মহম্মদ ইউনূস নিউইয়র্ক গিয়েছেন। উদ্দেশ্য জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ভাষণ দেওয়া। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতের দুইজন করে চারজনকে। আপাত দৃষ্টিতে সফর সরকারি হলেও সফরের অন্য উদ্দেশ্য রয়েছে।
একটা বিষয়ে কী কারো খটকা লাগছে না। যে সরকারের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে, সেই সরকার এমন সফর করে কী করে? এ তো আর পাড়ার জলসা না যে বলল আর চলল। আন্তর্জাতিক মহল কিন্তু এই সরকারকে বৈধতা দেয়নি। ইউনূস এটা জেনেই আমেরিকা গিয়েছেন যে সেখানে তাঁকে এবং তাঁর সঙ্গী সাথীদের তুমুল বিক্ষোভের মধ্যে পড়তে হবে। হয়েছেও তাই। তারপর কড়া মাঞ্জা মেরে এক বিশাল প্রতিনিধি দল নিয়ে আমেরিকা গিয়েছেন। উদ্দেশ্য যে মোটেই শুভ নয়, তা বলাই ভালো। তাও আবার ১১ দিনের সফর। কারণটা কী?
কারণ খুব পরিষ্কার। যেভাবেই হোক বাঁচার একটা রাস্তা বের করতেই হবে। ঘর আর তেমন সুরক্ষিত নয়। সেনা যে কোনও সময় বন্দুকের নল ঘুরিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে হাসিনাকে ক্ষমতায় ফেরাতে একটি মহল উঠে পড়ে লেগেছে। এই অবস্হায় ভিন রাষ্ট্রের সাহায্য ছাড়া বাঁচার আর কোনও রাস্তা নেই। তাই নিউ ইয়র্ক সফরের উদ্দেশ্য রথ দেখা হলেও আসল উদ্দেশ্য কিন্তু কলা বিক্রি করা। কোনও কোনও মহল থেকে আবার এটাও বলা হচ্ছে ইউনূস আমেরিকা থেকে নাও ফিরতে পারেন। এতটা মূর্খামি ইউনূস করবেন বলে মনে হয় না। কারণ, যাদের পাশে পাওয়ার আশা নিয়ে তিনি নিউ ইয়র্ক গিয়েছেন, সেটা করলেৎতাদের আর পাশে পাবেন না। সুতরাং এমন রাস্তায় হাঁটতে হবে যে রাস্তা দিয়ে হাঁটলে বিপদ কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যাবে। তাই যে সফর তিন থেকে চার দিনেই শেষ করা যায়, সেই সফর ১১ দিন টেনে লম্বা করেছেন। (ইউএনজিএ) প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-র নেতাদের অন্তর্ভুক্তি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-কে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নেতারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক শক্তির উপস্থিতি সংলাপের পরিবেশ তৈরি করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেবে।
জাতিসংঘের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে ড. ইউনূস ২২শে সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।
সরকারি প্রতিনিধি দলে রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা।
আরও একটা বিষয় বেশ মজার। কোনও রাষ্ট্রপ্রধান সরকারি সফরে কোথাও গেলে তার একটা বয়ান দেওয়া হয়। অর্থাৎ যে কদিন তিনি বিদেশে থাকবেন সে কদিন তিনি কোথায় কোথায় যাবেন, কার কার সঙ্গে দেখা করবেন, কার সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বা ত্রিপাক্ষিক বৈঠক করার কথা রয়েছে সব সরকারি বিবৃতি উল্লেখ করা হয়। ইউনূসের মার্কিন সফর প্রসঙ্গে সে সব কিছু বলা হয়নি শুধুমাত্র এটি ছাড়া যে তিনি জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন একদিনের ভাষণ। আর ইউনূস থাকবেন ১১ দিন। এটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার যে শুধুমাত্র জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ইউনূস নিউ ইয়র্ক যাননি। অনেক পরিকল্পনা করে গিয়েছেন। আগামীদিনে সেটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে।












Discussion about this post