হাসিনা এবং তাঁর প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন ক্যাঙারু আদালতের রায়সাহেব। তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে কম চর্চা হয়নি। এবারের চর্চার বিষয় কিন্তু বদলে গিয়েছে। এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা এবং দিল্লি। বিষয় অবশ্যই হাসিনার এবং তাঁর প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের প্রত্যর্পণ। প্রশ্ন হল, দিল্লি কি ঢাকার দাবির কাছে নতজানু হয়ে হাসিনাকে সে দেশের হাতে তুলে দেবে? এই রায় নিয়ে মুখ খুলেছেন হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়।
দিল্লির তরফ থেকে কিন্তু ওই রায় ঘোষণার পর বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বিবৃতির তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল সাউথব্লক কিন্তু প্রত্যর্পণ নিয়ে একটি শব্দ খরচ করেনি। ঢাকা বেশ আশা নিয়ে বসেছিল যে সাউথব্লক থেকে কিছু না কিছু বলা হবে। কারণ, দেশটার হাসিনার প্রতি পীড়িত উথলে পড়ছে। কিন্তু সাউথব্লকে বিদেশমন্ত্রকের মাথায় যে ভদ্রলোক বসে আছেন, তাঁর মাথার চুল এমনিতে পাকেনি। তিন প্রধানমন্ত্রীর (মনমোহন সিং, ইন্দরকুমার গুজরাল এবং মোদি) প্রাইভেট সেক্রেটারি ছিলেন। কর্মজীবন শুরু কিন্তু বিজ্ঞাপন জগতের মধ্য দিয়ে। ভারতের একটি বিখ্যাত বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজ করতেন। ১৯৮৯ সালে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকে তাঁর যোগ দান। বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। বিদেশ মন্ত্রকে কাজ করার সুবাদে এবং রাষ্ট্রদূত থাকার সুবাদে আন্তর্জাতিকমহলের নাড়ি বোঝা তাঁর কাছে অনেকটাই নস্যি ঝাড়ার মতো। তাই, কোনও দেশে কিছু হলেই লোকাল ট্রেন ধরার মতো তড়িঘড়ি সাংবাদিক সম্মেলন করে বিবৃতি দেন না। বিবৃতি দেন অত্যন্ত শান্তভাবে।
তাকে আবার যোগ্য সঙ্গত করে চলেছেন ভারতের স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় কুমার ভাল্লা। আর ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের ভূমিকার কথা তো সবাই জানে। ফলে, হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকা যতই ভারতের ওপর চাপ তৈরি করুক না সেই চাপ দিল্লির কাছে কিছুই না। দিল্লি এটাকে কোনওভাবেই চাপ বলে মনে করছে না। উলটে ঢাকাকে চাপে ফেলার ছক তৈরির কাজ চলছে। সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের একটি ভূয়ো আদালতের রায় নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। দেখার চেষ্টা চলছে কোথাও কোনও ফাঁকফোকর খুঁজে পাওয়া যায় কি না।
ভারতের সঙ্গে ঢাকার যে প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে, সেই চুক্তিতে বেশ কয়েকটি যদি কিন্তু রয়েছে। চুক্তির এক জায়গায় বলা হয়েছে, সাউথব্লক যদি মনে করে এই প্রত্যর্পণের আর্জির সঙ্গে প্রতিশোধমূলক রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার সম্পৃক্ততা রয়েছে, তাহলে ভারত পত্রপাঠ খারিজ করে দেবে। রাজনৈতিকমহলের একাংশের মতে, হাসিনাকে ঢাকা ফিরে পেতে চাইছে পুরোপুরি রাজনৈতিক কারণে। একটা মহলের মতে, হাসিনাকে ক্ষমতায় বসিয়ে পিছন থেকে কলকাঠি নাড়বেন ইউনূস। কোনও কোনও মহলের মতে, হাসিনাকে হাতে পেলে বাংলাদেশে নতুন করে একটা রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হবে। আর ইউনূস মহাশয় সেই সুযোগে আরও কয়েকমাস গদিতে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে ফেলবেন।
তবে হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়টি নিয়ে ভারত কী ভূমিকা নেয়, সে দিকে তাকিয়ে আন্তর্জাতিকমহল। তাদের একাংশের মতে দিল্লি কোনও অবস্থাতেই ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রীকে সে দেশের হাতে তুলে দেবে না। তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যে সুদীর্ঘ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, তাতে ছেদ পড়বে। সেটার সুযোগ নেবে চিন আর পাকিস্তান। ফলে, আগামী দিনে দিল্লি কোন চাল চালে, তা দেখার অপেক্ষায় গোটা দুনিয়া।












Discussion about this post