আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচন। অন্তত তদারকি সরকার প্রধান এবং বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা সে কথাই বলছে। পদ্মপারে জোর কদমে চলছে প্রচার। বাংলাদেশে নির্বাচন যাতে অবাধ ও সুষ্ঠ হয়, তার জন্য তদারকি সরকারের ওপর আন্তর্জাতিকমহল থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস জানিয়েছেন, ভোট সুষ্ঠ, অবাধ এবং নিরপেক্ষভাবে করতে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর। আইনশৃঙ্খলার যাতে কোনও অবনতি না হয় সেটাও তদারকি সরকার দেখবে। আসন্ন ভোটে আওয়ামী লীগ যে নেই সেটা এখন পরিষ্কার। তবে একটা বিষয়ে ধোঁয়াশা এখনও থেকে গিয়েছে। তা হল হাসিনার প্রত্যাবর্তন। গত বছর কিন্তু ঘুরে ফিরেই এই নিয়ে নানা প্রান্ত থেকে নানা মন্তব্য, নানা ধরনের সম্ভাবনার কথা শোনা গিয়েছিল। কোনও কোনও প্রান্ত থেকে তো এটাও বলা হয় যে তারেক বাংলাদেশে ফিরতে পেরেছেন ভারত এবং আমেরিকার শর্তে। আর সেই শর্ত হল ভোট-পরবর্তী পর্বে তাঁকে হাসিনাকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। তারেক সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশে তাঁর থাকার বিষয়ে কোনও নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না। জিয়া-পুত্র সেই দায়িত্ব পালন করতে পারেন কি না, সেটা এখন দেখার বিষয়।
কিন্তু পরিস্থিতি এখন ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছে। কোনও কোনও প্রান্ত থেক এখন একটা কৌশলী প্রচার শুরু হয়েছে। আর সেই প্রচারটি হল ১২ তারিখ বাংলাদেশে হচ্ছে না জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিশেষ একটি গোষ্ঠী নির্বাচন বানচাল করতে রীতিমতো সক্রিয়। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে এই নির্বাচন নিয়ে একটা রিট পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। পিটিশনে বলা হয়েছে, তদারকি সরকার কোনওভাবেই নির্বাচনের দিন তারিখ ঘোষণা করতে পারে না। সংবিধান সেই অধিকার তদারকি সরকারকে দেয়নি। এদিকে, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বেশ কয়েকটি জনমত সমীক্ষা প্রকাশিত হয়েছে। সর্বশেষ জনমত সমীক্ষার ফল অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশিত সবশেষ জনমত জরিপে প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত মিলেছে। জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন প্রায় ৩৪ শতাংশের বেশি ভোটার, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে মত দিয়েছেন প্রায় ৩৩ শতাংশের বেশি মানুষ। জরিপ অনুযায়ী, বর্তমান জনসমর্থনের ভিত্তিতে ভোটের সম্ভাব্য বণ্টন হলো- বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) পাবে ৩৪.৭ শতাংশ। আর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন থাকবে ৩৩.৬ শতাংশ। এ নির্বাচনে আনডিসাইডেড (সিদ্ধান্তহীন) ভোটার থাকতে পারে ১৭.০ শতাংশ। অন্য দলগুলোর মধ্যে ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি) ৭.১, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩.১ এবং অন্যান্য দল ৪.৫ শতাংশ ভোট পাবে।
এদিকে, জামাতের সঙ্গে বিএনপি আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত। সূত্র বলছে, জামায়াত ১৯০টি আসন নিজেদের জন্য রেখে বাকি আসনগুলো অন্য দলগুলোকে ছেড়ে দিতে চায়। ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টি, এনসিপিকে ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টি, খেলাফত মজলিসকে ৭টি, এলডিপিকে ৭টি, এবি পার্টিকে ৩টি এবং বিডিপিকে ২টি আসন ছাড় দেওয়া হতে পারে। বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দুটি জোট সক্রিয় হয়ে উঠেছে। একটি জোটের নেতৃত্বে রয়েছে বিএনপি। মূলত অতীতে দলটির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা গণঅধিকার পরিষদ, গণতন্ত্র মঞ্চের দলগুলো সহ বিভিন্ন দলকে নিয়ে আসন সমঝোতা হয়েছে। অন্য নির্বাচনী জোটে আছে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন এবং এনসিপিসহ এগারটি দল।বলা হচ্ছে, আগামী নির্বাচনে মূল লড়াই হবে মূলত: এই দুটি জোটের মধ্যে। ইতোমধ্যেই বিএনপি এবং জামায়াত তাদের জোটে থাকা দলগুলোর সঙ্গে আসন সমঝোতা করছে। তবে এই আসন সমঝোতা করতে গিয়েই দেখা যাচ্ছে, দুটি জোটের ভেতরেই একধরনের বিভক্তি, সংশয়, অবিশ্বাস ক্রমান্বয়ে স্পষ্ট হয়েছে।
তবে রাজনীতিতে যে চিরকালের মিত্র বা চিরকালের শত্রু বলে কিছু হয় না, সেটা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। বিএনপি যে দলের হাত ধরেছে, সেই জামাতকে গত বছর তেড়ে গাল দিয়েছিলেন তারেক রহমান। কী বলেছিলেন, একবার মনে করিয়ে দেওয়া যাক। তারেক তখন লন্ডনে। ফিরবেন কি ফিরবেন না , তার ঠিক নেই এই অবস্থায় তিনি একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। সে ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায় ..
সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে বলতে শোনা যায় – “ বা বিভিন্ন জায়গায়, কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় বলে যে অমুককে দেখলাম, তমুককে দেখলাম, তমুককে দেখলাম। এবার অমুককে দেখুন। যাদের কথা বলে অমুককে দেখুন… প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ, তাঁদেরকে তো দেশের মানুষ ১৯৭১ সালেই দেখেছে। ১৯৭১ সালে… ১৯৭১ সালে তারা তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে কীভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে। ঠিক এদের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার্থে লক্ষ লক্ষ মানুষকে শুধু হত্যাই করেনি। তাদের সহকর্মীরা কীভাবে মা বোনদের ইজ্জত পর্যন্ত লুঠ করেছিল। এই কথাটি আমাদেরকে মনে রাখতে হবে।”












Discussion about this post