জুলাই-অগাস্টের পর শুক্রবার বাংলাদেশের মাটি আরও একবার থরথর করে কেঁপে উঠল। ওই দিন সকাল সাড়ে ১০টার কিছু পরে আচমকা কেঁপে ওঠে পায়ের মাটি। কম্পন হয়েছে শনিবারেও। এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ১০ জন। আহত হয়েছেন শতাধিক।
বস্তুত বাংলাদেশ গত ১৪ মাস ধরে একাধিকবার কেঁপেছে। আর আফটারশকগুলি কিন্তু কম শক্তিশালী নয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে যেদিন হাসিনার প্রথম সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়, সেদিন থেকে কম্পনের সূত্রপাত। আর গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার আগের দিন থেকেই বাংলাদেশে মাটি কাঁপতে শুরু করে। এখনও সেই কম্পন বন্ধ হয়নি। প্রতিটি কম্পন এবং সেগুলির আফটারশকের জোর কত, বাংলাদেশ বিগত মাস ধরে তা দেখেছে। সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের দিল্লি সফরের কথাই ধরা যাক। যেদিন আসার কথা ছিল, তার একদিন আগে তিনি দিল্লি চলে এলেন। দিল্লিতে এসে তিনি বৈঠক করলেন সাউথব্লকের জেমস বন্ডের সঙ্গে।
যেদিন ইউনূসের সঙ্গে সে দেশের বাহিনীর তিন প্রধান বৈঠক করেন, সেদিনও বাংলাদেশে থরহরি কম্প লেগে যায়। ইউনূসের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেয় বাহিনীর একটি সিদ্ধান্ত। সেদিন তদারকি সরকারের প্রধানকে বলা হয়েছিল, ৫০ সদস্যকে ব্যারাকে ফিরিয়ে আনা হবে। সেই সিদ্ধান্তে যমুনাবাসীর মাথায় বাজ ভেঙে পড়ে। ফলে, বাংলাদেশে আগামীদিনে আর কতবার ভূমিকম্প হবে সেটা কোনও জ্যোতিষিও বলতে পারবেন না। হাওয়া অফিস তো পরের কথা।
আসলে সেকেন্ডে সেকেন্ডে বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যাচ্ছে। যেদিন এই প্রতিবেদন লেখা চলছে, সেদিন জানা গেল জামাত, মৌলবাদী শক্তি এবং ইউনূস কোণঠাসা করতে বিএনপি আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের হাত ধরবে। ঘটনার ঘনঘটায় লেখকেরাও খেই হারিয়ে ফেলছেন। তাঁরা বুঝতেই পারছেন না কোন গল্পের বিষয়বস্তু কি হবে। এদিকে, আবার শান্তিকাকু মানে, ইউনূস বলে ফেললেন ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে তৎকালীন মেজর এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। বলেছেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর অবদান স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। শুক্রবার ছিল বাংলাদেশের সেনাদিবস। পরে সেনাকুঞ্জে তাঁর সৌজন্যে একটি অনু্ষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমাদের বাহিনীকে সব দিক থেকে প্রস্তুত থাকতে হবে। আগামীদিনে দেশ বহিশত্রুর আক্রমণের মুখে পড়তেও পারে। ’
গত বছরের গণঅভ্যুত্থানে যাদের মৃত্যু হয়েছে, ইউনূস তাদের শহিদ আখ্যা দিয়েছেন। সেনাদিবসের অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে তদারকি সরকার বলেন,‘একই সঙ্গে আমি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি ২০২৪-য়ের জুলাই-অগাস্টে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের সকল শহীদ, আহত এবং অংশগ্রহণকারী সর্বস্তরের মানুষের প্রতি, যাঁদের দুঃসাহসিক আত্মত্যাগ আমাদের দেশ পুনর্গঠনের একটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। ’ তাঁর এই ভাষণ মন দিয়ে শুনেছেন স্থলসেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজজামান, নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
প্রশ্ন উঠতেই পারে, বাহিনীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তো সেনাকে নিয়ে কথা বলবেন। সেনার ভূমিকার কথা উল্লেখ করবে। তা নিয়ে প্রতিবেদনের কী প্রয়োজন? প্রয়োজন এই কারণেই যে ভদ্রলোকের নাম ইউনূস। আর তাঁর সঙ্গে বাহিনীর সম্পর্ক কেমন তা আর নতুন করে উল্লেখ করার দরকার হয় না। আসলে শিয়রে যে ভোট।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post