এই মুহূর্তে বাংলাদেশে জনভিত্তি আছে এমন দুটি রাজনৈতিক দল হল জামাত ও বিএনপি। জামাত একটি জোট করে আন্দোলন করছে। এই পরিস্থিতিতে জামাতকে যেমন উপেক্ষা করা যাচ্ছে না, ঠিক তেমনই বিএনপিকেও না। রাজনৈতিক দলগুলিকে বলা হয়েছিল, তারা যেন নিজেরা সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সেটা হয়নি। আসলে কথা হচ্ছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে। অবশ্যই তার সঙ্গে রয়েছে গণভোটও। এখন প্রতিটি রাজনৈতিক দল এই বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কোর্টে বল ঠেলে দিয়েছে। প্রত্যেকেই মুহাম্মদ ইউনূসের দিকে তাকিয়ে। অনেকে বলছেন, এই পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে প্রধান উপদেষ্টা। কেউ কেউ আবার প্রশ্ন তুলছেন, আসলে ইউনূস কাকে খুশি করতে চেয়ে কাকে করলেন বলির পাঁঠা?
গণভোট ঠিক কখন হবে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ নিয়ে মতভেদ নিরসনে রাজনৈতিক দলগুলিকে অন্তবর্তী সরকারের তরফে বলা হয়েছিল, নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে। সিদ্ধান্তের কথা জানাতে এক সপ্তাহ বেঁধে দেওয়া হয়েছিল অন্তবর্তাকালীন সরকারের তরফে। আজ শেষ হল সেই সময়সীমা। তবে সিদ্ধান্ত তো দূর, একসঙ্গে আলোচনাতেই বসতে পারেনি রাজনৈতিক দলগুলি। উল্টে, বিএনপি, জামাত এবং এনসিপির মতবিরোধ আরও প্রকাশ্যে এসেছে এই কয়েকটা দিনে। বিএপি বলেছে, তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এর আগে গত ২৮ সেপ্টাম্বর বহু আলোচিত জুলাই সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নের উপায় সম্পর্কিত সুপারিশ অন্তবর্তাকালীন সরকারের কাছে হস্তান্তর করে জাতীয় ঐকমত কমিশন। নির্বাচনের সময়, সুপারিশের সঙ্গে যুক্ত করা সনদ থেকে নৌট অব ডিসেন্ট তুলে দেওয়া, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং ২৭০ দিনের মধ্যে সংস্কার না হলে প্রস্তাব-সহ সংবিধানে যুক্ত করে যাওয়ার সুপারিশ-সহ কয়েকটি ইস্যুতে দলগুলির মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা যায়। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর আলোচনা হয় উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে। এরপরই আলোচনা হয়, সমস্ত রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছবে। কিন্তু বাস্তবে আরও জটিলতা তৈরি হয়েছে। জানা যাচ্ছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যে নির্দেশিকা ঐকমত কমিশন দিয়েছে, তাতে মোট পাঁচটি ইস্যুতে দলের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এখন এই বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যা স্বাভাবিকভাবেই আরও বিরোধ তৈরি করবে। অনেকে বলছেন, আসলে প্রধান উপদেষ্টা কাকে বাঁচাতে চাইলেন? যে কারণে তাঁকে বলি হতে হচ্ছে? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের এই পরিস্থিতি ইউনূস নিজেই ডেকে নিয়ে এসেছেন। তার কারণ, সুশিলা কার্কির মতো যদি দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যে সংস্কারের প্রস্তাব দিতেন রাজনৈতিক দলগুলিকে, তাহলে পরিস্থিতি এত জটিল হত না। আগামী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন ঘোষণার কথা জানালেও এই পরিস্থিতির সন্মুখীন হতে হত না। এদিকে সময় যত গড়িয়েছে,ততই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। ক্ষমতা হাতে নেওয়ার জন্য সমস্ত রাজনৈতিকদলগুলি মরিয়া হয়ে উঠেছে। আওয়ামী লীগও মাথা চারা দিয়ে উঠেছে। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে না পেরে, সবকিছু দায় আওয়ামী লীগ এবং ভারতের উপর দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু যদি সুষ্ঠভাবে নির্বাচন না দিতে পারে অন্তবর্তাকালীন সরকার, তাহলে সাধারণ মানুষ ছেড়ে দেবে না বলে মত ওয়াকিবহল মহলের। এখন দেখার, সময় এগিয়ে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।












Discussion about this post