যুদ্ধের আবহ স্পষ্ট অনুভব করা যাচ্ছে বৃহস্পতিবার রাত থেকে। তাই দেশকে সুরক্ষিত রাখতে তৎপর ভারতীয় সেনা। নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হল রাজধানী দিল্লিকে। তবে শুধু দিল্লি নয়, আরও বেশ শহরকে নিরাপত্তার জন্য যা যা করণীয়, তাই করা হচ্ছে। নিরাপত্তার জন্য সিমলা, কুলু, মানালি, চন্ডীগড় সহ ভারতে বন্ধ ২৭টি বিমানবন্দর। সুরক্ষা বলয়ে মোড়া হয়েছে কলকাতা বিমানবন্দরকেও। হাই এলার্ট জারি মুম্বই বিমানবন্দরেও।
বদলা, প্রত্যাঘাত থেকে যুদ্ধের পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে গিয়েছে দুই দেশ। চিন্তিত বিশ্বের তাবড় দেশগুলি। প্রশমিত হওয়ার বার্তা এসেছে আমেরিকা, রাশিয়া থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘ। কিন্তু ভারতের সাফ বার্তা, আঘাত হানলে পাল্টা জবাব দেবো আমরা। পরে পরে মার খাবে না ভারতবাসী। ইতিমধ্যে জবাবও দিয়েছে ভারত। ফুঁসছে ভারত, অন্যদিকে কাঁদছে পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার ১৫ টি শহরে আঘাত হানার চেষ্টা হয়েছিল পাকিস্তানের তরফে। ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে পাকিস্তান। কিন্তু পাকিস্তানের ছক বানচাল করে দেয় ভারতের সুদর্শন চক্র বা S400 ডিফেন্স সিস্টেম। পাল্টা আঘাত হানে ভারতও। তবে পাকিস্তান চুপ হয়তো থাকবে না। করা প্রত্যাঘাত হানতে পারে তারা। ফলে ভারতের তরফে কড়া নজরদারি বাড়ানো হল রাজধানীতে। বৃহস্পতিবার থেকেই সুরক্ষায় মরে ফেলা হয়েছে দিল্লিকে। তখনও আঘাত করেনি পাকিস্তান। জানা যায়, সকাল থেকেই দিল্লি গেট থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় পর্যটকদের। ফাঁকা করে দেওয়া হয় ইন্ডিয়া গেট। চলছে মাইকিং। দিল্লি পুলিশ সূত্রের খবর, নিজেদের এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছেন ডেপুটি কমিশনাররা। এমনকি শহর জুড়ে চালানো হচ্ছে নাকা তল্লাশি। বাইরের আসা গাড়ি গুলিকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে মোকাবিলা করতে প্রস্তুত দিল্লি প্রশাসন। এছাড়াও লালকেল্লা এছাড়াও লালকেল্লা, কুতুবমিনার সহ বিভিন্ন পর্যটন স্থল গুলিতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সিসি ক্যামেরা দিয়ে চলছে প্রতিনিয়ত নজরদারি।
অন্যদিকে, চণ্ডীগড়, মোহালিতে আকাশপথে সতর্কতা জারি করা হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে। সতর্কতা জারি করে এয়ারফোর্স স্টেশন। চণ্ডীগড়ে বাজতে শুরু করে এয়ার সাইরেন। শহরের বাসিন্দাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দেয় প্রশাসনের। উল্লেখ্য, সারা রাত ধরে সীমান্তের বিভিন্ন জায়গাতে ড্রোন হামলার চেষ্টা করে পাকিস্তান। যদিও ৫০টি পাকিস্তান ড্রোনকে গুলি করে নামিয়ে দেয় ভারত। এমনকি আতঙ্ক থেকে POK-তে রাতভর বাজানো হয় সাইরেন। উধমপুর, সাম্বা, জম্মু, আখনুর, পাঠানকোটে পাকিস্তান ড্রোন ধ্বংস করে দেয় ভারতীয় সেনা। জানা যায়, নিজেদের শক্তি দেখিয়েছে L 70 আর্টিলারি , ZU 23 MM গান, সিলিকা অ্যান্টি মিসাইল সিস্টেম।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানে ভারতের প্রত্যাঘাতের পর ২৭টি বিমানবন্দর বন্ধের কথা ঘোষণা করা হয়। সেই তালিকায় রয়েছে চণ্ডীগড়, শ্রীনগর, লুধিয়ানা, অমৃতসর, কিশনগড়, পটিয়ালা, শিমলা, ভাতিন্ডা, জৈসলমের, জোধপুর, বিকানের, হলওয়ারা, পঠানকোট, জম্মু, জামনগর, হীরাসর, পোরবন্দর, কেশোদ, কান্ডলা, ভুজ। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি জায়গায় হয় এলার্ট জারি করা হয়েছে। পরে এই পরিস্থিতিতে বিবৃতি জারি করেছে বিমান সংস্থাগুলি। এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়ে দিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের অন্তত তিন ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছোতে হবে যাত্রীদের। জম্মু, শ্রীনগর, লেহ, জোধপুর, অমৃতসর, ভুজ, জামনগর, চণ্ডীগড়, রাজকোটের সমস্ত বিমান বাতিল থাকবে শনিবার বিকেল ৫টা ২৯ মিনিট পর্যন্ত। স্পাইসজেট, ইন্ডিগো, আকাশা এয়ারের মতো সংস্থাগুলিও তিন ঘণ্টা আগে যাত্রীদের বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা বলেছে। এমন কি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৭ কিলোগ্রামের বেশি ওজনের ব্যাগ নিয়ে বিমানে ওঠা যাবে না। কলকাতা বিমানবন্দরেও হাই এলার্ট জারি। বাতিল হয়েছে সিআইএসএফের সমস্ত কর্মীদের ছুটি। যারা ছুটিতে ছিলেন, তাদেরও কাজে ফিরে আসার কথা জানানো হয়েছে। ২০টি বিমানবন্দরে নোটাম জারি করা হয়েছে বলে খবর।












Discussion about this post