প্রায় ছয় মাস কেটে গিয়েছে। শেষমেষ জামিন মিলল হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাসের। বাংলাদেশের হাইকোর্ট জামিন দিলেও তারপরই জামিন স্থগিতের আবেদনও হয়। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে চলছে তার জামিন নিয়ে আলোচনা। এই আবহেই সন্ন্যাসীর জামিন নিয়ে ইউনূস সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর।
এই ঘটনার পর ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণা অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি পোস্টে লেখেন, চিন্ময়ের জামিনকে কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে করি না। এই ঘটনার পর থেকে ভারতীয় আধিপত্যবাদ এ দেশের উপর অন্যায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে। চিন্ময়ের জামিনও কি সেই চাপের কাছে নত স্বীকার করে দেওয়া হল? এরপরই হুঁশিয়ারির দিয়ে লেখেন, ইন্টেরিম সাবধান! আলিফের রক্তের উপর দাড়িয়ে ভারতীয় আগ্রাসনের রাস্তা উন্মুক্ত করলে পরিণতি ভাল হবে না। তার এই পোস্ট ঘিরে বাংলাদেশের অন্দরে শুরু হয়েছে প্রবল উত্তেজনা। এর পাশাপাশি ওই পোস্টের তলায় নানা মন্তব্য ধেয়ে আসে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ এর ৩১ অক্টোবর চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভু সহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহী মামলা করে এক বিএনপি নেতা। ২৫ নভেম্বর তাকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশের পুলিস। পরেরদিন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চিন্ময়ের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তারপর থেকে তার বিরুদ্ধে চলে মামলা। এরপর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের হাইকোর্ট জামিন দেয় হিন্দু সন্ন্যাসীকে। এরপরই জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন জানিয়েছে সরকারপক্ষ। আগামী রবিবার শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। আর এই ঘটনার পর বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর এই পোস্ট ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অনেকে বলছে, ছাত্র নেতাদের এই দল এবং ছাত্রনেতারা ক্রমশ ভয় পাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে হওয়া যে কোনও ঘটনা থেকে অস্তিত্বহীনতায় ভুগতে শুরু করে। আর তারই ফলস্বরূপ একাধিক মন্তব্য এর আগে দেখা গিয়েছে। এইবার দেখা গেল, চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর জামিন মিলতেই হাসনাতের এই পোস্ট। পাশাপাশি মুখে লম্বা চওড়া কথা বললেও, ভারতকে তারা ভয় পায়, সেটাও এই পোস্টে পরিষ্কার। তবে সরকারকে এই হুশিয়ারি দেওয়ার পর কি করেন মোহাম্মদ ইউনূস সেটাই দেখার। পাশাপাশি অনেকে বলছে, ছাত্রনেতাদের কথাতে নাকি ইউনূস সরকার চালাচ্ছে। তাদের মন্তব্যে যদি কোনও হেরফের আসে, তবে সেটাও প্রমাণিত হয়ে যাবে।












Discussion about this post