বিশেষ সংবাদদাতা : কথিত আছে, রোম যখন পুড়ছিলো, সম্রাট নিরো নাকি তখন বেহালা বাজাচ্ছিলেন।অর্থাৎ যখন আগুনে পুড়ে সব ধ্বংস হচ্ছে তখন তিনি বেহালা বাজিয়ে সেই ধ্বংসের মজা নিচ্ছেন। এই কহাবৎ কতটা সত্য জানা নেই। কিন্তু, আধুনিক বিশ্ব আর এক নিরোর সন্ধান পেয়েছে। তবে তিনি দেশ ধ্বংসের মজা নেন দেশের বাইরে গিয়ে, অর্থাৎ বিদেশ ভ্রমন করে। যদিও তিনি বলেন যে দেশের আয় বৃদ্ধির জন্য তিনি বিদেশ ভ্রমন করেন। কিন্তু দেশের মানুষ অশ্বডিম্ব ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না। ৫ই আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশ যখন বিক্ষোভ এর লেলিহান শিখায় জ্বলছে, তখন আধুনিক নিরো অর্থাৎ মহম্মদ ইউনূস একের পর এক বিদেশ ভ্রমণ করছেন। ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ থেকে চলতি বছরের ২৮ মে পর্যন্ত তিনি এই আট মাসে দশ বার বিদেশ সফর করেছেন। অথচ তিনি কোনও নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি ড: মোহাম্মদ ইউনুস। বাংলাদেশের উপদেষ্টা মন্ডলীর প্রধান। ২০২৪ এর ৫ অগাস্ট আওয়ামী লিগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা ইউনূস বাহীনির চক্রান্তে তুমুল ছাত্র বিক্ষোভে দেশ ত্যাগের পর, নোবেল জয়ী এই অর্থনীতিবিদ কে বিদেশ থেকে ডেকে এনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার পদে বসানো হয়।
গত বছর সেপ্টেম্বর এর ২৩ তারিখ থেকে তিনি বিদেশ ভ্রমণ শুরু করেছেন। একে একে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বাকু, কায়রো, দাভোস, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, হানান এবং চিন, ব্যাংকক, কাতারের দোহা, ভ্যাটিকান এবং সর্বশেষ জাপান পরিভ্রমণ করেছেন। এর মধ্যে এপ্রিলেই তিনি গেছেন ব্যাংকক, দোহা এবং ভ্যাটিকান। জাপানে ২৮ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত তিনি সফর করছেন, জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেরু ইসিবার সঙ্গে দুদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্যে। ইউনুসের এই বিদেশ সফরগুলি নিয়ে প্রশ্ন উঠত না, যদি না দেশ এবং দেশের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরিন অবস্থা সঙ্গীন না হত। দেশ জ্বলছে আর শেষ বয়সে তিনি সুন্দরী সহকারীদের নিয়ে বিদেশে গিয়ে মজা করছেন। এখনও পর্যন্ত দেশের জন্য বলার মত কিছুই আনতে পারেন নি। উল্টে নির্বাচিত না হয়েও নির্বাচিত সরকারের মত ব্যবহার করছেন, সমস্ত দল এমন কি তার প্রিয় ছাত্রনেতাদের দল এনসিপিও করিডর নিয়ে তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে।যখন তিনি লেজে গোবরে,ঠিক তখন তিনি নিজেকে বাঁচাতে পদত্যাগের নাটক শুরু করলেন, যদিও দেশের সাধারণ মানুষ এটিকে ব্ল্যাকমেলিং ছাড়া আর অন্য কিছু মনে করেন না। আওয়ামী লিগ এর কথা বাদ দিলাম, দেশের আরাজক অবস্থা নিয়ে পথে নেমেছে বি এন পি বা বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি এমনকি একদা ইউনুস এর বন্ধু দল জামাতও, তখন একদা বিদ্রোহী ছাত্র দলকে নিয়ে আলাদা পার্টি গড়ে এবং বিদ্রোহীদের মন্ত্রী পদে বসিয়ে, ইউনুস উত্তাল মাঝ সমুদ্রে ডুবতে থাকা বৈতরণী পার হওয়ার চেষ্টা করছেন।
তিনি একজন অর্থনীতিবিদ হয়ে বিলক্ষন জানেন, যে অভ্যন্তরীণ আয় বাড়াতে না পারলে এবং ব্যায় সংকোচ করতে না পারলে দেশের মুদ্রাস্ফীতি রোখা যাবেনা। অসটারিটির চূড়ান্ত অববস্থা ইউনুষের বিদেশ ভ্রমনে। যে দেশে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের বাজার অগ্নিমূল্য, সাধারণ মানুষ নাজেহাল, সেই দেশে এই বিদেশ ভ্রমণের বিলাসিতা কী সাজে! দেশের সেনাপ্রধান ঘোষণা করেছেন ডিসেম্বর এর মধ্যে জাতীয় নির্বাচন চাই, বি এন পি ও নির্বাচন চায় ডিসেম্বরেই।। আওয়ামী লিগ এবং জামাতও আশু নির্বাচন চায়। কিন্তু ইউনুস এবং তাঁর তাবেদার রাজনৈতিক দলগুলি জানাচ্ছে যে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ এর জুন মাসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কবে সাধারণ নির্বাচন হবে। ততদিন ইউনুস হয়তো তার আকাঙ্খার আরও কয়েকটি বিদেশী রাষ্ট্র ভ্রমণ করে নিতে পারবেন। মার্চ এর ২৬ থেকে ৩০ পর্যন্ত হ্যানন ও চিন সফরে সেভেন সিস্টার নিয়ে এবং সমুদ্রের ওপর কর্তৃত্ব নিয়ে চূড়ান্ত ভারত বিরোধিতার জিগির তোলা ছাড়া ইউনুস এই বিদেশ সফর থেকে কানাকড়িও ফয়দা তুলতে পেরেছেন, তা ইউনুস এর অতি বড় সমর্থকও বলতে পারবেন না। তাহলে কেন এই অযথা বিদেশ ভ্রমণ? ইউনুস খুব ভালোভাবেই জানেন যে তিনি ভোট এ জেতা কোনও রাষ্ট্র প্রধান নন, তিনি কেয়ারটেকার সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মাত্র। দেশে নির্বাচিত সরকার এলেই তাঁর প্রয়োজন ফুরাবে।
অবাধ বিদেশ ভ্রমণের স্বাধীনতা সহ ক্ষমতার অলিন্দে হাঁটা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই নির্বাচনকে যতোটা সম্ভব বিলম্বিত করার এই প্রয়াস। বাঘের পিঠে চেপেছেন ড:মোহাম্মদ ইউনুস এখন বাঘ না গা ঝাড়া দিয়ে তাঁকেই খেয়ে ফেলে!












Discussion about this post