গত বছর বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন ও তৎকালীন হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই সেদেশের মাটিতে বৃদ্ধি পেয়েছে ভারতবিদ্বেষী স্লোগান। কখনও সমাজমাধ্যমে কট্টরপন্থী মৌলবাদীদের হুমকি হুঁশিয়ারি, কখনো আবার সরাসরি সে দেশের সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে ভারতবিদ্বেষের সুর শোনা গিয়েছে । সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় হিংসা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন এলাকায় । আর সেই হিংসার ঘটনায় রয়েছে বাংলাদেশের জঙ্গিযোগ। ভারতীয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর রিপোর্ট অনুযায়ী এই হিংসায় মদত রয়েছে বাংলাদেশ ও পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠীর! আর এবার ভারতের কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদি হামলার পর
ভারতের সরাসরি নিশানায় পাকিস্তান উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বাংলাদেশের নামও। ইতিমধ্যেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সেনার তৎপরতাও এবার তুঙ্গে!
বাংলাদেশে পালাবদলের পর বারাবার ভারতের ‘চিকেন নেক’ দখলের হুমকি দিয়েছে সেদেশের মৌলবাদীরা। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিষয়টি যথেষ্ট উদ্বেগের বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের। কারণ, এই করিডর উত্তর-পূর্বাঞ্চল দেশের বাকি অংশের সঙ্গে সংযুক্ত। যা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে ভারত সরকারের। এবার গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ঘটে গিয়েছে নৃশংস সন্ত্রাসী হামলা। এই ঘটনার পর তৎপর প্রশাসন। সীমান্ত অঞ্চল গুলিতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে তৎপর ভারতীয় সেনা । বারে বারে বাংলাদেশের ভারত বিদ্বেষী মনোভাব ও সে দেশে বর্তমান পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসবাদ মদতের কারণেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তেও যতটা সম্ভব দ্রুততার সঙ্গে নিশ্চিদ্র নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তুলতে উদ্যোগে ভারতীয় সেনা।
সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী ইতিমধ্যেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সেনার তৎপরতা রয়েছে চোখে পড়ার মতো। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি কয়েকটি কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক জায়গা চিহ্নিত করে সেই জায়গাগুলির নিরাপত্তা পরিকাঠামো আরও আটোশাটো করা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে এই পয়েন্টগুলিতে সেনা গোয়েন্দা মোতায়ন রয়েছে এবং তাদের তৎপরতাও আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র বলছে ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় এখনই পুরো দমে সেনা মোতায়েন না করে, সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তায় নিযুক্ত আধাসেনার সঙ্গে এবার থেকে সেনাও যৌথভাবে কাজ শুরু করবে কম্প্রিহেনসিভ ইন্টিগ্রেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবস্থার মাধ্যমে। ফলে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বৃদ্ধি পাবে সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের নজরদারি। এছাড়াও, নিরাপত্তা সংক্রান্ত কর্মসূচির মাধ্যমে হাসিমারা এবং বাগডোগরা বিমানঘাঁটিতে বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান রাফাল মোতায়েনে উদ্যত ভারতীয় সেনা ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে সীমান্ত এলাকাগুলির নিরাপত্তা নিয়ে শীঘ্রই বৈঠকে বসা হতে বলে সূত্রের খবর। কারণ ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তের স্থলভাগে কাঁটাতার লাগানোর ব্যবস্থা করা হলেও। জলভাগ সীমান্তে কাঁটাতার লাগানো সম্ভব হয়নি। এবার এই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
জানা গিয়েছে, যত দিন না কোনও স্থায়ী সমাধানসূত্র বের হচ্ছে, তত দিন পর্যন্ত অরক্ষিত এই সীমান্তগুলিতে সিসিটিভি ক্যামেরা, ড্রোন আধাসেনা মোতায়েনের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর কথা ভেবেছে ভারতীয় সেনা।
প্রসঙ্গত, ভারতের মধ্যে পাঁচটি রাজ্যজুড়ে বিস্তৃত রয়েছে ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা। যার মধ্যে অধিকাংশটাই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। আর সম্প্রতি যখন মুর্শিদাবাদে হিংসা সৃষ্টি হল এবং সেই ঘটনায় কেন্দ্রীয় বাহিনী রিপোর্টে উঠে এলো বাংলাদেশের জঙ্গিযোগ তখন ওই জেলায় আধাসেনার ক্যুইক রেসপন্স টিম এর সংখ্যা বৃদ্ধি করা হলো। অর্থাৎ সন্ত্রাসবাদি নিশানায় বাংলাদেশকেও টার্গেট করছে ভারত।
অন্যদিকে, সম্প্রতি সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী স্বয়ং জানিয়েছিলেন, সীমান্তে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর আনাগোনা বাড়ছে, যা নিয়ে বিএসএফ-কেও সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু, পহেলগাঁও হামলার পর একযোগে পাক ও বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সেনা সূত্রে খবর।












Discussion about this post