ফের নিজের বিপদ নিজেই বাড়ালেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। ২রা জুন সোমবার ৩২ টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। তার মধ্যে ২৬ টি দল তার সঙ্গে কথা বলেছে। সূত্রের খবর, এরমধ্যে ২৩ টি রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চেয়েছে। অর্থাৎ আরো ব্যাকফুটে চলে গেলেন প্রধান উপদেষ্টা এবং তার প্রিয় রাজনৈতিক দল এনসিপি। যদিও অনেকে বলছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন যাওয়ার রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে বিভেদ তৈরি করে এখান থেকে বাঁচার পথও বের করে রেখেছেন ইউনুস। যেটা ঈদের পর হবে। আসলে কোন পথে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন কালীন সরকার? চলুন বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান সেনানিবাসে সেনাকর্তা ও সেনা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা বলেছিলেন। আর সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই চাপ বাড়তে শুরু করে মোহম্মদ ইউনূসের। কারণ সেনাপ্রধানের সঙ্গে একই ভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দল বিএনপির চাইছিল ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হোক। সেই কারণেই তিনি পদত্যাগের ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন বলে সূত্র মারফত খবর। পরে অবশ্য সিদ্ধান্ত বদল হয়। তবে শুধু বিএনপি বা সেনাপ্রধান নয়, ডিসেম্বরে নির্বাচন হোক চাইছে বহু রাজনৈতিক দল। আর সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে জাপান সফরে গিয়ে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করে এসেছেন ইউনুস। তিনি বলেছেন, একটি মাত্র রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চাইছে। অর্থাৎ তিনি যে বিএনপিকে ইঙ্গিত করছেন, সেটা আর বলার অপেক্ষায় রাখে না। এদিকে সেই নিয়ে সোচ্চারও হয়েছে বিএনপি। এই পরিস্থিতিতে সংস্কার জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের সঙ্গে ২রা জুন বৈঠক হয় দেশের ৩২টি রাজনৈতিক দলের। এই বইটাকে অংশগ্রহণ করে বিএনপি জামাত সহ একাধিক রাজনৈতিক দল। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে সংস্কারের থেকে নির্বাচনের বিষয়ে আলোচিত হয়েছে বেশি। ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চেয়েছে প্রায় ২৩ টি রাজনৈতিক দল। গোপন সূত্রে খবর, বৈঠক শুরুতে আবেগী হয়ে বক্তব্য রাখলেন মহম্মদ ইউনূস। কিন্তু তিনি জানতেন না, পরবর্তীতে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল তার বিপক্ষে যাবে। এমনকি রাখাইন করিডোর ও বন্দর নিয়ে সরকারকে দোষারোপ করে বেশ কিছু রাজনৈতিক দল। এমনকি কেন ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দেওয়া হবে না, প্রশ্ন তুলে বেশ কিছু দল। এদিকে ঐক্যমত কমিশনের সহ সভাপতি বলেন, সংস্কার বিষয়ে জাতিসংঘের ভিত্তিতে নির্বাচন দিতে চায় সরকার। রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বরা বলেন, সংবিধান সংস্কার ছাড়া বাকি সব গুলি নির্বাহী আদেশে করা সম্ভব। সেটির জন্য ১০ মাস লাগে না। এমন কি কেউ কেউ বলেন, জাপানে গিয়ে মহমুদ ইউনুস সত্যের অপলাপ করেছেন। সামগ্রিকভাবেই বৈঠকে চাপে পড়েছেন ইউনূস। বৈঠক শেষে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, নির্বাচন কোনওভাবেই ডিসেম্বরের পর যাওয়ার কারণ নেই। এমন কোনও সংস্কার নেই, যেটা এক মাসের মধ্যে করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। বিএনপির পক্ষ থেকে বৈঠকে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে, সংবিধান সংস্কার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তরফে করা সম্ভব নয়। সংবিধান সংস্কার ছাড়া বাকি সংস্কারগুলি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এক মাসের মধ্যে করা সম্ভব। ২ রা জুনের এই বৈঠকে ইউনুস স্পষ্ট বার্তা পেয়ে গিয়েছেন, সেটা হল, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। ঠিক যেমনটা বলেছিলেন সেনা প্রধান। এমনকি বিএনপিও সেটা প্রথম থেকেই বলে আসছে। এই বৈঠকে ইউনুস যে বিপাকে পড়লেন সেটা পরিষ্কার। এর থেকে কি করে বেরোবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার?
