বাংলাদেশের পর নেপাল, এবার কি ফের বাংলাদেশের পালা? রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী, আমলাদের সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগে নেপালের জেন-জি বা আধুনিক প্রজন্মের যে সহিংস আন্দোলন হল, তাতেই মূলত পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। তাঁর সঙ্গেই পদত্যাগ করেছে নেপালের গোটা মন্ত্রিসভা। ফলে এই মুহূর্তে নেপালে সেনাশাসন চলছে। ঠিক যেমনটা হয়েছিল বাংলাদেশে গত বছর আগস্ট মাসে। কিন্তু বিগত এক বছরে বাংলাদেশে কোনও বড় সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন হয়েছে কি? বাংলাদেশের সাধারণ মানুষই বলছেন, হয়নি, বরং বাংলাদেশ আরও অধঃপতনে গিয়েছে। বাংলাদেশে বন্ধ হয়েছে, হাজার হাজার ছোট-বড় কলকারখানা। বেকারত্ব বেড়েছে দ্বিগুণ, আর জিডিপি কমেছে সেই অনুপাতে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া, আনাজপাতির দামও কমেনি। ফলে নাজেহাল দশা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের। কিন্তু অপরদিকে, মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর দোসরদের আর্থিক হাল ফুলে-ফেঁপে উঠছে দ্রুততার সঙ্গে। যে দুর্নীতি ও স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণে শেখ হাসিনাকে দোষী করা হয়েছিল, মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর দলবল এখন সেই দোষেই দোষী হচ্ছেন। ফলে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এবং আধুনিক প্রজন্মের মধ্যেও একটা হতাশা ও ক্ষোভের জন্ম হচ্ছে। আর সেই ক্ষোভকে ত্বরান্বিত করছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু করেছেন, মুহাম্মদ ইউনূস যেভাবে তাঁর কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন, তিনি যে ভাবে বাংলাদেশে জঙ্গি-জিহাদিদের মাথায় তুলছেন। তাতে খুব শীঘ্রই বাংলাদেশের পরিণতিও নেপালের মতো হতে পারে। কেন মুহাম্মদ ইউনূসে্র বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কয়েকটি বিষয়কে সামনে আনছেন। প্রথমটি হল, তাঁর সরকার নির্বাচন ও সংস্কারের কথা বারবার উল্লেখ করলেও আজ পর্যন্ত কোনও উল্লেখযোগ্য রোডম্যাপ দিতে না পারা। বরং এই ধুঁয়ো তুলে অন্তর্বর্তী সরকার বারবার জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দিতে চেয়েছেন। দ্বিতীয়টি হল, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি ও খারাপ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি না হওয়া। তৃতীয়টি হল, সাংবিধানিক অধিকার না থাকা সত্বেও আওয়ামী লীগের মতো প্রাচীন রাজনৈতিক দলকে কার্যত নিষিদ্ধ করে তাঁদের নির্বাচনী নিবন্ধন বাতিল করা। চতুর্থত বিষয়টি হল, এনসিপির মতো অজ্ঞাতকুলশীল একটি দলকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া এবং সেই দলের নেতা-নেত্রীদের মাথায় তুলে দেওয়া। পঞ্চম কারণটি আরও মারাত্মক, সেটি হল ‘কাজের সীমা’র বাইরে গিয়ে মিয়ানমারের রাখাইনের সঙ্গে করিডোর বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত উৎসাহ দেখানো। অভিযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সুযোগ করে দিতে মুহাম্মদ ইউনূস এবং খলিলুর রহমান বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকেই বলি দিতে চাইছেন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশী সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা। এমন আরও অভিযোগ উঠছে মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে। যেমন, অদক্ষ এবং অপরিণত ব্যক্তিদের উপদেষ্টা পদে নিয়োগ করা এবং বিতর্কিত ব্যক্তিকে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করা।
আবার মুহাম্মদ ইউনূসের ‘ব্যক্তিস্বার্থ সংশ্লিষ্ট’ কিছু বিষয় নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। যেমন, গ্রামীণ ব্যাংকে সরকারের মালিকানা কমিয়ে নিজের শেয়ার বৃদ্ধি, গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় নামে নিজের সংস্থার নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন করিয়ে নেওয়া। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে তাঁর গ্রামীণ ব্যাঙ্কের ৬৬৬ কোটি টাকা বকেয়া কর মুকুব করে দিয়েছেন। এই সমস্ত কিছুই তাঁর বিরুদ্ধে যাচ্ছে। যা নিয়ে আওয়ামী লীগ সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যাপক প্রচার করে চলেছে। আর বাংলাদেশের মানুষও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মব জাস্টিসের মতো ঘটনা নিয়ে প্রবল বিরক্ত। সবমিলিয়ে নেপালের মতো পরিস্থিতি এবার বাংলাদেশেও ঘটে যেতে পারে। আর সেটা হলে গত বছরের ৫ আগস্টের থেকেও মারাত্মক কিছু ঘটতে পারে বলেই মনে করছেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।












Discussion about this post