ভারতের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি স্থান চিকেন নেক। এই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী শিলিগুঁড়ি করিডোরই পরিচিত চিকেন নেক হিসেবে। বাংলাদেশে ভারত বিদ্বেষ শুরুর পর থেকেই বার বার ভারতের এই করিডরটি দখলের ইঙ্গিত দিয়েছে সেদেশ। যার ফলে খবরের শিরোনামে উঠে আসছে এই চিকেন নেক। এটি ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেছে। আর এটি দেখতেও অনেকটা মুরগির গলার মতো। তাই এটিকে চিকেন নেক বলা হয়। এই চিকেন নেকের শক্তিশালী নিরাপত্তায় সচেষ্ট ভারত। এই চিকেন নেক নিয়ে এবার উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
সম্প্রতি শোনা যাচ্ছে, ভারতের চিরশত্রু পাকিস্তানের সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এই চিকেন নেকের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। আর তাদের সেখানে নিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। এমনটাই দাবি করেছেন ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী।
গত বুধবার ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে একটি সাক্ষাৎকার দেন ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল। তার কাছে প্রশ্ন করা হয়, সম্প্রতি ভারতের সীমান্তবর্তী ও চিকেন নেকের স্পর্শকাতর অঞ্চলে পাকিস্তানি সেনা ও গোয়েন্দারা গিয়েছিলেন। এ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন কি না? জবাবে পাকিস্তানের নাম উচ্চারণ না করেই উপেন্দ্র বলেন, ‘‘আমি একটি আলাদা দেশের ক্ষেত্রে ‘সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্র’ শব্দটি ব্যবহার করেছি। যদি ওই দেশের মানুষরা, অন্য কোনো স্থানে যায় এবং সেটি আমাদের প্রতিবেশী হয় এবং বিষয়টির সঙ্গে আমরা সংশ্লিষ্ট থাকি, তাহলে আমি এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হবো।”
সাক্ষাৎকারে ভারতীয় সেনাপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে পাকিস্তান যেনো ভারতে সন্ত্রাসী না পাঠাতে পারে, সেটি চাওয়া থাকবে তার। পাশাপাশি বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বেশ ভালো সম্পর্ক আছে বলে জানান সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী।
তবে, ঢাকার সঙ্গে কেমন সম্পর্ক সেটিও স্পষ্ট করেননি এই ভারতীয় জেনারেল। বলেন, যদি প্রশাসনের কথা বলেন, এ ক্ষেত্রে আমার অবস্থান হলো, যখন সেখানে কোনো নির্বাচিত সরকার থাকবে। তখন আমি বলতে পারব তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত।
এসময় কাশ্মীর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ভারতীয় সেনাপ্রধান বলেন, পাকিস্তান কাশ্মীর নিয়ে সবসসময় পড়ে থাকবে এবং কাশ্মীর যে ভারতের অংশ তা মানবে না। এ ছাড়া পাকিস্তান শুধু ভারত বিদ্বেষই ছড়াবে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে আদৌ বাংলাদেশ পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের চিকেন নেকের কাছে নিয়ে গিয়েছিল কিনা তার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এমনকি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও এর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি।












Discussion about this post