গত ৪৮ ঘন্টা যাবৎ বাংলাদেশের অন্দরে একটাই আলোচনা তৈরি হয়েছিল। তা হল মোহম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ প্রসঙ্গ। কিন্তু এর মধ্যেই খেলা ঘুরে গেল। মহম্মদ ইউনুস পদত্যাগ করছেন না। জানিয়ে দেওয়া হল সরকারের তরফে। অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানিয়ে দিলেন। জানা গিয়েছে, শনিবার ঢাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। সেই বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের মুখোমখি হন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি জানিয়ে দেন, ইউনূস এবং অন্য সকল উপদেষ্টা স্বপদে বহাল থাকছেন। কেউ পদত্যাগ করছেন না।
ইউনূসের পদত্যাগের ইচ্ছে প্রকাশের কথা জানা যায়, বৃহস্পতিবার ঢাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদেরp নিয়মিত বৈঠক শেষে। সূত্রের খবর, সেখানেই তিনি তার পদত্যাকে ইচ্ছে প্রকাশ করেন। জানা যায়, বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি হতাশ। অর্থাৎ প্রত্যেকদিন বাংলাদেশের নানা প্রান্তে আন্দোলন, বিক্ষোভ হয়েই চলেছে । আর তাতেই তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি যে সংস্কারে লক্ষ্য নিয়ে সরকার গঠন করেছিলেন, তার সঙ্গে একমত হতে পারছে না দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কাজ এগোচ্ছে না। এমনকি নানা অসহযোগিতা আসছে কাজে। এমনকি সূত্র মারফত খবর, জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে চেয়েছিলেন মহম্মদ ইউনুস। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং কোথায় কিভাবে কাজ হবে সেই নিয়ে খোসরা প্রায় প্রস্তুত করা হয়ে গেছিল। কিন্তু পরে তার স্থগিত হয়ে যায়। অবশ্য এই নিয়ে পড়ে চিন্তা ভাবনা করতে পারে সরকার, সেটাও জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা একাধিকবার জানিয়েছিলেন, এ বছরের ডিসেম্বর থেকে জুন মাসের মধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করা হবে। কিন্তু সূত্র মারফৎ খবর, বৃহস্পতিবারের বৈঠকে তিনি নির্বাচন নিয়ে সন্ধিহান প্রকাশ করেছেন। এর কারণ, বাংলাদেশের যেভাবে একের পর এক ঘটনা ঘটছে, তাতে সুষ্ঠ এবং অবাধে নির্বাচন আদেও হওয়া সম্ভব কিনা, সেটা নিয়েই সন্ধিহান প্রকাশ করেছেন ইউনুস। এদিকে বাংলাদেশের অন্দরে অভিযোগ উঠেছে, তিনি নাকি নির্বাচন নিয়ে গড়িমসি করছেন। শুধু তাই নয়, বিএনপি থেকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিও কাঠগড়ায় তুলেছেন প্রধান উপদেষ্টা কে। সম্প্রতি দেখা গেল সেনাপ্রধানও সেনানিবাসে সেনা কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে ডেডলাইন দিয়েছেন। আর সেটা ডিসেম্বর। এমনকি মানবিক মানবিক থেকে বন্দর, একাধিক বিষয়ের উত্থাপিত করেছিলেন দরবার হলে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে তারপর তিনি বিএনপির সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়ে দিয়েছে, যেকোনো মুহূর্তে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সমর্থন তারা প্রত্যাহার করে নেবে। তার একদিন পরই মোহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের ইচ্ছে প্রকাশ। অনেকেই দুইয়ে দুইয়ে চার করার চেষ্টা করছিলেন। তবে আচমকায় সাংবাদিকদের পরিকল্পনা উপদেষ্টা জানিয়ে দিলেন, প্রধান উপদেষ্টা পদত্যাগ করছেন না। পাশাপাশি অন্যান্য উপদেষ্টারাও নিজেদের পদে বহাল থাকছেন। তবে এটা নতুন কোনও ষড়যন্ত্র নয় তো? এই বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।












Discussion about this post