প্রতিবেশীর রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত উত্তাল হচ্ছে সংঘর্ষ বিক্ষোভ ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে যেকোনো সময় সেনা অভ্যুত্থান ঘটতে পারে সে দেশে। কিন্তু সেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকার জামান যে এই সেনা অভ্যুত্থান করার পক্ষপাতির নন তা বারেবারে প্রমাণিত তার বক্তব্যের মাধ্যমে। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে কঠোর থেকে কঠোরতর হচ্ছে। কিছুদিন আগেই প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুস সেনাপ্রধান কে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গে একটি চিঠি পাঠান রাষ্ট্রপতিকে। আর এই ঘটনা জেড়ে ই সেই সময় সেনাপ্রধানের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সকল বাতিল হয়। কিন্তু সূত্র বলছে পরবর্তী চীন সফরে আগামী মাসে যাবেন সেনাপ্রধান । কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে এই সফরের আগে কি বাংলাদেশে মোহাম্মদ ইউনুসের আধিপত্য শেষ করে, সেনাশাসন জারি করা হবে ?
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গত বুধবার বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে এক বৈঠকে নির্বাচন, রাখাইনের জন্য মানবিক করিডর প্রসঙ্গ এবং মব বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিষয়সহ সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে কথা বলেছেন। যা সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশ হয়েছে।
এমনই এক আবহে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বৃহস্পতিবার অন্যান্য উপদেষ্টাদের সঙ্গে এক অনির্ধারিত বৈঠকে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর অসহযোগিতা ও নানা রকম প্রতিবন্ধকতার কারণে তার সঠিকভাবে সরকার কাজ করতে পারছে না বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ।
আবার প্রধান উপদেষ্টা এমন একটা সময় তার পদত্যাগের কথা প্রকাশ্যে আনলেন যখন বিএনপি রাজপথে তাদের কর্মসূচি শুরু করেছে এবং নির্বাচন নিয়ে বিলম্ব করা হলে এ সরকারের প্রতি বিএনপির সমর্থন আর অব্যাহত না রাখার ইঙ্গিতও দেওয়া হচ্ছে।
এক কথায় বলা যায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এক সংকটময় পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে অবস্থান করছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের আলোচনা সামনে আসায় এ সরকারের ভবিষ্যত নিয়েই অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে।
কিন্তু অধ্যাপক ইউনূসকে কেন পদত্যাগের চিন্তা করতে হচ্ছে? এই প্রশ্নটাই যেন বারে বারে উঠে আসছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে।
সরকারের গত নয় মাসে প্রথম দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং পরে এনসিপির ব্যানারে বিভিন্ন ইস্যু তুলে রাজপথে অবস্থানসহ নানা কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে।
সর্বশেষ এনসিপির তরফে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভনের সামনেও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে।
উল্লেখ্য বিএনপি বিভিন্ন সময় সরকারের বিরুদ্ধে এনসিপির প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেছে। তারা সেই অভিযোগকে সামনে এনে রাজপথে নেমে সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়েছে।
কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সদ্য অন্তর্ভুক্তিক সরকারের দ্বারা নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের প্রতিক্রিয়া নিয়ে নানা রকম জল্পনা শুরু হচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতারা কয়েক মাস ধরেই দাবি করে আসছেন, দেশে একটি জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে স্থায়ী সরকার আসুক। ঠিক যেমনটা পূর্ববর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় হয়েছিল। সেনা সমর্থিত সেই সরকার আওয়ামী লিগ-সহ সব দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হোক। শেখ হাসিনা-সহ দলের নেতাদের নিরাপত্তার সাথে দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হোক।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বহুল চর্চিত নাম এখন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকাররুজ্জামান। বাংলাদেশের বহু সাধারণ মানুষ চাইছেন দেশের এই অস্থিরতায় সেনাবাহিনীই দেশের ক্ষমতা হাতে তুলে নিক । দেশ বিদেশ থেকে বহু বাংলাদেশিরা সে দেশে সেনা শাসনের আর্জি জানিয়ে সমাজমাধ্যমে ঝড় তুলছে । সেনা প্রধান ওয়াকার উজ জামান যে ক্ষমতা দখল করতে চান না তা বারে বারে তার বক্তব্যে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বারংবার বলেছেন নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে ব্যারাকে ফিরতে চান সেনাবাহিনী। কিন্তু সাধারণ মানুষ মনে করছেন ইউনুস সরকারকে নিয়ে যে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে একমাত্র সেনাবাহিনীই পারে দেশে শান্তি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে।












Discussion about this post