বাংলাদেশের সেনাপ্রধান এবং প্রধান উপদেষ্টার মধ্যে দূরত্ব বেড়েছিল ঠিকই। কিন্তু সেনাপ্রধান জেনারেলকে সরিয়ে দেওয়ার ছক? পরিবর্তে তদারকি সরকারের পছন্দের সেনাপ্রধান? তিনিই বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর দায়িত্ব নিলেন? কিন্তু কেন? তবে কি মহম্মদ ইউনূস নিজেকে বাঁচাতে, নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকতে ওয়াকারকে সরিয়ে সব দায় ঝেড়ে ফেললেন? এই প্রশ্নগুলি কেন উঠছে? তার কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে বেশ কিছু পোস্ট।যে পোস্টে ছত্রে ছত্রে এই দাবিই করা হচ্ছে। আসলে সত্যিটা ঠিক কি? সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান নিজের পদে আছেন নাকি সত্যিই তাকে সরিয়ে নতুন সেনাপ্রধান বহাল করা হল?
বাংলাদেশের সরকার এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে। সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু দুই পক্ষই মুখে বলছে ঠিক আছে। যদিও কতটা ঠিক আছে, দেখছে বাংলাদেশের মানুষ। সেটার প্রমান বহুবার পাওয়া গিয়েছে। বিশেষ করে যখন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান নির্বাচন নিয়ে মুখ খুলেছে, তখন আরও প্রকটভাবে দেখা গিয়েছিল যমুনা আর ক্যান্টনমেন্টের দূরত্ব টা কতটা। তারমধ্যে আরও বেশি করে উস্কে দিলz সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ভাইরাল পোস্ট। যেখানে দাবি করা হচ্ছে, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে অবশ্যই হাত রয়েছে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসের। এরই মধ্যে নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে কয়েকটি নাম উঠে আসছে ভাইরাল পোস্টগুলোতে। তবে এই পোস্ট ভাইরাল হতেই অনেকের প্রতিবাদও করছেন। বাংলাদেশের তথ্য অনুসন্ধানকারী সংস্থা রিউমর স্ক্যানারের তরফে দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে সরিয়ে দেওয়ার খবরটি ভুয়ো। মিথ্যে প্রচার করা হচ্ছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া সমস্ত তথ্য যে ভুয়ো সেটা প্রমাণিত হয়েছে। কারণ এর পরবর্তীতে সেনাপ্রধান গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অনুষ্ঠানে যোগদান করেছিলেন। যোগ দিয়েছেন সেনাপ্রধান হিসাবে বলে সূত্রের খবর।
আসলে বাংলাদেশে এখন রাজনৈতিক অস্থিরতা তুঙ্গে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিশালী রাজনৈতিক দল বিএনপি চাইছে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হোক। যে দাবি এর আগে সেনাপ্রধানও করেছিলেন। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস চাইছেন, আগামী বছর জোনের মধ্যে নির্বাচন করাতে। আর সেটা নিয়েই এখন বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিএনপি আর সেনাপ্রধান এই ইস্যুতে সরকারের বিপক্ষে অবস্থান করছে। সেটা এই দাবির নিরিখেই বোঝা যায়। শুধু তাই নয়, জাপান সফরে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, একটি মাত্র রাজনৈতিক দল চাইছে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হোক। অর্থাৎ ইউনুস যে বিএনপিকে নিশানা করছে সেটার বলার অপেক্ষা রাখে না। যদিও তা নিয়ে সোচ্চার হয়েছে বিএনপি। আর এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েই সোশ্যাল মিডিয়াতে নানা রকম মন্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর আগে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের বিরুদ্ধে চক্রান্ত ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। এমনকি প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতির হাতে একটি চিঠিও দিয়ে এসেছিলেন। সূত্রের খবর, সেনাপ্রধান কে সরানোর চিঠি ছিল সেটি। যদিও দেশের তিন বাহিনীর প্রধান এবং রাষ্ট্রপতি সহযোগে সেই চক্রান্ত ঠেকিয়ে ফেলেছিল বলে দাবি বাংলাদেশের বহু গণমাধ্যমের। স্বাভাবিকভাবেই যখন ফের সেনাপ্রধান কে জড়িয়ে কোন রকম গুঞ্জন শোনা যায়, তখন সেটি মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয় তো বটেই। পাশাপাশি সেগুলি সত্যি ধরে নেন অনেকে। তবে নির্বাচন ইসুতে যে সরগরম রয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, সেটা মানছেন সে দেশের রাজনৈতিক মহল।












Discussion about this post