দিন যত এগোচ্ছে পিঁয়াজের খোসার মতন ইউনূসের উদ্দেশ্য খুলছে। একটি দেশ তার সংবিধান নির্ভর করে সেই দেশের সাধারণ জনগণকে কেন্দ্র করে। সেখানে বসবাস করতে পারে শিক খ্রিস্ট হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ অথবা জৈন। এমনই এক সুষ্ঠু দেশের উল্লেখযোগ্য নিদর্শন ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু কালের নিয়মে আজ সেই দেশের অবস্থান বদলেছে সেই দেশের শাসকভার বদলেছে। বদলেছে পরিস্থিতি। শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের পতনের পর সেই দেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন মুহাম্মদ ইউনূস। দেশের সেনাপ্রধান এবং তার বাহিনী ও ছাত্রদলের ঠিক করে দেওয়া শান্তিতে নোবেল প্রাপকের ঘাড়েই চাপে সুষ্ঠুভাবে দেশ চালানোর দায়িত্ব। ক্ষমতায় আসার দেড় বছরের মাথায় আসলে বাংলাদেশ যে খাল কেটে কুমির এনেছে তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। ঠিক নির্বাচনের প্রাক্কালে একটি সংস্থার রিপোর্ট মোঃ ইউনুসের গুপ্ত উদ্দেশ্য প্রকাশ্যে বার করে হাটে হাড়ি ভেঙে দিলেন।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান সহিংসতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি ইউনূসের রাজত্ব ভারে এক নিরবচ্ছিন্ন চক্র। মানবাধিকার সংস্থা HRCBM-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমনই কিছু হাড়হিম করা তথ্য। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের আগে অর্থাৎ ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা থেকে শুরু করে ১৯৫০, ১৯৬৪ এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন বর্বরতা-বারবার সংখ্যালঘুরা লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন।উচ্ছেদ, সম্পত্তি দখল এবং পরিকল্পিত হত্যালীলা যেন এক নিয়মিত অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। যার নতুন সংযোজন মোঃ ইউনূসের রাজত্বের বাংলাদেশ। তবে কি বাংলাদেশে ইউনুস সংখ্যালঘু হিন্দু উচ্ছেদ করাতে বদ্ধপরিকর হয়েছেন। চিন্ময় প্রভু দিপু দাস ও সমীর কুমার দাস প্রত্যেকের সাথে ঘটে চলা প্রতিটা পদক্ষেপ এক একটি ইউনূসের উদ্দেশ্যের প্রতিচ্ছবি মাত্র।
সংস্থার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত বিশেষ করে ১৯৮৯, ১৯৯০, ২০০১, ২০০৪, ২০১২, ২০১৫, ২০২১ এবং সাম্প্রতিক ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ঘটে যাওয়া বড় মাপের হামলার ঘটনাগুলো রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে গভীর ক্ষতের মুখে বারবার পড়েছে বাংলাদেশের বসবাসকারী সংখ্যালঘু হিন্দুদের। পরিসংখ্যান বলছে, মোট মৃত্যুর ৪৮.৩% ক্ষেত্রে শিকার হয়েছেন ‘টার্গেট কিলিং’-এর। এছাড়া গণপিটুনিতে ১০.৩%, সন্দেহজনক মৃত্যু ১২.৯% এবং পুলিশি হেফাজতে ৬.৯% মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতেও ৮.৬% মৃত্যুর রেকর্ড রয়েছে। যা বাংলাদেশে বসবাসকারী সংখ্যালঘু হিন্দুদের জন্য এক আতঙ্কের নিদর্শন গড়ে তোলে। সংস্থাটির মতে, ১৯৪৬ সালে এই ভূখণ্ডে সংখ্যালঘু জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৩০%, যা ২০২০ সালে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯%-এর নিচে। এই জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন প্রমাণ করে যে, কাঠামোগত বৈষম্য ও দীর্ঘমেয়াদী নিপীড়নের ফলে একটি পুরো সম্প্রদায়কে অস্তিত্ব সংকটের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এই রিপোর্ট পরিষ্কার করে জানিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশে কিভাবে কি হারে কমতে চলেছে সে দেশের বসবাসকারী সংখ্যালঘু হিন্দুদের বাস। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দীপু চন্দ্র দাসের উপর অবনীলায় গণপিটুনির ঘটনাটি এই অরাজকতার এক চরম উদাহরণ। এই সপ্তাহের মধ্যেই ঘটে যাওয়া হিন্দু গরিব অটোরিকশাচালক সমীর কুমার দাসের উপর হত্যার ঘটনা আবারও প্রমাণ করে দেয় ইউনূসের রাজত্বে নিরাপদে নেই পদ্মাপাড়ের বসবাসকারী হিন্দুরা। ধর্মীয় অবমাননার ঠুনকো অভিযোগে জনতার হাতে তার মৃত্যু হলেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েও পুলিশ সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নেয়নি।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি অপরাধীদের আরও সাহসী করে তুলছে। রাজনৈতিক প্রভাব এবং পুলিশের অনাগ্রহের কারণে অনেক ক্ষেত্রে মামলা পর্যন্ত হয় না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো, যারা প্রায়ই তাদের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়েছে, তারা আজ চরম দারিদ্র্য ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এই মানবিক বিপর্যয় রুখতে এখনই কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
খুব স্বাভাবিক ভাবেই বাংলাদেশের এই চরম পরিস্থিতির জানান দিচ্ছে আগামী দিনে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ আসলেই স্বাধীনতার পূর্বের পূর্ব পাকিস্তানেই ফিরতে চলেছে। আর তা ইউনূসের হাত ধরেই।
আশঙ্কা ছিলই। আর সেটাই সত্যি হল। এনসিপিতে ভাঙন লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এখন সেটা স্পষ্ট। এনসিপি থেকে নতুন রাজনৈতিক দলের জন্ম...
Read more












Discussion about this post