বাংলাদেশে এখন একটা ইস্যুই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে। তা হল নির্বাচন। নির্বাচন নিয়েই বাংলাদেশের অন্দরে নানা মন্তব্য বক্তব্য। এমনকি সরকার বা প্রশাসনিক কর্তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। এদিকে বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান বলছেন, নির্বাচনের জন্য কোনও নির্দিষ্ট কোনও তারিখ কেন ঘোষণা করা হচ্ছে না? সেটা স্পষ্ট নয়। কিন্তু এই সরকারের আমলে নির্বাচন যে খুব সহজে আদায় করা যাবে না, সেটা প্রায় প্রত্যেকের কাছেই স্পষ্ট। তবে বিএনপি কেন এখনও পর্যন্ত সেই স্পষ্ট ধারণা করতে পারেনি? তবে রবিবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পরে নাগরিকত্বের সভাপতি এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন। কোনও অবস্থাতেই এপ্রিলের পরে নয়। প্রধান উপদেষ্টা নাকি জানিয়েছেন, ক্ষমতা নাকি তিনি দীর্ঘস্থায়ী করতে চান না। আর এখানেই প্রশ্ন হচ্ছে, এপ্রিল কেন? কোনভাবে কি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য? নাকি এর পিছনে কোনও এজেন্ডা রয়েছে। এই প্রশ্নটা আরও বেশি করে উঠছে, তার কারণ সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান সেনানিবাসে সেনাকর্তাদের বৈঠকে মানবিক করিডর থেকে থেকে বন্দর, এমনকি বেশ কিছু বিষয় নিয়ে মন্তব্য করেন। তারপরই তাৎপর্যপূর্ণভাবে সর্বদলীয় বৈঠকে ডাকেন মহম্মদ ইউনূস। শনিবার বৈঠক করেন এনসিপি, জমাত এবং বিএনপি দলের সঙ্গে। রবিবার আরও বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা। এখানে প্রশ্ন উঠছে, বিএনপি এখন বাংলাদেশে সবথেকে শক্তিশালী রাজনৈতিক দল। কিন্তু সেই দলের সঙ্গে বৈঠক করতে আরও দুটি দলকে নেওয়া হল। এখানে বিএনপিকে ছোট করে দেখা হলো বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। এই বৈঠকে বিএনপি নির্বাচন ইস্যু নিয়েই কথা বলেছে। এছাড়াও বিতর্কিত তিন উপদেষ্টার পদত্যাগ চেয়েছেন।
কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জোর দিচ্ছেন অন্য জায়গায়। সরকারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন হবে। অর্থাৎ বছর ঘুরলে তবেই নির্বাচন। হয়তো এটা মেনেও নিয়েছে বিএনপি। তবে বিএনপি যে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চাইছিল, যেমনটা চাইছিলেন সেনা প্রধানও, সেটা শেষমেশ হল না। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রথম থেকেই বলে এসেছিলেন, জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। অর্থাৎ বছর ঘুরলে। শেষমেষ সেটাই হল। এখানেই সরকারের বাজিমাত। বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ইশরাক হোসেন হোক বা অন্য কোনও ইস্যু, বিএনপি প্রবলভাবে আন্দোলন প্রতিবাদ করে নিজেদের দাবি ছিনিয়ে আনে। সেখানেই পরিচয় দেয়, বিএনপি বাংলাদেশে শক্তিশালী রাজনৈতিক দল। কিন্তু এবারে কেন তারা সেই চাপটা দিল না সরকারকে বা প্রভাবিত করা গেল না সরকারকে, সেই নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।












Discussion about this post