গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের হাল ধরতে গঠন অন্তর্বর্তী কালীন সরকার। তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মহম্মদ ইউনূসের কাঁধে। কিন্তু তিনি সরকার চালাতে যে ব্যর্থ, সেটা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। কখনো দেশে কখনো আবার বিদেশেও। কেউ কেউ আবার বলছেন, বিদেশেও মহম্মদ ইউনূসের সরকার বেকায়দায়। তারপরও কি করে টিকে রয়েছে এই সরকার?
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, ইউনুস সরকারের পায়ের তলার মাটি নেই। দেশে যেমন ভয়ংকর অবস্থা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের, ঠিক তেমনই বিদেশের মাটিতেও বেকায়দায়। জানা যাচ্ছে, ঢাকার বিদেশ মন্ত্রণালয় কার্যত অভিভাবক শূন্য। একটি দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিদেশে বেশি কাটান বলে শোনা যায়। আর সেই কারণেই বাংলাদেশের ঘটে চলা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় তাকে দেখা যায় না। এদিকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সরকার। দেশীয় ভাবেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সরকার।
সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার যুক্তরাজ্য সফরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে দেখা যায়নি। পররাষ্ট্র ভারপ্রাপ্ত সচিব ছিলেন। চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের নজিরবিহীন বৈঠক। বৈঠকটিতে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিবের যোগদান বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা ছিল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একজন প্রভাবশালী উপদেষ্টা। বিদেশে থাকা পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ওই উদ্যোগের বিষয়ে জানতেন। তবে তিনি রহস্যজনকভাবে এই নিয়ে নীরবতা পালন করেন। অথচ এটি ছিল একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত। সেখানে তিনি অনুপস্থিত।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরকারের অন্য মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা দফতর থেকে একটু আলাদা। এই মন্ত্রণালয়ে পদোন্নতিতে বরাবরই দক্ষতা ও পেশাদারিত্বকে মূল্যায়ন করা হয়। ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা কারও জন্য বাধা বা আশীর্বাদ হয়নি। কিন্তু নানা কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মাঝে পারস্পরিক অবিশ্বাস বেড়েছে। যা কাজের পরিবেশকে খারাপ তৈরি করছে। তাই দেশের মঙ্গলের জন্য এই দফতরটির দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। যাতে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ প্রতিটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে এবং সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পারে। বলছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।












Discussion about this post