সূত্র বলছে, এরকম ঘটনা যে ঘটতে পারে সেটা আগেই আন্দাজ করেছিল তদারকি সরকার। ফলে তারা এখান থেকে বাঁচার পথও আগে থেকে তৈরি করে রেখেছিল। সেই কারণেই ঈদের পর সেই কারণেই ঈদের পর মোহম্মদ ইউনূস এবং তাদের মিত্রদের করণীয় কি হবে, সেটা ঠিক হয়ে গিয়েছে। সেই ইঙ্গিত পাওয়া যায় যখন বৈঠক শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বক্তব্য রাখেন। আগামী ৫ই অগাষ্ট জুলাই আন্দোলনের এক বছর সম্পন্ন হবে। তার আগে যেন নির্বাচনের দিন ঘোষণা না হয়। তাদের সংস্কারে ব্যাহত হতে পারে। নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে বলে জানান তিনি। যে যে দাবি নাহিদ ইসলাম করেছেন তাতে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন না হয়, সেজন্য ঈদের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথমটি হল, জুলাই ঘোষণাপত্র। ১০ই মে, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করা হয় উপদেষ্টা পরিশোধের বৈঠকে। সেই বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়েছিল, জুলাই ঘোষণাপত্র পরবর্তী ৩০ টি চূড়ান্ত করে প্রকাশ করবে সরকার। সরকার যে ৩০ টির কথা বলেছিল, সেটা শেষ হবে ৩০ জুন। এদিকে জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকি ৩১ সে মে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জুলাই ঘোষণা পত্র প্রকাশ করতে চেয়েছিল। সেটা নিয়ে তখন রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। তখন প্রেস সচিব সরকার এর সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় বলে জানানো হয়েছিল। তড়িঘড়ি একদিনের মধ্যে জরুরী প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানিয়ে দেয়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে জুলাই আন্দোলনের একটি ঘোষণাপত্র তৈরির উদ্দোগ নিয়েছে। ওই রাতে বৈঠক করে শহীদ মিনারে মার্চ ফর ইউনিটি কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টি। ওই কর্মসূচি থেকে জুলাই ঘোষণাপত্র ঘোষণার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে ১৫ ই জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়। তবে ১০ই জানুয়ারি এসে অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্ত বদল করেছিল। জুলাই ঘোষণাপত্র সরকার দেবে না। এই ঘোষণা পত্র তৈরি করার জন্য সরকার রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করবে। সেই অনুযায়ী ১৬ই জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস বিএনপি এবং জামাত ইসলামী সহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে জুলাই ঘোষণাপত্রে একটি খসড়া তুলে ধরা হয় । বিএনপি সহ একাধিক রাজনৈতিক দলের নেতারা বলছেন, গত ১৬ই জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা যে সর্বদলীয় বৈঠক হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন সেটি ছিল একটি ওয়াশ। সেখানে জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে কোন রকম ঐক্যমত হয়নি। ঐক্যমত হয়নি বলে সরকারের পক্ষ থেকে ২৩ শে জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। এদিকে রাজনৈতিক দলের নেতারা বলছেন, ঘোষণাপত্রে একটি বাক্য নিয়ে প্রত্যেককে সরব হয়েছিল। এদিকে বিএনপি সহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দল গণঅভ্যুত্থানকে বিপ্লব বলে মনে করে না। সূত্র বলছে, ঈদের পর এই বিভেদ কে সামনে রেখে সরকার সময় ক্ষেপণ করতে চায়। ঈদের পর বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের দাবি নিয়ে মাঠে নামবে। তখন এনসিপি সহ বেশ কিছুক্ষন দাবি তুলবে জুলাই ঘোষণাপত্রের। তখন সরকার এই রাজনৈতিক দলগুলি উপর দোষ চাপাবে। এমন একটি চক্রান্ত করা হয়েছে। এদিকে জুলাই ঘোষণাপত্র আন্দোলন ঝিমিয়ে পড়লে, সামনে আনা হবে জুলাই সনদ। এমন একটি ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা হতে চলেছে বাংলাদেশের অন্দরে। এখন দেখার শেষ নেই কি পরিস্থিতি তৈরি হয়।












Discussion about this post