বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান কার্যত হুশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমি সতর্ক করে দিচ্ছি। নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি করে লাভ নেই। এতে অপরাধীরা সুযোগ নেবে। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, এর পর মনে করা হয়েছিল, বাংলাদেশে শান্তি ফিরবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা হবে। অকারণে ছোট ছোট বিষয়ে ভারতকে দোষারোপ করবে না বাংলাদেশ। কিন্তু সেটা হল কই? কয়েক ঘণ্টা পেরোতে না পেরোতেই ফের অরাজকতা।
বাংলাদেশের বহু মানুষ বলতে শুরু করেছিলেন, বাংলাদেশ যখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখন কিছু গণমাধ্যম মিথ্যে প্রচার করছে। কিন্তু সত্যিই কি বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে? অন্তত সরকারের কার্যকলাপ দেখে তো সেটা বোঝার উপায় নেই। এমনকি ছাত্রদের কার্যকলাপ অনেক প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। শেখ হাসিনাকে উৎখাত করতে, সরিয়ে দিতে যারা নাহিদ, মাহফুজ, সরজিসদের সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়েছিলেন, তারা এইবার মহম্মদ ইউনূসের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ শুরু করে। তাদের দাবি, এই সরকার আন্দোলনের আহতদের জন্য কিছুই করেননি। বিক্ষোভে ফেটে পড়ে তারা। সংবাদ মাধ্যমের সামনে জমে থাকা ক্ষোভ উগরে দিলেন তারা।
উল্লেখযোগ্যভাবে, তারা রাস্তায় এই প্রথমবার নামছেন না, এর আগেও একই অভিযোগ নিয়ে রাস্তায় নেমেছিলেন। মোহম্মদ ইউনুসের বাসভবন ঘেরাও করেছিলেন। তখনও কর্ণপাত করেনি অন্তর্বর্তী সরকার। এখনও কর্নপাত করছে না। যেটা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। বলছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
অর্থাৎ বাংলাদেশ রয়েছে বাংলাদেশেই। এদিকে সেনাপ্রধান বলছেন, জনগণের উপর বেশি বলপ্রয়োগ না করে, ধৈর্যের সঙ্গে বাংলাদেশের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে। তিনি বলছেন, আমরা চেয়েছিলাম দ্রুত কাজ শেষ করে সেনানিবাসে ফিরে যেতে। কিন্তু কাজটা দীর্ঘদিন ধরে করে যেতে হচ্ছে। সে কারণেই আমাদের ধৈর্য রাখতে হবে এবং পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ শেষ করতে হবে। তবেই সাধারণ জনগণকে আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ উপহার দিতে পারব। যতদিন না পর্যন্ত বাংলাদেশের নির্বাচন হচ্ছে, এবং একটি স্থায়ী সরকার আছে ততদিন পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সদস্যদের সজাগ থাকতে হবে। কাজ করতে হবে। কিন্তু কোথায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকছে? যারা নাকি একটি আন্দোলন করে একটি সরকারকে উৎখাত করলো, তারা আবার রাস্তায় নামছে।
তবে সেনাপ্রধানের বক্তব্য স্পষ্ট, সেনাপ্রধানের সেনা সদস্যদের শান্ত থাকার বার্তা দিচ্ছেন। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছেন, সেনাপ্রধানের মাঠে থাকাতে কি আদেও আইন শৃঙ্খলা ঠিক হয়েছে? বাংলাদেশে দিনের আলোতে চুরি, ডাকাতি অবলীলায় চলছে। আর রাত তো ভয়ানক।
এর মধ্যে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার এখনও পর্যন্ত নির্বাচনের কোনও রোডম্যাপ তৈরি করতে পারেনি। কবে হবে সেটা নিশ্চিত নয়। নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করেছে। এদিকে শোনা যাচ্ছে শুক্রবার অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নাগরিক কমিটি তাদের নতুন দলের আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন, তবে কি তাদের দলের আত্মপ্রকাশের পর, সাধারণ মানুষের আস্থাভাজন হয়ে উঠতে যতদিন সময় লাগবে, ততদিন পর্যন্ত নির্বাচন হবে না? কার্যত তামাশা করা হচ্ছে নির্বাচন নিয়ে। তবে সেনাপ্রধানের বক্তব্যে আশার আলো দেখছেন অনেকে। উল্টোদিকে, ছাত্রদের আন্দোলন ভয় ধরাচ্ছে ইউনুসকে। এখন দেখার, কি করে তদারকি সরকার।












Discussion about this post