সম্মুখসমরে সেনা প্রধান ও প্রধান উপদেষ্টা। বাংলাদেশে বারংবার প্রকাশ্যে এসেছে অন্তর্দন্দ। বিভিন্ন মহলে এখন একটাই প্রশ্ন, জিতবে কে, প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস নাকি সেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান? তবে তারা কেউই রাজনীতির মানুষ নয়, তাই লড়াই এবার সমানে সমানে।
সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে দেশে নিজের ক্ষমতা ধরে রাখতে মরিয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস। তবে নির্বাচনের দাবি তুলে তার সেই পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে দেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। আর এই ঘটনা থেকে দুজনের মধ্যে শুরু দ্বন্দ্ব। সেখানেই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউনুস বা ওয়াকার কেউই রাজনীতির মানুষ ছিলেন না। একজন মূলত অর্থনীতিবিদ এবং বর্তমানে অনির্বাচিত সরকার হিসেবে দেশের দায়িত্ব পালন করছেন আরেকজন দেশের সেনা বাহিনীর প্রধান। আর এই দুই ব্যক্তিত্বের সম্পর্কই যে সবচেয়ে বেশি তিক্ত তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তা হয়তো কারোরই অজানা নয় বাংলাদেশে। আর তাদের সম্পর্কের সমীকরণ আজ কেন এই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে তার কারণও সকলেরই জানা।
দেখা গিয়েছিল বাংলাদেশের সরকার পতনের পর যখন দেশে অন্তর্ভুক্তি সরকার গঠন হয় তখন সেই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে মোহাম্মদ ইউনুসকে সেই পদে বসাতে চাননি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার জামান, তার যুক্তি ছিল মোহাম্মদ ইউনুস আজব সাজা প্রাপ্ত আসামি তিনি জামিনে মুক্ত, আর এই ধরনের একজন ব্যক্তিকে দেশের প্রধান হিসেবে বসানোটা দেশের জন্য ক্ষতিকর। আর এই বক্তব্য টি যখন প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুসের সামনে এসেছে তখন থেকেই ইউনুস চেয়েছে দুজন ব্যক্তিকে দেশ থেকে সরিয়ে দিতে এক রাষ্ট্রপতির শাহাব উদ্দিন চুপ্পু ও দ্বিতীয় ব্যক্তি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার জামান।
রাষ্ট্রপতিকে তার পর থেকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ হিসেবে বিভিন্ন মহলের তরফে দাবি করা হচ্ছে মোহাম্মাদ ইউনুছ পেয়েছিলেন রাষ্ট্রপতিকে যদি সরিয়ে দেওয়া যায়, তবে নতুন রাষ্ট্রপতির দ্বারা সেনাপ্রধান কে খুব সহজেই অপসারিত করা সম্ভব হবে। কিন্তু দেখা গেল রাষ্ট্রপতিকে তার পথ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের। মূলত বাংলাদেশের বিভিন্ন দলগুলি এই সিদ্ধান্তে সহমত পোষণ করেনি আর সবচেয়ে বড় বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপি তারা এই সিদ্ধান্তটি কে মেনে নিতে নারাজ যার ফলে এখনো পর্যন্ত সে দেশে রাষ্ট্রপতির পদে রয়েছেন শাহাবুদ্দিন চুপ্পু। আর এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি তিনিও স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন সেনাপ্রধান কে অপসারণ্যের বিষয়ে তিনি কোন রকম পরিকল্পনায় সায় দেবেন না।
কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস প্রাণপণে চান সেনাপ্রধান কে তারপর থেকে অপসারিত করে সেই পদে তার অনুগত কোন অফিসার সেই পদে নিযুক্ত হোক। এখন সাধারণ মানুষের কাছে গিয়েছে যেভাবে তাদের দুজনের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি দৃঢ় হচ্ছে তাতে দেশে ভয়ংকর কোন ঘটনা ঘটতে পারে। আর সেই ভাবে ইতিমধ্যেই অন্তরবর্তী সরকার ও তার দল গুটি সাজাতে শুরু করেছে সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে। ফাঁস হয়ে গিয়েছে ইউনুসের ষড়যন্ত্রের ব্লু প্রিন্ট! কি হতে চলেছে বাংলাদেশের অন্দরে ? উঠছে প্রশ্ন।
গতবছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ছন্নছাড়া বাংলাদেশের পরিস্থিতি। দেশ ছুড়ে হঠাৎ করেই কেন সেনাপ্রধানের গ্রেফতারী প্রসঙ্গ উঠে এসেছিলো , যা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বাংলাদেশের সংবিধানকে মুছে দিতে একের পর এক পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছে মহম্মদ ইউনুস। আর তার একটি অংশ হিসেবে দেশের সেনাপ্রধানকে বরখাস্ত করার পরিকল্পনাও তৈরি করে ফেলেছিল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। তবে সেই পরিকল্পনা একেবারেই নস্যাৎ হয়ে গিয়েছে। প্রকাশ্যে এসেছে ইউনূসের ষড়যন্ত্রের ব্লু প্রিন্ট!
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ক্যান্টনমেন্টে উত্তেজনার পর থেকে থমথমে পরিবেশ ক্যান্টনমেন্ট চত্বরে! সম্প্রতি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে তার পথ থেকে সরানোর জন্য প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস যে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল, এটিকে প্রতিহত করতে তৎপর ছিল সেনানিবাস।
সেনাবাহিনীর তৎপরতা এখন কোন ঠাসা পাকিস্তানি পন্থী সংগঠন গুলি। মূলত দেখা গিয়েছিল বাংলাদেশ জুড়ে সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস ও তার উপদেষ্টা মহল একটি গভীর ষড়যন্ত্রের সব কষা ছিল। ১০ই জুলাই, জুলাই আন্দোলনের ঘোষণাপত্র এর মাধ্যমে সংবিধানকে মুছে দিয়ে রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান কে তাদের পথ থেকে সরিয়ে দিয়ে, দেশে অন্য ক্ষমতা স্থাপন করে অর্থাৎ জঙ্গি ক্ষমতা দেশজুড়ে বহাল রেখে বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করতে উদ্যত ছিল ইউনুস প্রশাসন।
এরপর, মুহাম্মদ ইউনূসের শাসনকাল শুরু হওয়ার পরই দেখা গেল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়া হয়েছিল, সেই ক্ষমতা বারেবারে বৃদ্ধি করে আরও দুই মাসের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। অথচ সরকারের তরফে বিবৃতি জারি করে বাংলাদেশের পুলিশবাহিনীর হাত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কেঁড়ে নেওয়া হল। অর্থাৎ পুলিশের ক্ষমতা এবং সাহসিকতাকে মাটিতে মিশিয়ে দিতে উদ্যোগী হল ইউনূস সরকার। এখন প্রশ্ন উঠছে সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা আছে, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ নিরাপদ। তবে বিশ্লেষকরা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন কারণ, মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আড়াআড়ি বিভক্ত করে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু করে দিয়েছে। এখন এই গৃহযুদ্ধের কে জয়ী হয় তা সময়ই বলবে।












Discussion about this post