সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। আশ্রয়ে নিয়েছেন ভারতে। গঠিত হয়েছে অন্তবর্তীকালীন সরকার। সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস। এইবার হাসিনা সরকারকে ফাঁসাতে একাধিক তথ্য সামনে আনছেন নোবেল জয়ী ইউনূস। যা দেখে রীতি মতো চোখ কপালে ওঠার মতো। কিন্তু প্রশ্ন হল, আদেও সেই সমস্ত তথ্যের মধ্যে কতটা সত্যতা রয়েছে? আদেও কি সেগুলি তথ্যনির্ভর? নাকি শুধুমাত্র সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপর দায় চাপাতে চাইছে এখনকার সরকার?
বাংলাদেশ থেকে নাকি হাজার হাজার কোটি কোটি ডলার অন্য দেশে পাচার হয়েছে। যা হয়েছে গত ২৪ বছর ধরে। তার পরিমাণ ২৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। হাসিনার জমানা ছিল ২০০৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত। এই পর্যন্তও প্রচুর টাকা পাচার হয়েছে। তার বিরাট অংশ নাকি ভারতে এসেছে। এমনটাই রিপোর্ট পেশ করেছেন বাংলাদেশের অন্তবর্তীকালীন সরকারের তৈরি করা শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি।
তবে এখানেই প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশের মতো অতি ক্ষুদ্র একটি দেশ, যারা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল, সেখান থেকে ২৩ হাজার কোটি ডলার সরানোর অভিযোগ! সেই রিপোর্টে আরও দাবি, আওয়ামী লীগ নেতা, ব্যবসায়ী এমনকি আমলাদের মাধ্যমে টাকা পাচার করা হয়েছে। তবে শুধু ভারতেেই নয়, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, আমেরিকা, কানাডা, মরিশাসের মতো দেশের নাম রয়েছে সেই তালিকায়।
হাসিনা সরকারের আমলে এই বিপুল পরিমাণে দুর্নীতি আদেও হয়েছিল কিনা, তা এখনও পর্যন্ত প্রমাণিত নয়। কিন্তু কোন দেশ থেকে কত টাকা পাচার হচ্ছে, তার সঠিক হিসাব এখনও বার করতে পারেনি ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স। যার কাজ হল এই সমস্ত বিষয়ে রিপোর্ট তৈরি করা। কিন্তু অন্তবর্তীকালীন সরকার রাতারাতি সেই রিপোর্ট বার করে দিল? এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন উঠছে।
এদিকে শেখ হাসিনার আমলে এত টাকা পাচার হয়েছে বলে অভিযোগ। কিন্তু তার আমলের নেতা,মন্ত্রীরা কীভাবে যুক্ত তার কোনও সঠিক ব্যাখা দিতে পারেনি। এমনকি বড় বড় চুক্তিগুলিতে কোথায় কীভাবে অনিয়ম হয়েছে, তারও কোনও রিপোর্ট নেই। এমনকি বিদ্যুৎ উৎপাদনেও দুর্নীতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছ শ্বেতপত্রে। কিন্তু তার কোনওটাই সঠিক ব্যাখা দিতে পারেনি ওই কমিটি। তাই অনেকেই বলছেন, তবে কি সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দোষারোপ করতে, জনগণের কাছে খারাপভাবে তুলে ধরতে এই রকমভাবে পন্থা অবলম্বন করছে?












Discussion about this post