২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা দিয়ে যার শুরু। তারপর থেকেই ভারত ক্রমাগত সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়ে আসছিল। চরম পরিনতি দেখা গেল ৭ মে রাতে। অর্থাৎ পহেলগাঁও হামলার ১৫ দিনের মাথায়। ভারতীয় সেনা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির থেকে পূর্ণ স্বাধীনতা পেয়ে অপারেশন সিঁদূর বা এক পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৯ সালে বলেছিলেন ঘর মে ঘুসকে মারেঙ্গে। অনেকটা সেই ধাঁচেই এবার ভারতীয় সেনা অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে পাকিস্তানের মাটিতে ঢুকে পাকিস্তানের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি এবং পরবর্তী কয়েকটা মিশনে পাকিস্তানের সামরিক ও বিমানঘাঁটি কার্যত ধ্বংস করে আসে। তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হল, পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে নরেন্দ্র মোদি অপারেশন সিঁদূর পরিচালনা করার আগেই পাটনার এক জনসভা থেকে বলেছিলেন, আমার ওপর কারও ভরসা না থাকতেই পারে, কিন্তু ভারতীয় সেনার ওপর তো থাকা উচিৎ! কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমাদের বিরোধী দল মাঝেমাঝে সেনার ওপরেও প্রশ্ন তোলে।
৭ এপ্রিল মধ্যরাতে অপারেশন সিঁদুর শুরু করেছিল ভারতীয় সেনা। পরদিন সাংবাদিক বৈঠকে তাঁরা কিছু ভিডিও প্রমানের সঙ্গে ঘোষণা করে পাক অধিকৃত কাশ্মীর-সহ খোদ পাকিস্তানের মাটিতেই সামরিক অভিযান চালিয়েছে। তাতে অন্তত ৯টি জায়গায় বেশ কয়েকটি জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে একটি ছিল বাওয়ালপুর, যা ভারত-পাক আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার অভ্যন্তরে। অর্থাৎ এবার ভারতীয় সেনা সত্যিই পাকিস্তানের ঘর মে ঘুস কে মার আয়ে। আর পাকিস্তানি সেনা, আইএসআই কিছুই টের পায়নি বা প্রতিরোধ করতে পারেনি। এরপর থেকে পাকিস্তান সরাসরি ভারতকে আক্রমণ করে। ৮ মে রাত থেকে ভারতের জম্মু-কাশ্মীর, পঞ্জাব ও রাজস্থানের একাধিক এলাকায় ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালায় পাকিস্তান। কিন্তু ভারতের অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম প্রতিটি আক্রমণই প্রতিহত করে। উল্লেখ্য, সোমবার দু-দেশের ডিজিএমও পর্যায়ের বৈঠকের আগেই ভারতীয় সেনার তরফে এক সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, পাক হামলার বদলা হিসেবেই তাঁরা আরও বড় অভিযান চালিয়েছে।
সোমবার ভারতীয় সেনা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, পাকিস্তানের সামনে কোনও উপায়ই ছিল না যে ভারতের বহুস্তরীয় এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ভেদ করে হামলা চালায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুজরাট থেকে শুরু করে রাজস্থান, পঞ্জাব হয়ে জম্মু ও কাশ্মীর পর্যন্ত বিস্তৃর্ণ সীমান্তে এই পর্যায়ের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম কার্যকর করা একটা বিশাল সাফল্য। আর অনেকেই বলছেন, যে রাশিয়ার থেকে এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এনে এই সাফল্য পেয়েছে ভারত, সেটা ঠিক নয়। কারণ, এস-৪০০ ছিল সবচেয়ে শেষ স্তর। কিন্তু পাকিস্তানের অধিকাংশ ড্রোন ও মিসাইল ভারত প্রতিহত করেছে নিজস্ব প্রযুক্তির আকাশ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং অন্যান্য প্রযুক্তির মিসেল দিয়ে। উল্লেখ্য, আকাশ ১ ও ২ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে ভারতের ডিআরডিও এবং তৈরি হয়েছে বেসরকারি সহযোগী সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে।
ভারতীয় সেনার দাবি অনুযায়ী ভারত পাকিস্তানের একাধিক সেনা ও বিমানঘাঁটি ধ্বংস করে এসেছে। যেমন, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ থেকে মাত্র ১০ কিমি দূরে নুর খান বিমানঘাঁটি, পাকিস্তানের চকবাল জেলায় অবস্থিত মুরিদ ঘাঁটি, শোরকোটের রফিকি বিমানঘাঁটি এবং সারগোদা, ভুলারি এবং জ্যাকোকাবাদের বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে। ভারতীয় সেনা পরে স্বীকার করে নিয়েছে যে এই হামলায় ব্রক্ষ্ণস মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের অনুমান, পাকিস্তানের অন্তত দুটি পারমানবিক অস্ত্রভাণ্ডারে আক্রমণ করে ধ্বংস করেছে ভারত। এরপরই পাকিস্তান সেনা ডিজিএমও ফোন করে সংঘর্ষবিরতির প্রস্তাব দেয় ভারতের ডিজিএমও-কে। কিন্তু কংগ্রেস-সহ বহু বিরোধী দলগুলি দাবি করছে, ভালো অবস্থায় থেকেও ভারত কার্যত আত্মসমর্পন করল মার্কিন যুক্তরাষ্টের কাছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প যতই নরেন্দ্র মোদিকে নিজের বন্ধু বলে দাবি করেন না কেন, কাজের সময় তিনি পাকিস্তানের পাশেই দাঁড়ালেন। এর কারণ হিসেবে অনেকে দাবি করছেন, ১৯৭১ ও ১৯৭৮ সালের ঘটনা প্রসঙ্গে। একাত্তরে ভারত পাকিস্তানকে যুদ্ধে হারিয়ে বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছিল, কিন্তু অধিকৃত কাশ্মীর ফেরত নেয়নি। এবারও পাকিস্তানকে বাগে পেয়ে ভারত সেই সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করল। কিন্তু ভারত সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত যা বক্তব্য, তাতে পরিস্কার, এবার ভারতের যুদ্ধ ছিল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে, পাকিস্তানের নয়। তাই পাকিস্তানের কোমর ভাঙা পর্যন্তই অপারেশন হয়েছে। পরের টার্গেট আরও বড়।












Discussion about this post