সেন্ট মার্টিন দ্বীপ নিয়ে বাংলাদেশে চর্চার অন্ত নেই। এই ছোট্ট প্রবাল দ্বীপ নিয়ে একটা সময়ে আমেরিকার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সব অভিযোগ করেছিলেন শেখ হাসিনা। পরবর্তীতে এই প্রবাল দ্বীপে বাংলাদেশিদের যেতে রেজিস্ট্রেশন লাগবে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। যা নিয়ে ছড়িয়েছিল বিভ্রান্তি। আর বর্তমানে প্রতিবেশী মায়ানমারের গৃহযুদ্ধের প্রভাব পড়েছে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে। বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া মংডু শহর দখল করেছে মায়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’। এর জেরে নাফ নদীতে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এদিকে বিগত বেশ কয়েকদিন ধরেই সীমান্তের ওপার থেকে উড়ে এসেছে বোমার আওয়াজ। এমনকী বিগত কয়েক মাসে বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি পণ্যবাহী জাহাজে গুলিও লেগেছে বলে অভিযোগ। তবে তাতে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে আপাতত নাফ নদী দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকলেও সমুদ্রপথে সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাওয়া যাচ্ছে। মায়ানমার জুড়ে চলতে থাকা গৃহযুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই রাখিন। যেখানে গণতন্ত্রপন্থী গেরিলা ও সংখ্যালঘু উপজাতির সস্ত্র বাহিনী স্বশাসনের দাবিতে দেশের সামরিক শাসকের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত। আং স্যান সু কি-র নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ২০২১ সালে ক্ষমতা দখল করে এই সামরিক শাসক। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত রাখিনের ১৭টি শহরের মধ্যে ১১টিতে নিয়ন্ত্রণ লাভ করে আরাকান আর্মি। এর একটি রয়েছে প্রতিবেশী চিন-সীমান্তবর্তী এলাকায়। গত ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে। বর্তমানে বাংলাদেশের ৩৩টি শিবিরে মোট ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করে বলে জানা গিয়েছে। তবে এখনও প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে থাকে। এরই মাঝে অভিযোগ উঠেছে, মংডু শহর দখলের পর থেকেই রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার শুরু করেছে আরাকান আর্মির সদস্যরা। যদিও মায়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে এরই মধ্যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, আরও রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। এর আগে রোহিঙ্গারা কক্সবাজার এলাকার বিশাল জায়গা জুড়ে রয়েছে। তাদের ‘দখলদারির’ জেরে কক্সবাজারের পরিবেশ দূষণ এবং অপরাধ বেড়েছে বলে অভিযোগ। অর্থ উপার্জনের জন্যে মাদক পাচার, মানব পাচার, অস্ত্র পাচারের মতো কর্মকাণ্ডে যুক্ত বহু রোহিঙ্গা। এই আবহে আরও বেশি সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকলে তা মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে মহম্মদ ইউনুসের জন্যে। এই আবহে বান্দরবান ও কক্সবাজার সীমান্তে টহল জোরদার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। এর অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ে সোচ্চার অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এর জন্য় কেন্দ্রীয় সরকার দায়ী বলে তিনি মনে করেন। শুক্রবার দিল্লিতে এজেন্ডা আজতক ২০২৪-এর মঞ্চে তিনি এমনটা বলেন। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘বাংলাদেশ সীমান্তে অবাধ চলাচল রয়েছে। কোনও বেড়া নেই। চার হাজার কিলোমিটার সীমানা রয়েছে, যার মধ্যে হাজার কিলোমিটারে কোনও পাঁচিলই নেই। যেখানে পাঁচিল আছেও, সেখানে দুটি বোর্ড বসিয়েই বেড়া টপকানো যায়। দেখার কেউ নেই।’ আপ নেতা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি গত ১৭ অগাস্ট, ২০২২-এ দু’টি টুইট করেছিলেন। এই টুইটে তিনি বলেছিলেন যে ভারত সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে রোহিঙ্গাদের EWS ফ্ল্যাট দেওয়া হবে এবং বাকারওয়ালায় বসতি স্থাপন করা হবে। তাঁদের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। ইউএন এইচসিআর আইডি দেওয়া হবে এবং সর্বক্ষণের পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হবে। এই টুইটে পিএমওকেও ট্যাগ করেছিলেন হরদীপ পুরি।’
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post