কিছুদিন আগেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস পদত্যাগের ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু অনেকে বলছেন, আসলে প্রধান উপদেষ্টা নাটক করেছেন। তিনি চাইছিলেন, পদত্যাগের রব তুলে দিয়ে অন্যদের থেকে সহানুভূতি পাওয়া যায়। অনেকে বলছেন, এই মুহূর্তে যমুনাতে পদত্যাগের বিষয়টি আর নেই। ফের নতুন করে ঘুঁটি সাজানো চলছে। আসলে বিষয়টি ঠিক কি?
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম মানব জমিন একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। যেখানে তারা বলছে, পদত্যাগ নয়, নতুন করে গুটি সাজানো হচ্ছে। ঠিক যেমনটা দাবা খেলায় হয়ে থাকে। রাজা যখন চেক মেট হয়ে যায়, তখন নতুন করে সাজাতে হয়। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পরিস্থিতির সেদিকেই এগোচ্ছে। ভিন্ন মতলবে যারা ঘুঁটি চালাচালি করছিলেন, তারা এখন মুখ লুকাচ্ছে। পরিস্থিতি যে একেবারে তাদের অনুকূলে নেই, সেটা বোঝা যাচ্ছে। অন্তত কয়েকজনকে বিদায় নিতে হবে। এমনটাই লিখেছে মানবজমিন। এছাড়াও তারা লিখছে, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হবে। এটা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই সরকার বাঁচানোর। এমনকি বলা হচ্ছে, অন্তত চার জন উপদেষ্টাকে ছাঁটাই করতে বাধ্য হচ্ছে সরকার। সম্প্রতি কার্যকলাপ দেখে তিন জন উপদেষ্টার নাম বলছেন অনেকে। নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, মাহফুজ আলম। আর একজন ব্যক্তি কে হতে পারেন, সেই নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে আসছে। তবে সংবাদ মাধ্যমটি দুটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। যেটাতে জোর দিচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তিনি বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হবে এবং চার জন উপদেষ্টাকে সরাতে হবে। কারণ এদের বিরুদ্ধে বিএনপি গুরুতর অভিযোগ এনেছে। আর সেটা সরকার না করতে পারলে সম্মান রক্ষার্থে অন্তর্ভুক্তি কালীন সরকারকে পদত্যাগ করতে হতো। কিন্তু তিনি পদত্যাগ করবেন না। বরং উপদেষ্টা পরিষদের কাটছাঁট করা হবে। ওই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ওই দুটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে সরকারকে।
যদিও সরকারের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচন হবে। অর্থাৎ মোহাম্মদ ইউনুস বরাবরের মতো বলে আসছিলেন, পরের বছরে জুনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হবে। আর সেটাই প্রায় হতে চলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি চাপ সৃষ্টি করতে পারল না, যাতে বাধ্য হয়ে সরকার ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করে। এখানেই সরকারের বাজিমাত। বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার, শেষমেশ বাংলাদেশের এই জটিল পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে পৌঁছয়!












Discussion about this post