপির বাচ্চা বাচ্চা ছেলে মেয়েরা তারেক রহমানকে নিয়ে চাঁদাবাজির স্লোগান দেয়, নির্বাচন হলে যে ব্যক্তি আগামী দিনে দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, তার নামে নানা রকম বিতর্কিত মন্তব্য করে কোন সাহসে। কারণ তারা জানে বিএনপিকে থামিয়ে রাখার অস্ত্র তাদের হাতে আছে। তাই বিএনপিকে মেনে নিতে হয় ভোট ডিসেম্বরে নয়, ফেব্রুয়ারীতে হবে।
যখন খলিলুর রহমানকে বিএনপি বিদেশী নাগরিক হওয়ার কারণে জাতীয় নিরপত্তা উপদেষ্টার পদে মানতে চায়নি। তখন খলিলুর রহমান বলেছিলেন আমি বিদেশী নাগরিক হলে আগামী দিনে যিনি বিএনপির প্রধানমন্ত্রী পদপার্থী সেই তারেক রহমানও তো বিদেশী, তাহলে তিনি কি করে প্রধানমন্ত্রী হবেন। আর এই বক্তব্যের পর বিএনপি খলিলুর রহামানের উপর প্রচন্ড রাগান্বিত হওয়া স্বত্বেও, লন্ডনে এই খলিলুর রহমানই তারেক রহমানকে স্বাগত জানায়, সেটিও মেনে নিতে হয় বিএনপিকে। তারেক রহমানকে সব মামলাগুলি থেকে রেহাই দিতে বিএনপি মরিয়া চেষ্টা করেছিল, তারা ইউনূস সরকারের শপথ গ্রহনের আগেই নিশ্চিত করে যে এ্যটর্নি জেনারেলের পদটি যেন বিএনপির কাছের লোককে দেওয়া হয়।বা তাদের নিজেদের লোক হয়। সেকারণে এডভোকেট আশাদুর জামান বাংলাদেশের এ্যটর্নি জেনারেলের পদে অধিষ্ঠিত হন। শুধু তাই নয় তিনি খালেদা জিয়ার মামলাগুলি সহ বিএনপির প্রায় সব মামলাগুলিকে দ্রুততার সঙ্গে নিস্পত্তি করেছেন, এমন কি জামাতের মৃত্যু দন্ড প্রাপ্ত নেতা এটিএম আজাহারউল ইসলামকেও মুক্ত করেছেন। কিন্তু বিএনপির এই বিশ্বস্ত দলীয় এ্যর্টনি জেনারেলও ঐ ২১শে আগস্টের মামলা থেকে তারেক রহমানকে মুক্ত করতে পারেন নি। উল্টে বিএনপি যখন নির্বাচনের পক্ষ্যে একটা নিদৃষ্ট অবস্থান নিতে চেষ্টা করেছে, তখনই সরকারের পক্ষ থেকে এই অবস্থান নেওয়া হয়েছে যে আবারও ২১শে আগস্টের মামলাটি চালু করা হবে। বিএনপি যেমন একদিকে এ্যটর্নি জেনারেল হিসাবে তাদের নিজেদের লোককে নিযুক্ত করেছিল যাতে বিএনপির বিরুদ্ধে সারা দেশে যত মামলা আছে তার নিস্পত্তি করা যাবে এই ভরসায়। ঠিক তেমনই আইনি উপদেষ্টা পদে বিএনপি পছন্দ করেছিল আসিফ নজরুলকে।
যাকে বিএনপি এবং বিএনপির বাইরের লোকজন বিএনপি ঘেষা বুদ্ধিজীবি বলেই জানেন। সেই আসিফ নজরুলও তারেক রহমানকে ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার মামলা থেকে রেহাই দিকে কোন কার্যকরী ভুমিকা রাখতে পারেন নি। তাই ঐ ২১শে আগস্টের মামলাটিই বিএনপি এবং তারেক রহমানের জন্য গালার কাঁটা হয়ে আছে। আজ যদি সেই মামলা থেকে তারেক রহমান খালাসও হন, তাহলে কি তিনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারবেন। তিনি এবং বিএনপি ভালো করেই জানেন যে তারা কখনই নিশ্চিন্ত থাকতে পারবেন না। যে কারণে বলা হচ্ছে, ২১শে আগষ্টের গ্রেনেড হামলায় হাসিনা মরেন নি, মরেছেন তারেক রহমান। কারণ আজ এই মামলা থেকে যদি তিনি খালাস হনও। সেনাবাহীনির হাতে যে সমস্ত তথ্য আছে তা ভয়ঙ্কর ভাবে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমান হিসাবে রাখা আছে। দিনের বেলায় ঘটা ঘটনা যেমন মিথ্যে প্রমান করা যাবে না, তেমন সেই ঘনটা থেকে তারেক রহমানকেও মুক্ত করা যাবে না।তাই তিনি বিদেশ থেকে আদৌ দেশে ফিরতে পারবেন বলে মনে হয় না।











Discussion about this post