সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করতে বা সেনাবাহিনীর মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে দেশের অন্দরে নানাভাবে ষড়যন্ত্র চলছে। নতুন করে আওয়ামী লীগের শাসন আমলে যেসমস্ত সেনা সদস্য চাকরিচ্যুত হয়েছেন বা বাধ্যতামূলক ভাবে অবসরে পাঠানো হয়েছ, তাদের একটি প্লাটফর্ম তৈরি হয়েছে। সেই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তাদের আন্দোলনে ভয়ংকর কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে যদি কোনও সেনা সদস্যকে অন্যায় ভাবে চাকরি থেকে সরানো হয়, তবে বিচারের জন্য দ্বারস্থ হতে পারে। কিন্তু যে আন্দোলনটি চলছে, কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা আছে কিনা এবং আন্দোলনকে সামনে রেখে সেনাবাহিনীর মেরুদন্ড ভেঙে দেওয়ার চক্রান্ত কিনা, সেটা ভেবে দেখা প্রয়োজন। তবে প্রশ্ন উঠছে, এই সেনা সদস্যরা কিভাবে এত বেপরোয়া হয়ে উঠলেন? কোনও রাজনৈতিক দলের ইন্ধনে কি এই কার্যকলাপ হচ্ছে? উঠছে প্রশ্ন। তারা যে চার দফা দাবিতে আন্দোলন করছে, সেগুলি হল চাকরিচ্যুতর সময় থেকে সম্পূর্ণ বেতন এবং ভাতা সহ চাকরির পুনর্বহাল করতে হবে। এবং শয়ে শয়ে যে সেনা সদস্যদের চাকরি চলে গিয়েছে সেগুলি বিচার ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সংস্কার করতে হবে। এবং শনিবার গ্রেফতার হওয়া এই আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত সৈনিক নাঈমুল ইসলামকে মুক্তি দিতে হবে। এই চার দফা দাবিতে রবিবার সকাল থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে তাদের কর্মসূচি শুরু করেন। যদিও ব্রিগেডিয়ার আমিনুয়ার রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সেখানে যায়, এবং বলা হয়, তাদের আবেদন সেনা সদর দফতরে জমা করুন। এবং সোমবার সেনা সদরে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয় আলোচনার জন্য। এমনকি তাদের সব দাবি পূরণ করার জন্য মৌখিকভাবে একটি আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু তাতে আন্দোলনকারীরা আশ্বস্ত হননি। বরং যে প্রতিনিধি দল তাদের সঙ্গে কথা বলতে আসছিল, তাদের গাড়ি আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন।
উল্লেখ্য, গত ১৪ মে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয় এই ধরনের মোট ৮০২টি আবেদন গৃহীত হয়েছে, যার মধ্যে ১০৬টি আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে এবং বাকি আবেদনগুলিকে প্রক্রিয়াধীন রাখা হয়েছে, যেগুলি সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও মানবিকতার সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এত বছর ইতিহাসে বাংলাদেশে এই ঘটনা কখনো দেখা যায়নি। আসলে সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করতে দেশের বাইরে থেকে একটি ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যদি সেনা সদস্যদের উপর চাকরি করে নিয়ে বা জোর করে অবসরে পাঠানো নিয়ে অভিযোগগুলি সত্যি হয়ে থাকে, তখনকার সেনাপ্রধানের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। এবং সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে যখন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার জামানের বিরুদ্ধে নানা রকম ষড়যন্ত্র চলছে, ঠিক সেই সময় তারা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। এতে বাইরের কোনও শক্তির ইন্ধন রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কিছুদিন আগেই শোনা গিয়েছিল, ১১ ই মে মোঃ ইউনুস চুপিসারে পৌঁছে যান রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর দরবারে। সেখানে গিয়েই মহম্মদ ইউনুস বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে সরিয়ে দেওয়ার একটি প্রস্তাব নিয়ে আসেন। এমনকি একটি চিঠিও দেওয়া হয় রাষ্ট্রপতিকে। আর সেই চিঠি ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে তিনি বাহিনীর প্রধান দেখা করতে যান বলে খবর। আর সেখানেই আলোচিত হয়, দেশের মানুষ এখনও সেনাবাহিনীর ওপরই আস্থা রাখছে। আর তারপরই আলোচনা করে ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া যায়। আর তারপরই সাবেক সেনা সদস্যদের বিক্ষোভে নামা, অনেকগুলি প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।












Discussion about this post