প্রায় দশ মাস হতে চলল, বাংলাদেশে গঠিত হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যার নেতৃত্বে রয়েছেন মোহম্মদ ইউনূস। কিন্তু কিসের ভিত্তিতে এই অন্তর্বর্তী কালীন সরকার গঠিত হল? আদেও কি এর সাংবিধানিক মর্যাদা রয়েছে? আদেও কি সংবিধান মেনে এই সরকার গঠিত হয়েছে? উঠছে প্রশ্ন। আরও বেশি করে এই প্রশ্নগুলো উঠে আসছে, যেখানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে।
গত বছরের ৮ই আগস্ট নোবেল জয়ী মহম্মদ ইউনুস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হয়ে শপথ নেন। এমনকি বঙ্গ ভবনে শপথ গ্রহণ করেছিলেন সংবিধান মোতাবেক এবং তারা সংবিধান রক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশে একটি অন্তর্ভুক্তি কালীন সরকার গঠিত হয়ে যেতে পারে কিভাবে? কারণ অন্তর্বর্তী কালীন সরকার গঠন হওয়ার কোনও আইন সংবিধানভুক্ত ছিল না। অর্থাৎ সংবিধানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বলে কিছু ছিল না। তাহলে সেই সরকার এখন কিভাবে? আসলে তখন বলা হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্ট যাদের সংবিধানের রক্ষক বলা হয়, সেই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ প্রধান বিচারপতি ওবাইদুল হাসান এর নেতৃত্বে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে যে এখন যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তাতে দেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে। সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে, যেহেতু রাষ্ট্রপতি যেকোনও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপিল বিভাগের মতামত চাইতে পারে, তাই তিনি এক্ষেত্রে মতামত চেয়েছিলেন। এই ১০৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যদি কোনও সময় রাষ্ট্রপতি নিকট প্রতীয়মান হয় যে আইনের এইরূপ কোনও প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে বা প্রশ্ন উত্থাপনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, যে এমন ধরনের বা এমন জন গুরুত্বপূর্ণ যে সুপ্রিম কোর্টের মতামত গ্রহণ করা প্রয়োজন, তাহলে রাষ্ট্রপতি আপিল বিভাগে বিবেচনার জন্য প্রেরণ করতে পারবেন। এবং আপিল বিভাগ বিবেচনায় উপযুক্ত শুনানির পর প্রশ্নটির সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে সে ওই মতামত জ্ঞাপন করতে পারবেন।
কিন্তু সেই সময় সাধারণ জনগণের কাছে এ বিষয়টি এমন ভাবে উত্থাপিত করা হলো, তখনকার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এর নেতৃত্বে আর আপিল বিভাগের আরো ছয় সদস্যের বিচারপতি সম্মিলিতভাবে ঠিক করেছেন, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে। যে তথ্য সামনে এসেছে সেটা অত্যন্ত ভয়ংকর। প্রধান বিচারপতি এবং আপিল বিভাগের আর এক বিচারপতি প্রাণ ভয়ে এবং মব জাস্টিসের ভোট ক্যান্টনমেন্টে ছিলেন। এখানে প্রশ্ন উঠছে, সেই বিচারপতিরা যদি ক্যান্টনমেন্টে থাকেন, তবে কিভাবে কোন শুনানির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল! শুধু তাই নয় ৮ই অগাস্টের পর অর্থাৎ ৯ ই আগস্ট ফের উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হল। প্রধান বিচারপতি সহ আপিল বিভাগের সমস্ত বিচারপতিকে পদত্যাগ করতে হবে। সেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তারপরই আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতি পদত্যাগ করেন। অন্যদিকে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান জানিয়ে দেন, সুপ্রিম কোর্টের বিল্ডিং গুলি রক্ষা করা, বিচারপতিদের শারীরিক হেনস্থা থেকে রেহাই পাওয়া, তাদের বাড়িঘর বাঁচানো.. এই সমস্ত কিছু থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্যই আমার এই পদত্যাগ। তারপরে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ হলেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ। অর্থাৎ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পিছনে বাংলাদেশের জনগণকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। এখানেই প্রশ্ন ওঠে, অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের কি কোনো রকম সাংবিধানিক বৈধতা রয়েছে? যারা এই সরকার গঠন করলেন, তাদের কি কোনও দায় নেই সাধারণ জনগণকে জানানোর, যে তারা কিসের ভিত্তিতে এই সরকার গঠন করলেন!












Discussion about this post