গত বছর ৫ই অগাষ্ট, শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। তারপরই অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। তার মাথায় বসানো হয় নোবেল জয়ী মোহম্মদ ইউনূস। তারপর থেকেই দেশের মধ্যে ইউনুস প্রায় হিরো হয়ে উঠেছেন। অনেকে বলছেন, তিনি বড় অর্থনীতিবিদ হলেও তার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে পারদর্শী নন। এরপর ছাত্রনেতাদের অবাধ শক্তি দিয়ে বিপদে পড়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। কারণ তার সরকারের বয়স ৬ মাস হতে না হতেই নানা জায়গায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মিছিল বেরোতে থাকে। প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে স্লোগান, প্রতিবাদে মুখরিত হয় দেশের একাধিক প্রান্ত।
শুধু তাই নয়, আওয়ামী লীগের কার্যকলাপ নিষিদ্ধ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তার ফলে সমালোচনার মুখে পড়েছে এই তদারকি সরকার। এমনকি এই সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই সরকারের সেনা বাহিনী ছিল শক্তি। তবে সম্প্রতি সেনাপ্রধান সেনানিবাসে যে যে বক্তব্য রেখেছেন, তাতে সেনাবাহিনী এবং সরকার বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। এদিকে বিএনপির চাপ। তারা বলছে, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দিতে হবে। এই সমস্ত পরিস্থিতির মধ্যে দেখা যায়, মোহাম্মদ ইউনুস পদত্যাগের ইচ্ছে প্রকাশ করেন। তারপর দেখা যায়, এটাও ঘোষণা করে দেওয়া হয়, মোহাম্মদ ইউনুস পদত্যাগ করছেন না। আসলে প্রত্যেকে তাকে বুঝিয়ে, সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরিয়ে নিয়ে এসেছেন। আসলে ছাত্রনেতা এবং রাজনৈতিক দলগুলির ভয় ছিল, মোহাম্মদ ইউনুস পদত্যাগ করলে হয়তো আওয়ামী লীগ সুযোগ নেবে। শেষমেষ বোঝা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের বহু নেতাকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা হবে এবং তারপর নির্বাচন হবে। অযোগ্যদের বাদ দেওয়া হবে। সোজা কথায় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কিছু অচেনা মুখকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে। শেখ পরিবারকে অংশ গ্রহণ করতে দেওয়া হবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এরপর আওয়ামী লীগের মধ্যে ভাঙন দেখা যেতে পারে। তবে হাসিনার নেতৃত্বে থাকবে। তবে এই ঘটনায় আওয়ামী লীগ লাভবান হয়েছে। তবে রাজনীতিতে শেষ বলে কোনও কথা নেই। শেষ কথা বলবে জনগণ। অন্যদিকে যারা ভাবছেন, আওয়ামী লীগকে শেষ করে দেওয়া গিয়েছে, তারা একেবারেই ভুল বলে বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।












Discussion about this post