মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনা। রাজনৈতিক এবং প্রশাসনের সব সিদ্ধান্ত যমুনা থেকেই যায়। শেখ হাসিনার জমানায় আসত বঙ্গভবন থেকে। অন্যদিকে রয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচন ছাড়াও গণভোট হবে। এত গুরুত্বপূর্ণ দুটি নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশ নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন ভিন্ন ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনির্বাচিত ইউনূস সরকার যা যা করছে তাতে কার্যত সায় দিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলি। ওয়াকিবহাল মহলের একটা বড় অংশের দাবি, মুহাম্মদ ইউনূস চাইছেন তিনি নিজেকে বাংলাদেশে স্থায়ী কোনও বন্দোবস্তের মাধ্যমে আরও কয়েকটা বছর রেখে দেবেন। এর জন্য তাঁর প্রয়োজন গণভোটে বিপুল পরিমানে “হ্যাঁ” সূচক ভোট পড়ুক। সেই চেষ্টা তিনি করছেন। কিন্তু একটা সন্দেহ তৈরি হয়েছে আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনার তরফে এই ভোট বয়কটের ডাক দেওয়ার পর। ফলে অনিশ্চিয়তা একটা আছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটের আগে গোলমাল পাকিয়ে ভোট বানচালের একটা প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। তাই রাজধানী ঢাকা ও কয়েকটি বড় শহর নতুন করে উত্তাল হতে শুরু করল। রাজনীতিতে ঐক্যমতের বদলে তৈরী হয়েছে অনৈক্য। বিএনপি জামাত এখন একে অপরকে টেক্কা দেওযার চেষ্টা করছে। যদি জামাত নির্বাচনে জেতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ফ্যামিলির নাম মনে রাখতে পারবে না। বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে জামাতের ওপর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। স্কুল কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় নানা জায়গায় ক্ষতি হয়েছে। একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করছে। কে জয়ী হবে সেটা তো ১২ তারিখে বোঝা যাবে। একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে আক্রমণ করছে। অনেকে ভেবেছিল ইউনূসের আমলে সভ্য এবং উন্নততর দেশ হবে। কিন্তু একেবারেই সেটা হয়েছে উল্টো। গত ১৭ মাসে মুহাম্মদ ইউনূস নিজের দলকে ভালোভাবে তৈরী করতে পারেনি। নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল সুষ্ঠ এবং অবাধভাবে। কিন্তু নির্বাচন আদৌ সুষ্টুভাবে হবে কিনা কেউ জানে না। যারা কখনও রাজনীতি করেনি তাদেরকে রাজনীতির সামনে নিয়ে আনা হয়েছে। তার ফলে কী হল একটার পর একটা বিপর্যয় হল। সেনাবাহিনী সরকারের বিপক্ষে গিয়ে কথা বলছে। এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৌবাহিনী বিশেষ পদক্ষেপ করতে চলেছে। তারা সাতটি যুদ্ধজাহাজ স্ট্যান্ডবাই রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হল, ভোটের সঙ্গে যুদ্ধজাহাজ স্ট্যান্ডবাই রাখার কি কোনও সম্পর্ক আছে? নৌসেনা কি মনে করছে বাংলাদেশ ভোটের দিন মায়ানমার সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে। ভারত বঙ্গোপসাগর দিয়ে এসেছে ভোটের দিন কোনও গোলমাল বাঁধাতে পারে? এদিকে, নতুন সিজিএস কে হবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। এই ইস্যুতে তদারকি সরকার প্রধান ইউনুস এবং তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে সেনাপ্রধান ওয়াকারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে।
একটি সূত্র বলছে, ওয়াকার ক্যান্টনমেন্টে ঘন ঘন বৈঠক করছেন। তিনি বলেছেন, ১২ তারিখের ভোট হবে অবাধ ও সুষ্ঠু। ভোটে কারচুপি রুখতে তাঁর ইউনিট সর্বোতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাবে। এখন প্রশ্ন, যে সেনা সব সময় চায় ক্ষমতা দখল করতে, সেই সেনার এমন কী হল যার জন্য তারা অবাধ ভোটের পক্ষে সওয়াল করছে? সূত্রটি বলছে, সেনাবাহিনী যে কোনও মূল্যে আওয়ামীকে প্রতিহত করতে চাইছেন। আওয়ামী লীগ যাতে কোনওভাবে ক্ষমতা দখল করতে না পারে, তার জন্য তিনি আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।












Discussion about this post