সাত মাস হয়ে গিয়েছে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়া। পদ্মা দিয়ে বয়ে গিয়েছে বহু জল। হাসিনা এখন ভারতের আশ্রয়ে, তার দলের সঙ্গী সাথীরাও এখন জেলে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সংসদ মন্ত্রী সকলেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপনে, গা ধাকা দিয়ে রয়েছেন কলকাতা কেউ দিল্লী বা ত্রিপুরায়।
এরই মাঝে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সক্রিয়তা নিয়ে হইচই পড়ে গিয়েছে বিভিন্ন মহলে।
সম্প্রতি নোয়াখালীর একটি বেসরকারি হাসপাতাল ও চুয়াডাঙ্গার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসপ্লে বোর্ডে আওয়ামী লীগের ফেরার কথা প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। সরকারিভাবে পদত্যাগ করেনি শেখ হাসিনা। পদত্যাগ পত্রে স্বাক্ষরও করেননি তিনি। আর বাংলাদেশে নির্বাচন ঘোষণা হলেই দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা। এই বার্তা আজকের নয়, বহু আগেই এই বার্তা বাংলাদেশের নাগরিক কে দিয়েছিলেন শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। এবার ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের আগেই, ফের দেশে ফেরার বার্তা দিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। আর ঠিক এই সময়েই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মার্কিন সফর এবং সেখানে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক, হাসিনার এই বার্তাকে যেন অন্য মাত্রা দিল।
হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে, বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে বাংলাদেশে। বিএনপি ও জামাতের মতো মৌলবাদী ভাবধারায় চালিত রাজনৈতিক দলগুলি চায়না দেশে আওয়ামী লীগের খুঁটি শক্ত হোক।
দেশের একাংশ মনে করে খুন ও হামলার মামলায় জড়িত নয় আওয়ামী পন্থীদের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন ঘটানো যেতে পারে। নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণার আগেই এই বার্তা দিয়েছিলেন মোহাম্মদ ইউনুসের অন্তরবর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।
প্রসঙ্গত, সালটা ১৯৪৯ পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী মুসলিম লীগের আত্মপ্রকাশ। এরপর ১৯৫৫ সালে দলে ধর্মনিরপেক্ষতাকে প্রাধান্য দিতেই দলের নাম থেকে বাদ দেওয়া হয় মুসলিম শব্দটি তার পরিবর্তে দলের নাম হয় আওয়ামিলীগ। জনগণের সাথে সম্পর্কিত এই দলের বিভিন্ন শাখা সংগঠনও রয়েছে। যেমন যুবলীগ মহিলা লীগ কৃষি লীগ ছাত্রলীগ ইত্যাদি। ১৯৭৩ এর জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ টি আসনের মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আওয়ামীলীগ জয়ী হয় ২৯৩ টি আসনে। আর ২০২৪ এর নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই আওয়ামী লীগ জয়ী হয় ২২৪ টি আসনে। আর বর্তমান বাংলাদেশে এখন সেই আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চাইছে অন্তরবর্তী সরকার ।












Discussion about this post