আওয়ামী লীগের কার্যকলাপ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশে। এর জেরে খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না আওয়ামীলীগ, সেটা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। বিএনপির অবস্থানটা ঠিক কি? এখনও কি তারা আশায় আছে, বাংলাদেশে নির্বাচন হবে? অন্যদিকে ছাত্র নেতাদের নেক্সট টার্গেট কি? রাষ্ট্রপতি অপসারণের দাবি? সংবিধান বদল? যেভাবে তাদের দাবি মানা হচ্ছে, এই দাবিও কি মানবে সরকার? বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের কি ভূমিকা এই মুহূর্তে? উঠে আসছে প্রশ্ন।
যেভাবে ছাত্রনেতা বা রাজনৈতিক দলের একের পর এক দাবি মেনে নেওয়া হচ্ছে সরকারের তরফে, তাতে এটা স্পষ্ট, বাংলাদেশের সরকার এবং ছাত্র নেতারা যৌথভাবে একটা করে নতুন প্লট তৈরি করছে বাংলাদেশে। শেখ হাসিনার পতনের পর থেকেই আওয়ামীলীগের নিষিদ্ধ ঘোষণা করার দাবি তোলা হচ্ছিল বাংলাদেশের অন্দরে। আর সেটাও শেষমেষ বাস্তবিক রূপ পেল। ছাত্রলীগকে আগেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। দাবি থেকে জোরালো দাবি, আর তাতেই মেনে নিল ইউনূসের সরকার। এবার তাদের পরবর্তী পরিকল্পনা কি? রাষ্ট্রপতি অপসারণ? শেখ হাসিনার জমানার পতন হতেই, তার আমলে হওয়া সব কিছুই সংশোধন করার দাবি উঠেছিল ছাত্রদের তরফে। তার মধ্যে ছিল রাষ্টপতির শাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে সরিয়ে দেওয়া। কিন্তু এতে সায় দেয়নি বিএনপি’র মত রাজনৈতিক দল। বাদ ছিল না সংবিধানও। সংবিধান সংশোধনের একাধিকবার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয় ছাত্র নেতারা। তবে কি এবার পরবর্তী টার্গেট রাষ্ট্রপতি অপসারণ বা সংবিধান সংশোধনের? যদিও এগুলির কোনওটাই বিএনপির সমর্থন ছিল না। এমনকি অনেকে মনে করেন, বিএনপি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দল হিসেবে চাই না আরেকটি বৃহত্তর দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হোক। মূলত বিএনপির নির্বাচন হোক। কারণ এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ তেমনভাবে সক্রিয় নয়। ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দলও সাধারণ মানুষের আস্থাভাজন হয়ে উঠতে পারেনি এখনও পর্যন্ত। এছাড়াও অন্যান্য দলগুলি খুব একটা গ্রহণযোগ্য নয় বাংলাদেশের অন্দরে। কাজেই বিএনপির ক্ষমতায় আসার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কি আদৌ হবে বাংলাদেশে?
অনেকেই বলছেন, বাংলাদেশ এই মুহূর্তে সরকারের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে না। রিমোট কন্ট্রোল এর মাধ্যমে বৃহত্তর শক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। এই মুহূর্তে কোথায় বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান? গত ২৫ শে ফেব্রুয়ারি সেনাপ্রধান যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, যে বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে রেখাপাত সৃষ্টি করেছিল, তার বাস্তবিক রূপ কোথায়? তিনি বলেছিলেন, তার জীবনের অন্য কোন টার্গেট বা লক্ষ্য নেই। তিনি একটি অবাধ সূত্র নির্বাচনের মাধ্যমে গোটা দেশকে গণতান্ত্রিকভাবে ফিরিয়ে আনতে চান, সেটাই তার লক্ষ্য। নির্বাচন অবশ্যই অবাধ সুষ্ঠু এবং ইনক্লুসিভ হবে। তার মধ্যে যে আওয়ামী লীগ ও থাকতে পারে, সেটাই স্বাভাবিক হিসেবে ধরা হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামীলীগ নিষিদ্ধ হবার পর সেনাপ্রধানের ইচ্ছে বা লক্ষ্য কোনইটি তেমনভাবে পূরণ হবে না। তবে এখনো বাংলাদেশের মানুষ সেনা বাহিনীর দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। ২০২৪ এর ৫ই আগস্ট যেভাবে বাংলাদেশ উত্তাল হয়েছিল, সেখানে সেনাপ্রধান বা সেনা বাহিনী না থাকলে বিপদ নেমে আসত বাংলাদেশে। সেটা মানেন অনেকেই। এখনো সেনাবাহিনীর দিকেই তাকিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ।
অন্যদিকে আরও একটি আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে তা হল, বাংলাদেশ কি পরবর্তী আফগানিস্তান হতে চলেছে? কারণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অন্দর থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে না। বৃহত্তর শক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে সেটা বারবার প্রমাণিত। মায়ানমারকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের খেলা অস্বীকার করা যাচ্ছে না। রাখাইন অঞ্চলে সহায়তা পাঠানোর জন্য বাংলাদেশকে মানবিক হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া, একটা বড় ভুল সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়েই বৃহত্তর খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। পরবর্তীকালে একটি প্রক্সি ওয়ারে জড়িয়ে যেতেও পারে বাংলাদেশ। সেই আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখন দেখার, সমস্ত নীরবতা কাটিয়ে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের হাত থেকে গোটা দেশকে বাঁচাতে পারেন কিনা!











Discussion about this post