বাংলাদেশে সহিংসতার শিকার হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুরা। এবার বাংলাদেশের এই পরিস্থিতি নিয়ে সরব হল আরএসএস। পড়শি দেশের হিন্দুদের বাঁচাতে অবিলম্বে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আর্জি জানানো হয়েছে ভারত সরকারের কাছে। এই নিয়ে আরএসএস সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলে একটি বিবৃতি জারি করেছেন। আরএসএসের তরফে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে যেভাবে হিন্দু সহ অন্য সংখ্যালঘুদের উপর কট্টরপন্থী ইসলামিক মৌলবাদীরা খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ চালাচ্ছে সেটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ এর নিন্দা করছে।’ পাশাপাশি এই নিয়ে কোনও পদক্ষেপ না করে ‘নীরব দর্শক’-এর ভূমিকা পালন করছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার, একথাও উল্লেখ করা হয়েছে। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা উল্লেখ করে আরএসএস বলেছে, ‘চিন্ময় কৃষ্ণ দাস শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিলেন। যেভাবে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে সেটা অন্যায়। সংঘ বাংলাদেশ সরকারের কাছে আর্জি জানাচ্ছে, দ্রুত হিন্দুদের উপর অত্যাচার বন্ধ হোক। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া হোক।’ বাংলাদেশের নিপীড়িত হিন্দুদের উপর হওয়া এই অত্যাচারের মোকাবিলা করতে ভারত সরকারের দ্রুত কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে আরএসএস। ওই বিবৃতিতে এনিয়ে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের হিন্দুদের উপর নির্যাতন রুখতে ভারত সরকারকে প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। একইসঙ্গে বিশ্বমঞ্চে এই নারকীয় অত্যাচারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে হবে। এই সংকটের সময়ে ভারত সহ সমস্ত আন্তর্জাতিক মঞ্চের উচিত বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ানো। বিশ্ব শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার জন্য সব দেশের সরকারের এগিয়ে আসতে হবে।’ একই সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রির বাংলাদেশ সফরের কথা ঘোষণা দিন ‘হিন্দু নিপীড়নের’ অভিযোগ তুলে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল আরএসএস। আর আজ তাদের হাইকমিশন ঘেরাও করার কথা রয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন’–এর বৈঠকে যোগ দিতে বিক্রম মিশ্রি ঢাকা যাচ্ছেন ৯ ডিসেম্বর। এর এক দিন পরই ১০ ডিসেম্বর ‘সিভিল সোসাইটি অব দিল্লি’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে বাংলাদেশ হাইকমিশন ঘেরাও করবে বলে জানানো হয়েছে। দিল্লি নাগরিক সমাজের ব্যানারে বাংলাদেশ হাইকমিশন ঘেরাওয়ের কর্মসূচি নেওয়া হলেও উদ্যোগটা প্রধানত আরএসএসের। রজনীশ শুক্রবার দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নাগরিক সমাজের এই কর্মসূচি ১০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস হিসেবে পালিত হয়। জিন্দাল অভিযোগ তুলে বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুসহ সব সংখ্যালঘুর ওপর অত্যাচারের ঘটনায় সারা ভারত ক্ষুব্ধ। ওই কর্মসূচিতে দেশের ২০০টির বেশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। বাংলাদেশ হাইকমিশনে তাঁরা এক স্মারকলিপি পেশ করবেন। স্মারকলিপি দেবেন জাতিসংঘ, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের কাছেও। প্রত্যেককে বলা হবে, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার বন্ধে তারা ব্যবস্থা নিক।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post