বাংলাদেশে এখন ঘটনার ঘনঘটা। এরমধ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস বিবিসি কে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে তিনি ভারত সম্পর্কে কি ভাবছেন, সেটি স্পষ্ট হয়েছে। তিনি ওই সাক্ষাৎকারে বলেন, নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলেছেন। ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ঠ। দু দেশই দু দেশের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু তার মধ্যে একটু মেঘ জমেছে। তবে সেই মেঘ কিভাবে কাটানো যায়, সেটি আন্তরিকভাবে চান না ইউনুস, সেটি তার কথায় স্পষ্ট। বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ইউনুস চাইছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখতে। অন্যদিকে চীনের সঙ্গেও যান সম্পর্ক মজবুত রাখতে। সে কারণেই তিস্তা মহাপ্রকল্পের বরাত চীনের উপর দিতে উঠে পড়ে লেগেছেন মোহম্মদ ইউনূস। দেখা যাচ্ছে, বেজিং সফর করছেন বাংলাদেশের শীর্ষ কর্তারা। এদিকে পাকিস্তানের সঙ্গেও সম্পর্ক উন্নত হচ্ছে তাদের। পাকিস্তান থেকে সমরাস্ত্র কিনবে বাংলাদেশ। উচ্ছসিত পাকিস্তান কর্তারা। সবমিলিয়ে বলা যায়, ৭১ এর ক্ষত ভুলতে চাইছে পদ্মাপাড়ের দেশ।
সাক্ষাৎকারে ইউনুসকে জিজ্ঞাসা করা হয় নির্বাচন নিয়ে। তিনি উত্তর দেন, নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যে হওয়ার কথা। সামান্য কিছু সংস্কার মেনে নিলে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হয়ে যাবে। কিন্তু এদিকে বাংলাদেশের আত্মপ্রকাশ করেছে একটি নতুন দল জাতীয় নাগরিক কমিটি। সেই দলের নেতারা বলছেন, আগে নতুন সংবিধান তৈরি হবে। তারপর নির্বাচন হবে। এর মধ্যে রাজনৈতিক মহল একাংশ বলছে, আসলে এই দল চাইছে সাধারণ মানুষের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে। আর সেটা করতে তাদের যতটুকু সময় লাগবে, সেই সময়টা তারা নিয়ে নিচ্ছে বিভিন্ন ইস্যু দেখিয়ে।
কিন্তু বাংলাদেশের সেনাপ্রধান কঠোরবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। তবে সেনাপ্রধানের নির্দেশ কতটা মানবে অন্তর্বর্তী সরকার, সেটা নিয়ে বিস্তর সংশয় রয়েছে। এর কারণ, ইউনুস এখনো বেশ কয়েক বছর ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণ করতে চান। এটা বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ফলে ইউনুস মুখে বলছেন নির্বাচন দ্রুত হবে, অন্যদিকে ইউনূসের মদতপুষ্ট ছাত্র নেতারা বলছেন গণপরিষদে নির্বাচন হবে। অর্থাৎ দু’রকম কথা বলে নির্বাচনের সম্ভাবনা বিশবাও জলে ফেলে দিতে চাইছেন তারা।
এমনকি এও শোনা যাচ্ছে, ছাত্রদের এই দল গঠন হয়েছে মোহাম্মদ ইউনূসের কথায়। এবং এই দল গঠন হওয়ার পিছনে রয়েছে একটা বড় কারণ। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের জন্য যে চাপ দিচ্ছে, সেই চাপ মোকাবিলা করার জন্য এই দল গঠিত হয়েছে। অর্থাৎ ছাত্ররা রোজ উদ্ভট উদ্ভট দাবি করবে। আর সেই দাবিকে কেন্দ্র করে একটা ঘোলা জল তৈরি হবে। আর সেই ঘোলা ঝলে মাছ ধরবেন মোহাম্মদ ইউনুস। আর সেই কারণেই একটা ভয়ংকর খেলায় নেমেছেন তিনি। সেটা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ হতে চলেছে। আর সেটা সেনাপ্রধান যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন, ততই বাংলাদেশের জন্য সুখকর হবে। দাবি রাজনৈতিক মহলের।












Discussion about this post