সোমবার সেনাবাহিনীর একটি জমায়েতে বেশ কিছু বক্তব্য রেখেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান। ইতিমধ্যেই সমাজ মাধ্যমে তার এই বক্তব্যকে অনেকেই নানা রকম ভাবে ব্যাখ্যা করছে। শেখ হাসিনার শাসনকালে যেমন দেখা যেত অনেক ব্যাক্তিকেই জঙ্গিদের দালাল, স্বাধীনতা বিরোধী দালাল তকমা লাগিয়ে দেওয়া হতো একই প্রবণতা সেদেশে এখনও বর্তমান। কখনও আওয়ামীলীগের দালাল কখনও বিএনপির দালাল তকমা লাগানো হচ্ছে অনেক ব্যক্তির গায়েই।তেমনই সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যর পর অনেকেই বলছেন তিনি দালালি করছেন। আর খুব শিগগিরি সেনাপ্রধানের গায়েও এই দালালির তকমা লাগাতে চলেছে সেদেশের একাংশ, যা ঘিরে তুমুল জল্পনা রাজনৈতিক মহলে।
বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার ও শৃঙ্খলা ফিরে আসার আগে পর্যন্ত সেনাবাহিনীকে ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করে যেতে হবে। পেশাদারত্বের মাধ্যমে এ কাজ করতে হবে। সোমবার সাভার সেনানিবাসে ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ফায়ারিং প্রতিযোগিতা-২০২৫’–এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
বেসরকারি টেলিভিশন এটিএন বাংলার ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত ভিডিও থেকে সেনাপ্রধানের এ বক্তব্য জানা গেছে। অনুষ্ঠানে তিনি ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
সেনাপ্রধান বলেন, ‘দেশ ও জাতির জন্য আমাদের কাজ করে যেতে হবে। যত দিন না আমরা একটা নির্বাচিত সরকার না পেয়ে যাই, দেশ একটা শান্তি-শৃঙ্খলার মধ্যে আসে, তত দিন পর্যন্ত এ কাজটা ধৈর্যের সঙ্গে করে যেতে হবে। কোনো উচ্ছৃঙ্খল কাজ করা যাবে না। এদিকে আমাদের নজর রাখতে হবে। বলপ্রয়োগ করা যাবে না। মাঝেমধ্যে এ কাজগুলো করতে গিয়ে কিছু বলপ্রয়োগ হয়ে যায়।’
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘সেনানিবাসে ফেরত আসার কাজটা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। আমি জানি যে বহুদিন ধরে এই কাজটা করে যাচ্ছি। ধৈর্য রাখতে হবে এবং পেশাদারত্বের মাধ্যমে কাজটা করে যেতে হবে।
দেশ ও জাতির জন্য আমাদের কাজ করে যেতে হবে। যত দিন না আমরা একটা নির্বাচিত সরকার না পেয়ে যাই, দেশ একটা শান্তি-শৃঙ্খলার মধ্যে আসে, তত দিন পর্যন্ত এই কাজটা ধৈর্যের সঙ্গে করে যেতে হবে। কোনো উচ্ছৃঙ্খল কাজ করা যাবে না। এদিকে আমাদের নজর রাখতে হবে। বল প্রয়োগ করা যাবে না। মাঝে মাঝে এ কাজগুলো করতে গিয়ে কিছু বল প্রয়োগ হয়ে যায়।…বল প্রয়োগ করতে গেলেও একেবারে যতটুকু না করলেই নয় সেটুকুই যেন হয়। যত কম বল প্রয়োগের মাধ্যমে কাজগুলো করা যায়, ততই ভালো। ইনশা আল্লাহ আমরা যদি সবাই একসঙ্গে কাজ করি, আমরা দেশের শান্তি–শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারব এবং একটা সুন্দর দেশ পাব’, জানালেন সেনাপ্রধান।
এদিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর জানায়, ১৮ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর ৯ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এই ফায়ারিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সেনাবাহিনীর সব ফরমেশন, লজিস্টিকস এরিয়া, ৫টি স্বতন্ত্র ব্রিগেড ও প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ মোট ১৭টি দল অংশ নেয়। ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় ৩৩ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন ও ৭ স্বতন্ত্র এডিএ ব্রিগেড রানারআপ হয়।
পাশাপাশি, এই দিন আইএসপিআর জানায়, ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় ১১ পদাতিক ডিভিশনের সৈনিক মো. রাজু সরদার শ্রেষ্ঠ ফায়ারার, ৬ স্বতন্ত্র এডিএ ব্রিগেডের সৈনিক মো. জুবায়ের আলী দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ ফায়ারার ও ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের লেফটেন্যান্ট সামিয়া রহমান শ্রেষ্ঠ নারী ফায়ারার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
সিএএস ট্রফি ফায়ারিং প্রতিযোগিতা–২০২৪–এর মাইনর ইউনিটগুলোর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয় অ্যাডহক ৪৭ মর্টার রেজিমেন্ট আর্টিলারি, রানারআপ হয় সদর দপ্তর ১০৫ পদাতিক ব্রিগেড এবং মেজর ইউনিটগুলোর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয় ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, রানারআপ হয় ২৯ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। ব্যক্তিগতভাবে ছয়জন শ্রেষ্ঠ ফায়ারার হন। সেনাপ্রধান সবার হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে সেনা কর্মকর্তা, সেনাসদস্য ও গণমাধ্যম ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।












Discussion about this post