ভারত-পাক সম্পর্ক যেন যুদ্ধের সম্মুখীন!চলছে প্রত্যাঘাত পাল্টা প্রত্যাঘাত। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার জবাবে মঙ্গলবার মধ্যরাতে পাকিস্তানে প্রত্যাঘাতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করেছে ভারত। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে এখনও জারি রয়েছে অপারেশন সিঁদুর। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই পাল্টা হামলার ছক শুরু করে পাকসেনা, তবে একলহমায় সেই হামলাকে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিল ভারতীয় সেনা। আর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাতের আবহে সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে জরুরি অবস্থাকালীন ক্ষমতা বলবৎ করার নির্দেশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের।
‘জরুরি অবস্থা বলবৎ রাখুন’, নির্দেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ এর মন্ত্রকের। ভারত পাকিস্তানের সম্পর্কের তিক্ততা যখন ধীরে ধীরে দৃঢ় হচ্ছিল তখন সর্বদল বৈঠকের মাধ্যমে শাসক সহ তৃণমূল থেকে কংগ্রেস সকল বিরোধী দলগুলি ঐক্য বদ্ধ হয়ে এই জরুরী পরিস্থিতিতে কাজ করার বার্তা দিয়েছিল। এবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের প্রত্যাঘাত ও পাকিস্তানের পাল্টা প্রত্যাঘাতের পরিস্থিতিতে সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে জরুরী অবস্থা বহাল রাখার নির্দেশ দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানে বিধ্বংশী হামলা চালানোর পর শুক্রবার দেশের সব রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির প্রশাসক দের চিঠি পাঠিয়ে এমনটাই বার্তা দিল ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৯৬৮ সালের অসামরিক প্রতিরক্ষা বিধির ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী ‘জরুরী অবস্থা’ বলবৎ করার আবেদন জানানো হচ্ছে। যুদ্ধ বাধলে বিধি অনুযায়ী জরুরী পদক্ষেপ নিতে উদ্যত থাকতে হবে।
উল্লেখ্য, সাধারণত যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো জরুরি পরিস্থিতিতে ওই বিধি মেনে জনগণকে রক্ষা করা, সম্পত্তির সুরক্ষা এবং বিদ্যুৎ, জল ও পরিবহণের মতো প্রয়োজনীয় পরিষেবা চালু রাখার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ করার ক্ষমতা পায় রাজ্য।
১৯৬৮ সালের,অসামরিক প্রতিরক্ষা বিধির ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী যে ক্ষমতাগুলি পায় রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি সেগুলি মূলত,জনগণ এবং সম্পত্তি রক্ষা করতে প্রয়োজনমতো জরুরি পদক্ষেপ করতে পারবে রাজ্য।
যুদ্ধের আবহে,জরুরি পরিস্থিতিতেও যাতে জল, বিদ্যুৎ, হাসপাতাল পরিষেবার মতো জরুরী পরিষেবা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল থাকে, তার জন্য যে কোনও পদক্ষেপ নিতে সচেষ্ট থাকবে সমস্ত রাজ্য।
এছাড়াও অসামরিক প্রতিরক্ষার জন্য যদি কোনও সরঞ্জাম আমদানি করার প্রয়োজন পড়ে, সে ক্ষেত্রে কোনও এমন নিয়ম প্রযোজ্য থাকবে না রাজ্যের উপর, যাতে গোটা জরুরী পরিস্থিতির বিষয়টিতে বিদম্ভ হয়। অর্থাৎ কোনও হামলার ঘটনা ঘটলে রাজ্যগুলি যাতে দ্রুত এবং সুষ্ঠু ভাবে যে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তা নিশ্চিত করতেই তাদের এই ক্ষমতা দিল কেন্দ্র।
প্রসঙ্গত বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে নয়াদিল্লিতে জোড়া বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। শুক্রবার সকালেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দিল্লিতে ভারতীয় সেনার তিন বাহিনীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পরই, সীমান্ত এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং সিআইএসএফের প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকেই ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে দুই দেশের বাহিনীই গোলাবর্ষণ চালাচ্ছে। একই সঙ্গে আকাশপথে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে ভারত পাকিস্তান। এই আবহে ভারতের সীমান্তে শুরু হয় কড়া নিরাপত্তা। শুধু তা-ই নয়, বিমানবন্দরের নিরাপত্তাও আগের তুলনায় জোরদার করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর বন্ধও করে দেওয়া হয়েছে। এই সব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই নিজের বাসভবনে জরুরি বৈঠক বসেন শাহ। অর্থাৎ দুই দেশের মধ্যে, যখন প্রত্যেঘাত পাল্টা প্রত্যাঘাত চলছে তখন সেনাবাহিনীর ভূমিকা কি হতে চলেছে এবং বিভিন্ন রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দৃঢ় করার ব্যবস্থা নিয়ে জরুরি বৈঠক হয় কেন্দ্রের শীর্ষ অধিকারিকদের মধ্যে।












Discussion about this post