বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এখন একটা প্রশ্ন মাথাচাড়া দিচ্ছে। সেটা হল, সেনাপ্রধান কি রাষ্ট্র ক্ষমতা হাতে নেবে? দেশে কি সেনা শাসন জারি হবে? অন্তত সেনানিবাসে সেনাপ্রধানের হুঙ্কার শুনে সেটাই মনে হচ্ছে। তবে সেনাপ্রধান একাধিকবার বলেছেন, সেনা শাসন জারি হওয়ার মত একাধিবার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তিনি ক্ষমতা নিতে চান না। তাই সেটা গ্রহণ করেননি। অন্তত জেনারেল ওয়াকারের সেই মন্তব্য শুনে এটা নিশ্চিত হওয়া যায়, তেমন গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি না হলে, সেনাপ্রধান নিজের হাতে ক্ষমতা নেবেন না। এই ধারণা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পরও কেন সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করা হচ্ছে? কেন সরকারের প্রতিপক্ষ করে তোলা হচ্ছে? সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট দেখলে বোঝা যায়, সেনাপ্রধান এবং সরকার ভিন্ন মেরুতে অবস্থান করছে। কিন্তু এই তিক্ততা কেন এল? যদিও এক্ষেত্রে নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে দোষ দিচ্ছেন অনেকে। এমনকি বিএনপিও খলিলুর রহমানকেই দোষারোপ করছে। এবং নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদত্যাগ পর্যন্ত চেয়েছে বিএনপি। শুধু বিএনপি নয়। সেনাপ্রধান এবং সরকারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টিতে এনসিপিকেও দায়ী করা হচ্ছে। এনসিপির বহু নেতার লাগামহীন কথা সেনাপ্রধান এবং সরকারের বিরোধ সৃষ্টি করেছে। এমনকি আসিফ মোহাম্মদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে সেনাবাহিনী বা সেনাপ্রধানের দিকে বারবার আঙুল উঠছে কেন? সেনাপ্রধান কি আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে? কারণ শেখ হাসিনার সঙ্গে সেনাপ্রধানের একটি আত্মীয়তার সম্পর্কও রয়েছে। সেখান থেকেই কি সেনাপ্রধান এমন আচরণ করেছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে,যেটা থেকে প্রশ্ন উঠতে পারে? সেই কারণেই নানা মন্তব্য উঠে আসছে? কিন্তু মনে রাখা উচিত, যখন গণঅভ্যুত্থানে উত্তাল হয়েছিল দেশ, তখন সেনাবাহিনী আসরে নেমেছিল। এমনকি সেনাবাহিনী ছাত্রদের পক্ষেই ভূমিকা রেখেছিল। এমনকি আওয়ামী লীগের পতন হয়ে যাওয়ার পর সেনাপ্রধান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে দিয়েছিলেন। যাতে কোনওরকম ভাবে দেশ বিপদে না পড়ে। কিন্তু এখন সেনাপ্রধান এবং সরকারকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়ে লড়াই লাগিয়ে দিতে চাইছে কিছু পক্ষ। সেনাপ্রধান ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চেয়েছে। কিন্তু এটা তো প্রথম নয়। এর আগে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার বলেছিলেন ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচন দেখতে চাই। তখন তো সেনাপ্রধান এবং সরকার এককাট্টা হয়ে কাজ করেছে। কিন্তু কারা বিরোধ তৈরি করছে? আদেও কি তাদের চিহ্নিত করতে পেরেছে সরকার? তাদের বিরুদ্ধে কি কোনও পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার?
গত বছর থেকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত বিশৃংখল জায়গায় রয়েছে। এখনও সেই পরিস্থিতির বদল ঘটেনি। ফলে বহু সাধারণ মানুষই রব তুলেছিলেন, সেনাবাহিনীর হাতে ক্ষমতা দিয়ে দেওয়া হোক। এটা আজকের ঘটনা নয়। কাজেই সেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন বেশ কিছু পক্ষ,সেটা স্পষ্ট। আসলে সরকার এবং সেনাবাহিনীকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে নিজেদের স্বার্থ লুট করতে চাইছেন বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।












Discussion about this post