ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক যে তলানিতে এসে পৌঁছেছে, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সম্প্রতি পর পর ঘটনা প্রবাহ দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যায়। তারমধ্যে সামনে এসেছে আরও একটি নতুন বিষয়। যেটাকে বাংলাদেশ বলছে পুশ ইন। ভারতে বসবাসকারী অবৈধ বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে নিজেদের দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে ভারত। অর্থাৎ অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ ভারতের। বিপাকে ইউনূসের দেশ। এদিকে ভারতের একশনে সেদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের গলায় নরম সুর।
অবৈধ বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে বাংলাদেশের পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধ হতে অসম সরকার। এ বিষয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বাস শর্মা জানিয়েছেন, তার রাজ্য বিদেশি ট্রাইবুনাল ঘোষিত বিদেশী ব্যক্তিদের আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে। গত ৪ঠা ফেব্রুয়ারির সুপ্রিম কোর্টের একটি আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এই কাজ শুরু হয়েছে। এদিকে তথ্য বলছে, অসম ছাড়া অনুপ্রবেশকারীদের স্বর্গরাজ্য হল পশ্চিমবঙ্গ। যদিও পশ্চিমবঙ্গ এ বিষয়ে কোনো তথ্য তালিকা প্রকাশ করেনি। ভারত এবং বাংলাদেশের আসাম রাজ্যে ২৬৬ কিলোমিটার যে বর্ডার এরিয়া রয়েছে, সেখান থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিতাড়িত করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আসাম সরকার। অর্থাৎ তাদের চিহ্নিত করে নিজেদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আসলে অসম সরকারের হাতে ৬৭ জন অবৈধ বাংলাদেশি ধরা পড়েন বলে খবর। তারপরই বিএসএফের সাহায্য নিয়ে ওপার বাংলায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। এর মধ্যে খবর রয়েছে, ৫৪ জন বাংলাদেশী নাগরিককে চিহ্নিত করে সেখানকার সরকার ফিরিয়ে নেন। কিন্তু বাকি ১৩ জনকে ফেরাতে নারাজ বাংলাদেশ। এদিকে তাদের বিএসএফ নোম্যান্সল্যান্ডে রেখে দেওয়া হয়েছে। আসলে ১৯৭১ সালে ২৪ মার্চের যারা এসেছেন, তাদের জায়গা দেওয়া হবে না। তারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত হবেন। এমনটাই আইনে বলা আছে। এতে বিপাকে পড়তেই সাংবাদিক সম্মেলন করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানান, বাংলাদেশ এ বিষয়ে অন্যভাবে সমাধানের চেষ্টা করতে চায়। ঠিক কি বলেছেন তিনি, শুনুন
বাইট
আসলে বাংলাদেশ অনুপ্রবেশকারী বলতে বোঝায়, বাংলাদেশ থেকে চলে আসা মুসলিমরা। নরেন্দ্র মোদি সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে দেশের নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়ে মুসলিমদের অধিকার রাখেননি। এই নিয়ে অবশ্য পার্লামেন্টে ঝড় উঠেছিল প্রবল ভাবে। বিরোধীরা বলেছিল, সংবিধানে ধর্মের কোনও ভেদাভেদ নেই। সেক্ষেত্রে তারা প্রশ্ন তুলেছিল, অন্য দেশ থেকে বিভিন্ন ধর্মের মানুষেরা ভারতে এসে যদি নাগরিকত্ব পায়, তাহলে মুসলিমরা পাবে না কেন? যদিও মোদি সরকারের বক্তব্য ছিল, হিন্দু মুসলিম দুটি পৃথক জাতি। এটা যারা ধর্মে ভিত্তিতে দেশকে ভাগ করতে চেয়েছিল তাদেরই বক্তব্য। এই দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশ ভাগ করেছিল মুসলিম লীগ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। তাহলে যারা নিজেদের জন্য আলাদা দেশ নিয়েছিল, তাহলে তারা সেই দেশ ছেড়ে কেন এ দেশে আসবে? অনেকে বলছেন, এর জেরে ভারতের যারা ভূমিপুত্র তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা মুখে পড়তে হচ্ছে। ফরেনার ট্রাইব্যুনালে বলা আছে, যারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী তাদের নিজেদের দেশে ফিরে যেতে হবে। যদি সেই সরকার মেনে না নেয়, তবে তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফিরিয়ে দিতে হবে। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সেকশন 6A অব দ্যা সিটিজেন্সি অ্যাক্ট, সেখানে ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ, এই আইনটির কথায় বলা রয়েছে। অর্থাৎ ভারত সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবৈধ বাংলাদেশিদের তাদের দেশে ফিরিয়ে দিচ্ছে। এখনও পর্যন্ত এই দেশে কুড়ি কোটি কোটি মুসলিম বসবাস করে। কিন্তু তারা সুরক্ষিত রয়েছেন এবং নিজেদের নাগরিকত্ব নিয়েই রয়েছেন। মূলত সমস্যা অনুপ্রবেশকারী অবৈধ বাংলাদেশিদের নিয়ে। আরো নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে, মুসলিম অনুপ্রবেশকারী সংখ্যায় অনেক বেশি। সংখ্যাটা 2 কোটির কম নয় বলে জানা যাচ্ছে। সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, এই অনুপ্রবেশকারীদের নিজেদের দেশে পাঠাবে। এজন্যই অসমে ট্রাইব্যুনাল বসেছে, বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করার জন্য। এবং এর মধ্য দিয়েই পুশ ইন করছে ভারত।












Discussion about this post