সম্প্রতি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রেখেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। যে বক্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে ভারত কি হাসিনাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে? যদি রাজনৈতিক আশ্রয় থেকে থাকে তাহলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার কোন আন্তর্জাতিক আইনে তাকে দেশে ফেরত আনবে, বিচার করবে?
ভারতের সঙ্গে কি বাংলাদেশের রাজনৈতিক বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোন রাজনৈতিক নেতা বা নেত্রী, অন্য কোন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকতে পারেন। সম্পূর্ণ আইনগত অবস্থান। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আইনগত আশ্রয় দেয়নি ভারত। কিন্তু বর্তমানে থেকে ভারতের আশ্রয়েই রয়েছেন। উল্লেখ্য, কূটনৈতিক ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রতিবাদ পত্র পাঠানো, কোন রাষ্ট্রনেতাকে ডেকে পাঠানো এগুলির যথেষ্ট কূটনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক সমীকরণে ভারত মনে করছে বর্তমানে অরাজকতার বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য অনভিপ্রেত নয়। অন্যদিকে ভারত চাইছে রাজনৈতিক অর্থনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশকে চাপে রাখতে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ধানমন্ডিতে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির সামনে উন্মুক্ত জনতার সমাবেশ। এই ঘটনা প্রসঙ্গে, বাংলাদেশের বিভিন্ন মহল বলছে, শেখ হাসিনা এখন ভারতকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় বক্তৃতা রাখছেন। বাংলাদেশের নাগরিকরা জানাচ্ছেন তিনি বক্তৃতা দেওয়ার আগে যদি প্রচার না করতেন, তাহলে হয়তো এতটা ক্ষুব্ধ হতো না আন্দোলনকারীরা। এমনকি তিনি যখন বক্তৃতা দিয়েছেন সেখানে একবারও জুলাই বিপ্লবের হত্যার জন্য তিনি ক্ষমা চান নি এই বিষয়টি উঠে আসছে বাংলাদেশের তরফে।
এরপর ই ভারতকে বাংলাদেশ বিদেশ মন্ত্রকের চিঠি। ইউনুস সরকারের দাবি হাসিনার বিবৃতি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ভাবাবেককে আঘাত করেছে। দিল্লিতে রয়েছেন শেখ হাসিনা। আর সেখান থেকে বিবৃতিকে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের শত্রুতা হিসেবেই দেখছে বাংলাদেশ সরকার। ভারত যেন এই বিভিন্ন বিষয়গুলিতে দৃষ্টিপাত করে এবং এই কাজগুলি থেকে বিরত থাকে। আর্জি জানানো হয়েছে বিদেশ মন্ত্রকের এই চিঠিতে।
প্রসঙ্গত ৫ ই অগাস্ট বাংলাদেশ ত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। এরপর অক্টোবরে জানা যায় তিনি দিল্লিতে একটি বাংলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। ছাত্র চরিত্রের অভ্যুত্থানেই মূলত দেশ ছাড়তে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। দুশোরও বেশি মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পরপর দুবার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। ইন্টারপোল এর কাছে রেড কর্নার নোটিশ জারি করার আবেদন জানান বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। হাসিনাকে ফেরত চেয়েভারতকে কূটনৈতিক চ্যানেলে নোট ভার্বাল পাঠান অন্তর্বর্তী সরকার । আর ভারত তার প্রাপ্তি স্বীকার করলেও এই চিঠির কোন জবাব দিয়েছে কিনা এখনও তা স্পষ্ট নয়।












Discussion about this post