পাকিস্তানের কুখ্যাত গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। যারা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরেই ভারতকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত বহুবার ভারতে বড় ধরণের নাশকতার ছক হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটা সফলও হয়েছে। দিল্লি, মুম্বাই, ব্যাঙ্গালোরের মতো বড় শহরে বেশ কয়েকটা নাশকতামূলক ঘটনায় প্রবল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভারতে জঙ্গি অনুপ্রবেশ করানো নিয়ে কার্গিল যুদ্ধ হয়েছে। সব ক্ষেত্রেই পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-হাত রয়েছে বলে দাবি ভারতের। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে, বিশেষ করে মোদি জমানায় ভারত পাল্টা আক্রমণাত্মক নীতি নেওয়ায় পাকিস্তান ও তাঁদের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক অনেকটাই কোনঠাসা। এই পরিস্থিতিতে পাক গুপ্তচর সংস্থা চাইছে একটা নতুন ফ্রন্ট তৈরি করে ভারতকে পুনরায় অশান্ত করতে। আর বাংলাদেশে পালাবদলে এই সুযোগ তাঁদের সামনে চলে আসে। যদিও বাংলাদেশে শেখ হাসিনার পতনের পিছনে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপ স্টেস্ট যতটা কার্যকরী ছিল, ততটাই ছিল পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই।
সম্প্রতি ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এক চঞ্চল্যকর রিপোর্ট জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে। সূত্রের খবর, ওই রিপোর্টে এমন কিছু বিস্ফোরক তথ্য আছে যা নিয়ে চিন্তিত কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থার গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, বাংলাদেশের চট্টগ্রামে বসে ভারতে বড় ধরণের নাশকতার ছক কষেছে আইএসআই কর্তারা। দীর্ঘমেয়াদি ওই পরিকল্পনায় তাঁরা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যকে টার্গেট করেছে বলেও জানতে পেরেছে ভারতীয় গোয়েন্দারা। তাই রিপোর্ট হাতে পেয়েই কেন্দ্রীয় সরকার তড়িঘড়ি দিল্লিতে তলব করেছিল ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে। তাঁকে আসন্ন বিপদ সম্পর্কে সবিস্তারে জানানোর পাশাপাশি সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
জানা যাচ্ছে, পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শহীদ আমির আফসার এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। এই সফরটি এমন এক সময়ের মধ্যে হয়েছে যখন বাংলাদেশের এক সামরিক প্রতিনিধিদল রাওয়ালপিন্ডি সফর করছিলেন। তাঁরা পাকিস্তান সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং নৌবাহিনী প্রধানদের সাথে সাক্ষাতও করেন। অপরদিকে বাংলাদেশে তখন আইএসআই প্রধান বৈঠক করছেন বাংলাদেশের জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির প্রধানদের সঙ্গে। প্রায় দুই দশকের বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো আইএসআই আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে যায়। দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশের ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স বা ডিজিএফআই-এর একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান। ফলে বোঝাই যাচ্ছে বাংলাদেশ কিভাবে পাকিস্তানকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
ভারতীয় গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন আইএসআই শীর্ষ কর্তারা চট্টগ্রামে এক গোপন বৈঠক করেছেন। এও জানা গিয়েছে, চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে প্রশিক্ষিত জঙ্গি অনুপ্রবেশের ছক হয়েছে। উল্লেখ্য, মানচিত্র দেখলেই বোঝা যাবে ত্রিপুরা বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের কোলে অবস্থিত। সীমান্ত উঁচু পাহাড়ি এলাকা ও জঙ্গলময় হওয়ার ফলে বহু জায়গা অরক্ষিত। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আইএসআই ও বাংলাদেশী জঙ্গি সংগঠনগুলি সহজেই ভারতে জঙ্গি অনুপ্রবেশ করাতে পারবে। তাঁদের মূল টার্গেট ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্য বা সেভেন সিস্টার্স অশান্ত করা। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জরুরি তলব করে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন সফর থেকে ফিরতেই মানিক সরকার তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। ফলে বিষয়টি যে ভারত সরকার গুরুত্ব দিয়েই দেখছে সেটা পরিষ্কার। উল্লেখ্য গত জানুয়ারিতেই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্রুত বেড়ে চলা সামরিক সম্পৃক্ততা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছিলেন, “আমরা দেশজুড়ে এবং এই অঞ্চলে সমস্ত কার্যকলাপের উপর নজর রাখছি, সেইসাথে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে এমন সমস্ত কার্যকলাপের উপরও নজর রাখছি এবং সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নেবে”। এখন দেখার, বাংলাদেশ নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আশ্বাসবাণীর পর নরেন্দ্র মোদি কি পদক্ষেপ নেন।












Discussion about this post