বাংলায় একটি প্রবাদ রয়েছে যে, জাহাজ ডুবতে শুরু করলে আগে লাফিয়ে পড়ে ইঁদুর। আর সেটাই এখন অক্ষরে অক্ষরে মিলছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক আঙিনায়। ঠিক যখনই মোহাম্মদ ইউনুস তার পদত্যাকে ইচ্ছে প্রকাশ করলেন, তখনই একে একে লাফ দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেন বহুমানুষ। যারা নাকি এক সময় মোহাম্মদ ইউনূসের আস্থার ব্যক্তিত্ব ছিলেন। সেই তালিকায় ছাত্রনেতাও রয়েছেন।
আসলে বাংলাদেশে দুদিন ধরে মহম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ নিতে সরগরম ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু হঠাৎই এক লোকমায় সেটা মুছেও গেল।
ইউনুস পদত্যাগ করছেন না। জানিয়ে দেওয়া হল সরকারের তরফে। অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানিয়ে দিলেন। জানা গিয়েছে, শনিবার ঢাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। সেই বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের মুখোমখি হন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি জানিয়ে দেন, ইউনূস এবং অন্য সকল উপদেষ্টা স্বপদে বহাল থাকছেন। কেউ পদত্যাগ করছেন না। এমনকি সেই তালিকায় রয়েছে ছাত্রনেতাও।
ইউনূসের পদত্যাগের ইচ্ছে প্রকাশের কথা জানা যায়, বৃহস্পতিবার ঢাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের নিয়মিত বৈঠক শেষে। সূত্রের খবর, সেখানেই তিনি তার পদত্যাকে ইচ্ছে প্রকাশ করেন। জানা যায়, বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি হতাশ। অর্থাৎ প্রত্যেকদিন বাংলাদেশের নানা প্রান্তে আন্দোলন, বিক্ষোভ হয়েই চলেছে । আর তাতেই তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি যে সংস্কারে লক্ষ্য নিয়ে সরকার গঠন করেছিলেন, তার সঙ্গে একমত হতে পারছে না দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কাজ এগোচ্ছে না। এমনকি নানা অসহযোগিতা আসছে কাজে। এমনকি সূত্র মারফত খবর, জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে চেয়েছিলেন মহম্মদ ইউনুস। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং কোথায় কিভাবে কাজ হবে সেই নিয়ে খোসরা প্রায় প্রস্তুত করা হয়ে গেছিল। কিন্তু পরে তার স্থগিত হয়ে যায়। অবশ্য এই নিয়ে পড়ে চিন্তা ভাবনা করতে পারে সরকার, সেটাও জানা গিয়েছে।
তার পদত্যাগের কথা সামনে আসতেই, পরের দিনই বিএনপির তরফে একটি ইঙ্গিতপপূর্ণ মন্তব্য করা হয়। বলা হয়, যেকোনো মুহূর্তে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সমর্থন তারা প্রত্যাহার করে নিতে পারে। অর্থাৎ যে বিএনপি বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির সরকার গঠন করার জন্য পাশে ছিল, সেই এখন ইউনুসের পাশ থেকে সরে যাচ্ছে। এছাড়াও একের পর এক নাম সামনে এসেছে, যারা ইউনূসের অত্যন্ত কাছের বন্ধু। তারা নাকি পালিয়ে যাবার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাদের বাংলাদেশ ছাড়া নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছেন খলিলুর রহমান থেকে রিজওয়ান হাসান। শুধু তাই নয়, সেনাপ্রধানও এখন বিপরীত অবস্থান নিচ্ছেন নির্বাচন ইসুতে। ফলে যারা যারা মহম্মদ ইউনূসের পাশে ছিলেন, তারা প্রত্যেকেই সরে যাচ্ছেন। আরেকজন রয়েছেন ইশরাক হোসেন। তিনিও এখন বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছেন। শুধু তাই নয়, কিছুদিন আগে মাহফুজ আলম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি যা লিখেছিলেন তার সারমর্ম হল, বিতর্কিত কথা বলার জন্য দুঃখিত। এবং যতদিন সরকারের রয়েছে মানুষের হয়ে কাজ করব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এখানেই জোর দেওয়ার চেষ্টা করছেন, মাহফুজ আলম জানেন, এই ইউনুস সরকার বেশিদিন ক্ষমতাই নেই। তাই এখন সুর বদল করার চেষ্টা করছেন। তবে এখন তিনি পদত্যাগ করছেন না, সেটা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, শেষমেশ কি পরিস্থিতি হয় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের।












Discussion about this post