বাংলাদেশের প্রথম সারির দৈনিক ‘প্রথম আলো’ একটি জাতীয় জনমত জরিপ প্রকাশ করেছে। জরিপে তিনটি বিষয় রাখা হয়েছে। তিনটি প্রশ্ন হল, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি সন্তুষ্ট কতটা? নির্বাচনে কো দল এগিয়ে থাকতে পারে? জাতীয় ইস্যুগুলোতে জনগণের অবস্থান কী? পত্রিকা বলছে, তারা ১৩৪২ জন মানুষের ওপর সমীক্ষা চালিয়েছিল। এর মধ্যে মহিলার সংখ্যা ৬৬৮ জন। আর পুরুষের সংখ্যা ৬৭৪ জন। সমীক্ষা করা হয় ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ জনগোষ্ঠীর ওপর। জরিপটি চালিয়েছে, বাংলাদেশ ইয়ুথ লিডারশিপ সেন্টার। সমীক্ষা চলে গত ১০ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে। দেশের ভৌগলিক ও জনমিতিক বৈচিত্র্য প্রতিফলিত করার জন্য র্যা ন্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতিতে তাদের নির্বাচন করা হয়। জরিপে ‘মার্জিন অব এরর’ রাখা হয়েছে তিন শতাংশ।
জরিপে দেখা গিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর ভোট আগের থেকে অনেক বেড়েছে। তা নিয়ে অবাক হওয়ার বিশেষ কোনও কারণ নেই। কারণ, বাংলাদেশের ৬৫ শতাংশ মানুষ চাইছে তো দেশে ইসলামি আইন প্রতিষ্ঠিত হোক। জরিপে দেখা গিয়েছে বিএনপির পাল্লা বেশ দূর্বল। অথচ আওয়ামী লীগের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম দল তারা। জরিপের ফল অনুযায়ী, বিএনপির পক্ষে ২০ শতাংশের সমর্থন রয়েছে। অনেকে ধারণা করেছিলেন, আওয়ামী লীগের পতনে সব চেয়ে বড়ো ভূমিকা নিয়েছিল বিএনপি। সে হিসেবে ভোটারদের একটা বড়ো অংশের সমর্থন তাদের পাওয়ার কথা ছিল। দলটি ঐতিহাসিকভাবে জাতীয় ভোটের অন্তত এক তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করে বলে মনে করা হয়। অনেকে এটাও মনে করতেন, আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী প্রবণতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির সমর্থনও বেড়ে গিয়েছে। যদিও এই জরিপে দেখা গিয়েছে আওয়ামী লীগ প্রধান প্রতিপক্ষ না থাকায় বিএনপির সমর্থন কমে এসেছে।
জরিপে অংশ নেওয়া তরুণদের ১০ শতাংশ কিন্তু এখনও আওয়ামী লীগের পক্ষে। তারা হাসিনার দলকেই ভোট দিতে চায়। তবে এই জরিপের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বিষয় বহু সংখ্যক তরুণ কিন্তু এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি, তারা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তারা কাকে ভোট দেবে। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে এলে এই বড়ো অংশের ভোটার বিভিন্ন দিক থেকে সরে যেতে পারে।
আরও ১৮ শতাংশ তরুণ তাদের পছন্দ জানাতে অস্বীকার করেছে। এই গোষ্ঠীর মধ্যে অনেকে আবার নীরব আওয়ামী সমর্থক। যদি ধরে নেওয়া হয় এই ১৮ শতাংশের অর্ধেক মানে নয় শতাংশ আওয়ামী সমর্থক, তাহলে আগের জরিপে যে ১০ শতাংশ আওয়ামী লীগ সমর্থন দেখা গিয়েছে, তার সঙ্গে আরও নয় শতাংশ যোগ হতে পারে।
গত মার্চেও এরকম একটি জরিপ করা হয়েছিল। সে দফায় জরিপ যৌথভাবে করে ব্রেন এবং ‘ভয়েস ফর রিফর্ম।’ চলতি বছর সারা দেশে আটটি বিভাগের ৬৪টি জেলায় ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত ১০ হাজার ৬৯৬ জন জরিপ পরিচালনা করে। জরিপের ফলাফল বলছে, এই অবস্থায় ভোট হলে দ্বিতীয়স্থানে থাকবে জামায়াতে ইসলামি। তারা পাবে ৩১.৬ শতাংশ ভোট। আওয়ামী লীগ পেতে পারে ১৩.৯ শতাংশ ভোট। জাতীয় নাগরিক পার্টি পাবে ৫.১ শতাংশ ভোট। এছাড়া জরিপের ফল অনুসারে, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ পাবে ২.৬ শতাংশ, জাতীয় পার্টি ১ শতাংশ, গণঅধিকার পরিষদ ০.৫ শতাংশ, গনসংহতি আন্দোলন ০.২ শতাংশ, অন্যান্য ৩.৩ শতাংশ।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post