আমেরিকার কোপে পাকিস্তান!ফের ভারতের প্রত্যাঘাত, বৃহস্পতিবার রাতেই ভারতীয় সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাকিস্তানের একের পর ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে ভারত। ভারত পাল্টা আক্রমণে পাকিস্তানের একের এক শহরকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রী সঙ্গে কথা বলে পাকিস্তানকে করা হুশিয়ারি দিল আমেরিকা। আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিও কড়া বার্তার পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তিরস্কার পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে।
অপারেশন সিঁদুর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের প্রত্যাঘাত, সেই প্রত্যাঘাত মেনে নিতে পারেনি পাকিস্তান। এরপরই ভারতের ওপর পাল্টা ড্রোন হামলা চালায় পাক সেনা। যদিও এবারও পাকিস্তানের এই হামলা সম্পূর্ণ অপচেষ্টায় পরিণত হল।ভারতের একের পর এক আঘাতে দিশাহারা পাকিস্তান, অন্যদিকে মুখ পুড়েছে চিনের। অন্যদিকে, ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে, আমেরিকার স্পষ্ট বার্তা, এখনই পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। জঙ্গিদের প্রশ্রয়, আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করতেই হবে সেই দেশকে।
পাকিস্তান বৃহস্পতিবার জম্মু, পাঠানকোট ও উধমপুরের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে যে কয়টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল, সবকটি সফল ভাবে ব্যর্থ করা ভারতীয় সেনা। ভারতীয় এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম আকাশেই সব পাকিস্তানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করে মাটিতে নামিয়ে এনেছে। এর পর থেকেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর হামলা শুরু করে ভারত। ভারতের পাল্টা হামলায় পুরো পাকিস্তান জুড়ে জারি ব্ল্যাকআউট। আর এই আবহেই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর কথা বললেন মার্কিন বিদেশসচিব রুবিওর সঙ্গে।
এস জয়শঙ্কর জানান, আমেরিকার বিদেশসচিব যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ভারতের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি, ভারতের সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার সদিচ্ছা প্রকাশ করেছে আমেরিকা।
অর্থাৎ বিদেশসচিব জানিয়েছেন, পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করা বন্ধ করতে হবে।
এর আগে আমেরিকার মার্কো রুবিও এস জয়শঙ্করের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। তিনি ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের মধ্যে দ্রুত উত্তেজনা কমানোর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছিলেন। এ সময় এস জয়শঙ্কর সীমান্ত পারাপার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের পদক্ষেপের কথা জানিয়েছিলেন।
পাকিস্তানের ওপর প্রত্যাঘাত প্রসঙ্গে ট্রাম্পের কথায়, এটি ‘টিট ফর ট্যাট’ অর্থাৎ আঘাত আর প্রত্যাঘাত করা হয়েছে। পাশাপাশি এবার তিনি আশা করেন যে দুই দেশই থেমে যাবে। সূত্রের খবর, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এও বলেছেন যে, তিনি যে কোনো ধরনের সহায়তা করতেও প্রস্তুত।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ভারত আর পাকিস্তানের সংঘাতের দিকে যুক্তরাষ্ট্র নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। তাছাড়া মার্কিন কর্মকর্তারা দুই দেশের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখছেন এবং ভারত ও পাকিস্তান যাতে ‘দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি স্থাপনের জন্য দায়িত্ব সহকারে সংঘাত মেটানোর’ চেষ্টা করে।
অন্যদিকে ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাতের আবহাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী দুই পদাধিকারীকে এখনো নিয়োগ করেনি ট্রাম্প প্রশাসন। দুই দেশেই যুক্তরাষ্ট্রের কোনো রাষ্ট্রদূত এখনো নেই। বলা হচ্ছে দুই দেশে অবস্থানরত রাষ্ট্রদূতরা এই মুহূর্তে চরম উত্তেজনার সময়ে স্থানীয়ভাবেই হস্তক্ষেপ করতে পারতেন।
অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ” আমরা এই দেশগুলিকে তো নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। মূলত, ভারতের পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যথেষ্ট অভিযোগ আছে। … আমরা যা করতে পারি, তা হল উত্তেজনা কিছুটা কমানোর কথা বলতে পারি। গতমাসে জেডি ভ্যান্স, তাঁর স্ত্রী উষা ভ্যান্স এবং তাদের তিন সন্তান নিয়ে ভারত সফরে এসেছিলেন । তখনই, ২২ এপ্রিল, জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে সন্ত্রাসবাদীরা ধর্ম বেছে বেছে ২৬ জনকে হত্যা করে। তারপরই উত্তেজনা চরমে ওঠে। জবাবে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে ভারত।
তবে সন্ত্রাসবাদে মদতদাতা পাকিস্তানকে আমেরিকার এই সতর্কবার্তা যদি না মেনে নেয় পাকিস্তান, তবে কি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বড় কোনও হুশিয়ারি আসতে চলেছে আমেরিকার তরফে?জল্পনা বিভিন্ন মহলে।












Discussion about this post