প্রিভেন্সন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট বা পিএমএলএ আইনের ১৯ নম্বর ধারাকে হাতিয়ার করে সারা দেশেই একের পর এক গ্রেফাতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট বা ইডি। বিরোধীদের দাবি, বিজেপির বিরুদ্ধে যারাই সরব হয়েছে, তাঁদেরই কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৬ মে, বৃহস্পতিবার এক যুগান্তকারী রায়ে এবার ইডি-র ডানা ছাঁটল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এই ধারার অধীনে ইডি চাইলেই আর কাউকে গ্রেফতার করতে পারবে না। বিশেষ আদালতে বিচারাধীন কোনও অভিযুক্তকে হেফাজতে নিতে হলে এবার থেকে লাগবে অনুমতি। তারপর গ্রেফতার করার প্রশ্ন। অর্থাৎ কোনও অভিযুক্ত যদি বিশেষ পিএমএলএ কোর্টে বিচারাধীন থাকেন, তবে তাঁকে কোর্টের অনুমতি নিয়ে সমন পাঠাতে হবে। যদি সমনে সাড়া দিয়ে তিনি হাজিরা দেন, তবে আদালতের অনুমতি নিয়েই গ্রেফতার করতে পারবে ইডি।
লোকসভা ভোটের মুখে ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেফতার করেছে ইডি। যা নিয়ে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি। কেন্দ্রের বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি একযোগে অভিযোগ করছে, বিরোধীদের জব্দ করতেই ইডি-সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে ব্যবহার করছে বিজেপি। আর ইডি তহবিল তছরূপ বা পিএমএলএ আইনের ১৯ নম্বর ধারাকে হাতিয়ার করে একের পর এক বিরোধী নেতা-নেত্রীকে গ্রেফতার করছে। যদিও বিজেপির দাবি, ইডি-সিবিআই বা আইএনএ স্বশাসিত সংস্থা। বিভিন্ন দুর্নীতির তদন্তের স্বার্থেই এই গ্রেফতারি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এবার সেই ইডি-র ক্ষমতাতেই রাশ টানল।
একটি মামলার রায় দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অভয় এস ওকা এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভয়ানের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, “যদি এক জন অভিযুক্ত সমনে সাড়া দিয়ে আদালতে হাজির হন, তবে তাঁকে গ্রেপ্তার করার জন্য ইডিকে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করতে হবে”। সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত সমন পেয়ে যদি সময়মতো হাজিরা দেয়, তাহলে আলাদা করে জামিনের আবেদনও করতে হবে না। প্রসঙ্গত, পিএমএলএ আইনের ১৯ নম্বর ধারায় বলা আছে, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে যদি ইডি আধিকারিকদের হাতে যথেষ্ট উপাদান থাকে এবং সে দোষী বলে বিশ্বাস করার মতো কারণ থাকে (লিখিতভাবে জানাতে হবে), তাহলে তাকে গ্রেফতার করতে পারবে ইডি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পর আর এই ধারায় কাউকে চাইলেই গ্রেফতার করতে পারবে না।












Discussion about this post