গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সেনাপ্রধান যে সতর্কবার্তা দিয়েছেন তার পাশাপাশি তিনি বেশ কিছু অপ্রিয় সত্যি কথাও বলেছিলেন। ইনক্লুসিভ ইলেকশন, দেশ ও জাতির নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় উঠে এসেছিল তার কথায়। তার এই সমস্ত বক্তব্যের পরেই সকল ষড়যন্ত্রকারীরা ফের ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে শুরু করেছে।
জানা যাচ্ছে, এই দুর্বৃত্তরা সেনাবাহিনীর ভেতর থেকে একটি অভ্যুত্থানের চেষ্টা করছে, সৈন্যদের উসকে দিচ্ছে, এছাড়া সেনাবাহিনীর অফিসারদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করার ও চেষ্টা করছে এই ধরনের বহু ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা শুরু করেছে।
আর এই ষড়যন্ত্রটি অত্যন্ত গভীর। এই ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠীটি হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়েছে বলা যায় একটি নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটিয়ে শাসন ব্যবস্থাকে উচ্ছেদ করে দিয়ে নতুন অন্তবর্তী সরকার স্থাপন করেছে। এখনো তাদের চূড়ান্ত চাল দেওয়া বাকি রয়েছে। তাই তারা আবার নতুন করে ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনাও শুরু করেছে।
কিন্তু প্রায় ফ্রি দেখা যাচ্ছে সে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার দিকে এগোচ্ছে ঠিক সেই সময় এই সংগঠন থেকেই নানা রকম বৈঠক করে আলোচনা করা হচ্ছে, যে দেশকে স্থিতিশীলতার দিকে এগতে দিলে চলবে না। দেশে যদি আবার নির্বাচন হয় তখন দেশে আওয়ামী লীগ ফিরলে, আবার সেই পতন হওয়ার সরকারের প্রত্যাবর্তন মেনে নেওয়া যাবে না বিভিন্ন বিষয়ে। এমনকি সব ঘটনার পরে তাদের ভবিষ্যৎ কি তানিয়া চুল চেড়া বিশ্লেষণ হয় এই বৈঠকে। আরে বিশ্লেষণে সেনা প্রধানের অকপট বক্তব্য ও সতর্কবার্তা একেবারেই ভালোভাবে নিচ্ছে না ষড়যন্ত্রকারীরা। যার দরুন তারা এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকছে প্রতিনিয়ত।
এখন সেনা প্রধান পড়েছেন উভয় সংকটে। একদিকে জামাত শিবির থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিরোধী পন্থী তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। অন্যদিকে আমাকে ঠিক পন্থীরা সেনাপ্রধান কে ভুল বুঝছেন। যদিও হাসিনা পতনের পর বিগত ছয় সাত মাসে সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামানকে ভুল বোঝার বহু কারণ রয়েছে, আর সেগুলি এড়িয়ে যেতে পারবেন না সেনাপ্রধান।
সরকার পতনের পর বহু অন্যায় দেখার পরেও তিনি নিশ্চুপ থেকেছেন। আরে নিশ্চুপ থাকতে থাকতে তিনি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন গত ২৫ শে ফেব্রুয়ারি।
ওই দিন ঢাকা সেনা নিবাসের অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান বলেন, “আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি, পরে বলবেন না যে আমি সতর্ক করিনি। আপনারা যদি নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে একসাথে কাজ না করতে পারেন, নিজেরা যদি কাদা ছোড়াছুড়ি করেন, মারামারি কাটাকাটি করেন, এই দেশ এবং জাতির স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। আমি আজকে বলে দিলাম, নইলে আপনারা বলবেন যে, আমি আপনাদের সতর্ক করিনি।” বাংলাদেশ সেনাপ্রধানের এই মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। তবে তিনি এখানেই থেমে থাকেননি।
ওয়াকার-উজ- জামান বলেন, ‘আমরা ভাবছিলাম, দ্রুত কাজ শেষ করে সেনা বাহিনীকে ফের ক্যান্টনমেন্টে ফিরিয়ে নেব। কিন্তু কাজটা দীর্ঘদিন ধরে করে যেতে হচ্ছে’। এর সঙ্গেই তাঁর তৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য, ‘আমাদের ধৈর্য রাখতে হবে। পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। যতদিন না পর্যন্ত একটা নির্বাচিত সরকার আসে, আমাদের এই কাজটি ধৈর্যের সঙ্গে করে যেতে হবে’। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দীর্ঘ সাত মাস পর এই প্রথমবার মুহাম্মদ ইউনূসের তদারকি সরকারের প্রতি অনাস্থা ব্যক্ত করলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান।












Discussion about this post