অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস “পাকাপোক্ত জামায়াত ইসলামের সঙ্গে যুক্ত”। এবং তিনি জামায়তের কৌশলগত কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছেন। এরকম দাবি, বাংলাদেশে বেশ কয়েকমাস আগে থেকেই উঠতে শুরু করেছিল। কেউ কেউ বলছেন, জামায়াত পরিকল্পিতভাবে কিছু তথ্য ব্যবহার করে নিজের লক্ষ্য হাসিল করতে চায়। মাঝে মাঝে প্রকাশিত কিছু তথ্য জনগণের কাছে নিরীহ মনে হয়, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি রাজনৈতিক কৌশল। সে যাই হোক, বাংলাদেশকে কার্যত জামায়তে ইসলামীর হাতে তুলে দেওয়ার বন্দোবস্ত প্রায় করেই ফেলেছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তা কতটা সম্ভব সেটাই এখন দেখার।
কিভাবে বাংলাদেশকে পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত করছে জামায়াত? বাংলাদেশকে উগ্র ইসলামিক দেশে পরিনত করতে পারলেই পুনরায় পাকিস্তান হয়ে যাবে, এটাই মূল লজিক। সেই কারণেই পরিকল্পিতভাবে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার চলছে বাংলাদেশে। পরিকল্পিতভাবে মব সৃষ্টি করে কোথাও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে আবার কোথাও গণধোলাই দিয়ে মানুষ হত্যা করে একটা আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে। আর ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সবসমই এই ঘটনাগুলি মবের নামে দোষ দিয়ে, হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের স্বতস্ফুর্ত ক্ষোভের নাম দিয়ে অস্বীকার করে এসেছে। ফলে জামাত-সহ তাঁদের সহযোগী কট্টরপন্থী সংগঠনগুলি এই মবকে নিয়ন্ত্রণ করতে সহজ হয়েছে। এরপরের ঘটনা আরও সহজ। বাংলাদেশে এবার পরিকল্পিত হিন্দু হত্যা শুরু হয়ে যায়। ইউনূসের বাংলাদেশে বিগত একমাসে নিহত ৪ জন হিন্দু নাগরিক। প্রথমে ময়মনসিংহ দিয়ে শুরু। ময়মনসিংহের হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে প্রথমে গণধোলাই দিয়ে তারপর গাছে বেঁধে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
কার্যত জীবন্ত জ্বলিয়ে দেওয়া হয়েছিল দীপুকে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রথমে তোলা হয়েছিল ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিষোগ। কিন্দু পরে পুলিশই স্বীকার করে এটা মিথ্যা রটনা। এরপর অশান্ত বাংলাদেশে অমৃত মণ্ডল এবং বজেন্দ্র দাস নামে দুই হিন্দু যুবককে খুনের অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ ঘটনা আরও নৃশংস। বর্ষবরণের রাতে বাংলাদেশে হিন্দু প্রৌঢ় খোকন দাসকে অকথ্য নির্যাতন চালিয়ে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে শেষ পর্যন্ত পুড়িয়ে খুনের চেষ্টা করে দুষ্কৃতীদের একটি দল। বাঁচার তাগিদে খোকন দাস পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পুকুরের জলে আগুন নিভলেও ততক্ষণে গুরুতর দগ্ধ খোকনের অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনদিনের মাথায় তাঁর মৃত্যু হয় খোকন দাসের। এই ঘটনা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যেকার সম্পর্ক আরও খারাপের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ভারতের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএল থেকে কার্যত বের করে দেওয়া হয় একমাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে। যা নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ব্যবসায়ী খোকনচন্দ্র দাস মৃত্যুর আগে কয়েকজনের নাম নাকি বলে গিয়েছিলেন। সোহাগ খান ও রাব্বি মোল্লা নামে দুজনকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে পলাশ সর্দার নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। দীপু চন্দ্র দাসের হত্যার পরও পুলিশ প্রথমে অন্য তত্ত্ব খাঁড়া করতে চেয়েছিল। খোকনের ব্যাপারেও তাই করে পুলিশ। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়া এবং ক্রমাগত আন্তর্জাতিক চাপের কাছে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারকে স্বীকার করতে হয় হিন্দু হত্যার বিষয়টি। পরস্পর এই ঘটনাবলি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। পাশাপাশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোও অভিযোগ তুলছে যে, মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। যদিও সরকারের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, তাঁরা সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এই আবহেই খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর জানাজায় অংশ নিতে আচমকা ঢাকায় পৌঁছে যান ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বিএনপি নেতা তথা খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন, কথা বলেন, জানাজায় অংশ নেন এবং সটান দিল্লি ফিরে আসেন। ভারতের বিদেশমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার মুখোমুখি হননি, বৈঠক তো দূরের কথা। যা কূটনৈতিক মহলে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে। অনেকেই মনে করছেন, মুহাম্মদ ইউনূসের এই সরকারকে কার্যত অস্বীকৃতি দিল ভারত। আর বাংলাদেশে পরবর্তী সরকারে বিএনপিকেই যে ভারতের পছন্দ সেটাও বুঝিয়ে দেওয়া হল। ফলে জামাতের সামনে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ যদি পাকিস্তান হয়ে যায়, তাহলে সবচেয়ে বেশি চাপ ভারতেরই। তাই ভারত এটা আটকাবেই।












Discussion about this post